ভারতের হামলার আশঙ্কায় নিলম ভ্যালি ছাড়ছেন পর্যটকরা
উত্তর পাকিস্তানের নিলম ভ্যালি প্রতি গ্রীষ্মে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে আসা প্রায় ৩ লাখ পর্যটকে ভরে যায়। কিন্তু ভারতের সঙ্গে যুদ্ধের আশঙ্কায় এবার সেই উপত্যকার হোটেলগুলো ফাঁকা হয়ে গেছে।
গত সপ্তাহে ভারতের পহেলগাঁও পর্যটনকেন্দ্রে বন্দুকধারীদের হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর দুই পরমাণু শক্তিধর দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। ভারত এ হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ি করলেও পাকিস্তান তা অস্বীকার করেছে।
নিলম ভ্যালি নিয়ন্ত্রণ রেখা (লাইন অব কন্ট্রোল) থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। যে কারণে যেকোনো সামরিক কার্যক্রমের জন্য এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
হোটেল মালিক রফাকত হুসেইন বৃহস্পতিবার এপিকে বলেন, ‘এই সংকটে পর্যটনশিল্প চরম ক্ষতির মুখে রয়েছে। অধিকাংশ পর্যটক যুদ্ধের শঙ্কায় ফিরে গেছে।’
ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে ওই হামলার পর সতর্কতামূলকভাবে অস্থায়ীভাবে বেশ কিছু পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তবে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এখনো এমন কোনো নির্দেশনা আসেনি। যদিও সীমান্তবর্তী পাকিস্তানি শহর চকোথির বাজারগুলো খোলা থাকলেও মানুষের মধ্যে উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
চকোথিরের ব্যবসায়ী বশির মুগল এপিকে বলেন, ‘আমাদের প্রথম চাওয়া শান্তি। কারণ যুদ্ধের কষ্ট সাধারণ মানুষকেই প্রথমে ভোগ করতে হয়। তবে যুদ্ধ হলে তিনি সেনাবাহিনীর সঙ্গে লড়াই করবেন বলেও জানান।
পাকিস্তান একসময় সীমান্তে গোলাগুলির সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের বাড়ির কাছে বাংকার তৈরি করে দিত। কিন্তু এখন জনসংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় অনেক বাড়িতেই আর আশ্রয়কেন্দ্র নেই। মুগল আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘যুদ্ধ হলে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটতে পারে।’
চকোথিরের বাসিন্দা সায়কা নাসির ছোটবেলায় সীমান্তের ওপার থেকে গোলাগুলির স্মৃতি মনে করে ভয়ে কেঁপে ওঠেন। তিনি বলেন, ‘এখন মা হয়েও সেই পুরনো ভয়ের মুখোমুখি হচ্ছি।’
২০১৯ সালে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির সময়ও ভারতীয় গোলাবারুদ এই শান্তিপূর্ণ উপত্যকায় এসে পড়েছিল। সায়কার বাড়িতে এখন একটি বাংকার আছে। তিনি বলেন, ‘যুদ্ধ এলে আমরা এখানেই থাকব, পালাব না।’

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে