ঈদকে ঘিরে আশার আলো দেখছেন কক্সবাজারের পর্যটন ব্যবসায়ীরা
রমাজান এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে টানা কয়েক মাস আলোর মুখ দেখতে পারেনি কক্সবাজারের পর্যটন ব্যবসায়ীরা। তবে এই আর্থিক মন্দা কাটিয়ে ঈদের দিন থেকে শতভাগ ব্যবসা করতে পারবে বলে আশা করছেন এই জেলার পর্যটন ব্যবসায়ীরা।
রমজানের আগের কয়েক মাসও কক্সবাজারে তেমন পর্যটকের ভীড় দেখা যায়নি। তার কারণ হিসেবে হোটেল ব্যবসায়ীরা বলেন, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং অর্থনৈতিক সংকটে থাকায় মানুষ ভ্রমণ বিমুখ ছিলেন। তবে ঈদের পরদিন থেকে কক্সবাজার আবার পর্যটকে মুখরিত হবে।
তারকামানের হোটেল কক্স টুডে কর্মকর্তা আবু তালেব বলেন, এবার টানা নয়দিন সরকারি ছুটি পাওয়ায় ভ্রমনপিপাসুরা কক্সবাজারে ছুটে আসবেন। এই কয়দিন শতভাগ হোটেল বুকিং আছে।
তিনি আরও বলেন, লাখো পর্যটককে বরণ করে নিতে প্রস্তুত কক্সবাজার। হোটেলের শতভাগ বুকিংও নিশ্চিত।
শুধু তারকামানের নয় সাধারণ হোটেলগুলোতেও শতভাগ বুকিং আছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
এ প্রসঙ্গে চেম্বার অব কমার্সের চেয়ারম্যান আবু মোরশেদ চৌধুরী বলেন, শুধু ব্যবসায়ী নয় অর্থনৈতিক এই বৃত্ত হোটেল, রেস্টুরেন্ট, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং অটো চালকসহ পর্যটন বা পর্যটক সংশ্লিষ্ট সব কিছুতেই প্রভাব রাখে।
তিনি আরও বলেন, প্রতি মৌসুমে কক্সবাজার পর্যটন খাঁত থেকে শত কোটি টাকা আয় করে এবং সরকারও তার রাজস্ব পায়। তবে নির্দিষ্ট হিসাব না থাকায় মৌসুম বা মন্দা চলাকালীন আয়-ব্যয়ের হিসেব কেউ দিতে পারে না। তারপরেও অনুমান করে বলা যায়, টানা ছুটিতে শত কোটি টাকা আয়ের আশা করা যায়।
পর্যটন সংশ্লিষ্টরা জানান, কক্সবাজারে প্রায় চার শতাধিকের বেশি হোটেল, মোটেল এবং হাজার খানেক রেস্টুরেন্ট রয়েছে। যেখানে প্রতিদিন প্রায় লাখের উপর পর্যটক অবস্থান করতে পারবে।
এদিকে ঈদের ছুটি চলাকালীন নারী পর্যটক এবং কক্সবাজার শহরে নারীদের নিরাপত্তা দেয়ার জন্য বিশেষ টহল জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন।
অন্যদিকে টুরিস্ট পুলিশও সমুদ্র সৈকতে তাঁদের টহল জোরদার করেছে। ঈদকে সামনে রেখে তিন ভাগে নিরপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে এই বাহিনী।
এ বিষয়ে টুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজারের পুলিশ সুপার নহাদ আদনান তাইয়ান জানিয়েছেন, কক্সবাজারের সৈকতের লাবনী, সুগন্ধা এবং কলাতলী টুরিস্ট পুলিশের নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা থাকবে। এ ছাড়াও পর্যটকরা যাতে রাতে নিরাপদে সৈকতে থাকতে পাড়েন তার জন্য রাতে ও দিনে টিম করে টহল দেবে টুরিস্ট পুলিশ।
পুলিশের পাশাপাশি পর্যটকদের হয়রানি এবং তাদের সার্বিক নিরাপত্তায় মোবাইল কোর্ট মাঠে থাকবে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন।
জেলা প্রশাসক আরও জানান, মোবাইল কোর্টের সঙ্গে পুলিস, র্যাব এবং বিজিবিও মাঠে থাকবে।
মতামত দিন