Views Bangladesh Logo

ঢাকাকে বাঁচাতে চাই বৃক্ষরোপণ অভিযান

গাছ ভালোবাসে না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া বিরল। ঢাকা মহানগরের আবাসিক এলাকা ঘুরলে বোঝা যায়, আমাদের দেশের মানুষের বৃক্ষপ্রীতি কত নিবিড়। সুউচ্চ অট্টালিকার বারান্দার টবে গাছ ঝুলছে। কেউ কেউ ছাদেও শখের বাগান করছেন। তাতেও কষ্ট কম নয়। দূর-দূরান্তর থেকে মাটি এনে ছাদে টেনে তোলা, তারপর গাছের পরিচর্যায় বিরাট ধকলই পোহাতে হয়। তারপর বৃক্ষপ্রেমীর অভাব নেই এই পোড়া শহরে।

কথা হচ্ছে টবের গাছে কি ঢাকাকে বাঁচানো যাবে? প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের ঢাকাবাসী যখন ছটফট করছে, তখন প্রথমেই মনে হচ্ছে গাছের কথা। গাছ বেশি থাকলে হয়তো এই মারাত্মক তাপদাহ থেকে বাঁচা যেত; কিন্তু গাছ কোথায়?

গত বুধবার (২৪ এপ্রিল) সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একটি গবেষণার তথ্য থেকে জানা গেছে, ঢাকায় গাছপালা থাকা উচিত ২০ শতাংশ, কিন্তু আছে মাত্র ২ শতাংশ। মূলত গাছপালা ও জলাভূমি দ্রুত কমার পাশাপাশি কংক্রিটের উঁচু ভবন ও অবকাঠামো বৃদ্ধির কারণে ঢাকার তাপমাত্রা বেড়েছে। সেইসঙ্গে বেড়েছে গরমের যন্ত্রণা। অপরিকল্পিত নগরায়ন এবং গাছপালা-মাঠ-পার্ক-জলাভূমি ধ্বংসের কারণে রাজধানী ঢাকা তপ্ত উনুনে পরিণত হয়েছে।

প্রশ্ন হচ্ছে, ঢাকার গাছপালা কমছে কেন? খাল, জলাশয় কমছে কেন? উত্তরটা কারোরই অজানা নয়। বিপুল জনসংখ্যার চাপ সামলাতে ঢাকার খোলা জায়গা সবই বিলুপ্ত হচ্ছে। ১০ কাঠা জায়গার ওপর যার বাড়ি, তিনিও গাছ লাগানোর জন্য দুই ফুট জায়গা ছাড়তে রাজি নন। অনেকে সরকারি রাস্তা দখল করে বাড়ির সীমানা-বর্ধিত করেন; কিন্তু গাছ লাগাবেন সেই মানসিকতা নেই। তাদের বৃক্ষপ্রীতি বারান্দা বা ছাদের টবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

শুধু যে সাধারণ জনগণের এই অবস্থা তা-ই নয়, বৃক্ষরোপণের ব্যাপারে সরকারও উদাসীন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেখা গেছে, সরকার বরং গাছ কাটার ব্যাপারে উৎসাহী। এমন কি সৌন্দর্য-বর্ধনের নামে নগরপিতারা গাছ কেটে বিভিন্ন ধরনের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। প্রাপ্ত তথ্যমতে, গাছপালা লাগানো ও সবুজায়নের বদলে ঢাকার নগর কর্তৃপক্ষদ্বয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা উন্নয়নের নামে গাছ কাটা ও গোটা শহরকে কংক্রিটে আচ্ছাদিত করার দিকেই বরং মনোযোগ বেশি। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন গত বছরের শুরুর দিকে সৌন্দর্যবর্ধনের নামে ধানমন্ডির সাতমসজিদ সড়কের বিভাজনে থাকা শতাধিক গাছ কেটে ফেলেছে। শুধু গাছ কাটাই নয়, নগর কর্তৃপক্ষগুলো যেন উঠেপড়ে লেগেছে বিদ্যমান পার্ক ও মাঠগুলোকে রেস্তোরাঁ, কফিশপ বিভিন্ন ধরনের বাণিজ্যিক স্থাপনা দিয়ে ভর্তি করে ফেলতে। আমরা দেখেছি, রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে হাঁটার পথ, খাবারের দোকানসহ নানান স্থাপনা তৈরির জন্য অন্তত দেড়শ বড় বড় গাছ কাটা হয়েছে।

সম্প্রতি এক গবেষণায় জানা গেছে, ঢাকার বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে পাঁচটি বিষাক্ত গ্যাস। বায়ুদূষণে ঢাকা বিশ্বের শীর্ষে রয়েছে। এসব থেকে কিছুতেই মুক্তি মিলবে না যদি ঢাকায় গাছের সংখ্যা বাড়ানো না হয়। আর এর জন্য ব্যক্তি-উদ্যোগে টবে শখের গাছ লাগিয়ে তেমন ফল হবে না। সরকারকে ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। সময় হয়েছে এই সিদ্ধান্ত নেয়ার, কোনো প্রয়োজনেই ঢাকার আর একটি বৃক্ষও কাটা যাবে না। বৃক্ষের চেয়ে উপকারী বন্ধু মানুষ ও প্রাণিকুলের জন্য আর কিছু নেই। মনে রাখতে হবে, ঢাকা শহরে একেকটি বৃক্ষ একেকটি প্রাণকেন্দ্র। তাই ঢাকাকে বাঁচাতে পারে বৃক্ষরোপণ অভিযান।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ