ভূমিকম্পের ৮ দিন পর ১৪০ টন ধ্বংসস্তূপ থেকে একজনকে জীবিত উদ্ধার
ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে ধসে পড়া একটি ভবনের ১৪০ টন ধ্বংসস্তূপের নিচে টানা আট দিন আটকে থাকার পর হার্নান অ্যালবার্টো গিল নামের এক ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
উদ্ধারকারীরা জানান, ধ্বংসস্তূপের নিচে গিলের অবস্থান শনাক্ত করার ১০০ ঘণ্টারও বেশি সময় পর অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও জটিল অভিযানের মাধ্যমে তাকে বাইরে নিয়ে আসা সম্ভব হয়।
উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া চিলির এক দমকলকর্মী বলেন, এটি তাঁর কর্মজীবনের সবচেয়ে জটিল এবং প্রযুক্তিগতভাবে কঠিন উদ্ধার অভিযানগুলোর একটি।
গত মাসে ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা জোড়া ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৩০০ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
শনিবার হার্নান গিলের অবস্থান শনাক্ত হওয়ার পর থেকেই শত শত উদ্ধারকর্মী দিন-রাত এক করে তাকে জীবিত উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যান। অভিযানে ভেনেজুয়েলা, চিলি, কোস্টারিকা, এল সালভাদর, মেক্সিকো, পর্তুগাল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষায়িত উদ্ধারকারী দল যৌথভাবে অংশ নেয়।
উদ্ধারকারীদের ভাষ্য, গিলের কাছে পৌঁছাতে ধ্বংসস্তূপে একাধিক প্রবেশপথ তৈরি করা হলেও সেগুলোর কিছু অংশ বারবার ধসে পড়ে। এতে উদ্ধারকর্মী এবং গিল—উভয়ের জীবনই ঝুঁকির মুখে পড়ে।
অবশেষে উদ্ধারকারী দল গিলের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করতে সক্ষম হয়। ধ্বংসস্তূপের ভেতরে প্রবেশ করানো একটি ছোট ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, চিলির এক দমকলকর্মী তাকে ক্যামেরার দিকে মাথা ঘোরানোর নির্দেশ দিচ্ছেন।
ভিডিওতে গিলের একটি চোখ রক্তবর্ণ দেখা যায় এবং তার মুখে একটি মাস্ক ছিল। উদ্ধারকাজ চলাকালে ধুলাবালি ও ধ্বংসাবশেষ থেকে সুরক্ষার জন্য একটি ছোট ছিদ্র দিয়ে আগেই তার কাছে ওই মাস্ক পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। পরে চোখ রক্ষার জন্য তাকে একটি গগলসও পরতে বলা হয়।
কোস্টারিকার রেড ক্রসের সদস্য রিকার্দো আরিয়াস স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, গিলের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। উদ্ধারকারীরা তার কাছে পানি পৌঁছে দিতে সক্ষম হন এবং তাকে একটি ইন্ট্রাভেনাস (আইভি) ড্রিপও দেওয়া হয়েছে।
আরিয়াস বলেন, ভবনটি ধসে পড়ার সময় গিল অলৌকিকভাবে এমন একটি স্থানে আটকা পড়েছিলেন, যেখানে ভারী ধ্বংসস্তূপ সরাসরি তার শরীরের ওপর চাপ সৃষ্টি করেনি। তাঁর ভাষায়, “গিল আমাদের বলেছেন, তার নখের ওপরও কোনো চাপ পড়েনি। তিনি ভালো আছেন।”
মতামত দিন