Views Bangladesh Logo

পাশাপাশি থেকেও দূরে? দাম্পত্যে স্মার্টফোন যে কারণে হয়ে উঠতে পারে অদৃশ্য দেয়াল

 VB  Desk

ভিবি ডেস্ক

স্মার্টফোন ও প্রযুক্তি মানুষের যোগাযোগব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। কয়েক সেকেন্ডেই দূরের মানুষকে কাছে পাওয়া যাচ্ছে। অথচ সেই একই প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহার অনেক সময় পাশে থাকা প্রিয় মানুষটির সঙ্গেই তৈরি করছে দূরত্ব। বিশেষ করে দাম্পত্য সম্পর্কে দীর্ঘ সময় ফোনে ব্যস্ত থাকার অভ্যাস ধীরে ধীরে কমিয়ে দিতে পারে পারস্পরিক যোগাযোগ ও মানসিক ঘনিষ্ঠতা।

দিন শেষে ঘরে ফিরে সঙ্গীর সঙ্গে কথা বলা কিংবা সারাদিনের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করার পরিবর্তে যদি কেউ ফোনের পর্দায় ডুবে যান, তাহলে সম্পর্কের স্বাভাবিক যোগাযোগ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। দিনের ছোটখাটো ঘটনা, অনুভূতি কিংবা একসঙ্গে হাসি-আড্ডার মতো সাধারণ মুহূর্তগুলোই দাম্পত্যের বন্ধন দৃঢ় করে। এসব সময় নিয়মিত কমতে থাকলে তৈরি হতে পারে মানসিক দূরত্ব।

সঙ্গী যখন গুরুত্বপূর্ণ কোনো কথা বলছেন, নিজের আনন্দ বা কষ্টের কথা শেয়ার করছেন, তখন অন্যজন যদি ফোনে মনোযোগ ধরে রাখেন, সেটি সহজেই অবহেলার অনুভূতি তৈরি করতে পারে। শুরুতে বিষয়টি সামান্য বিরক্তি বা অভিমান হিসেবে দেখা দিলেও একই পরিস্থিতি বারবার ঘটলে তা সম্পর্কের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভের জন্ম দিতে পারে।

শুধু কথোপকথন নয়, দাম্পত্যে পাশাপাশি নীরবে সময় কাটানোরও আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। কিন্তু অবসর পেলেই নোটিফিকেশন দেখা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢুকে পড়া কিংবা ভিডিও দেখার অভ্যাস থাকলে সেই স্বাভাবিক সময়টুকুও নষ্ট হয়। একই ঘরে থেকেও তখন দুজন মানুষ নিজেদের আলাদা ডিজিটাল জগতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। ফলে সঙ্গীর উপস্থিতি উপভোগ করার সুযোগ ক্রমেই কমে যায়।

স্বামী বা স্ত্রীর কাছ থেকে যদি নিয়মিত ‘সব সময় ফোন নিয়েই থাকো’ ধরনের অভিযোগ আসতে থাকে, তাহলে বিষয়টিকে শুধু ফোন ব্যবহারের অভ্যাস হিসেবে দেখলে চলবে না। এর পেছনে থাকতে পারে পর্যাপ্ত মনোযোগ না পাওয়া কিংবা সঙ্গীর কাছে নিজের গুরুত্ব কমে যাওয়ার অনুভূতি। ধীরে ধীরে ফোনটিই তখন দাম্পত্যের জমে থাকা অভিমান, অভিযোগ ও হতাশার প্রতীক হয়ে উঠতে পারে।

আরেকটি বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মানুষের সামনে অন্যদের জীবনের অসংখ্য তথ্য তুলে ধরে। কে কোথায় ঘুরতে গেলেন, কী করলেন কিংবা কী পোস্ট করলেন, তা সহজেই জানা যায়। কিন্তু নিজের জীবনসঙ্গী কী ভাবছেন, কী নিয়ে উদ্বিগ্ন, কোন বিষয় তাকে আনন্দ দিচ্ছে কিংবা ভবিষ্যৎ নিয়ে তার প্রত্যাশা কী, সেগুলো যদি অজানা থেকে যায়, তাহলে সেটি সম্পর্কের জন্য সতর্কবার্তা হতে পারে।

তাই দাম্পত্যে প্রযুক্তি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন এর ব্যবহার নিয়ে সচেতন হওয়া। খাবারের সময়, ঘুমের আগে কিংবা দুজন একসঙ্গে গল্প করার সময়ে ফোন দূরে রাখার অভ্যাস করা যেতে পারে। প্রতিদিন কিছুটা সময় শুধু পরস্পরের জন্য রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একটি সম্পর্কের গভীরতা তৈরি হয় বড় কোনো আয়োজনের চেয়ে নিয়মিত কথোপকথন, মনোযোগ এবং একসঙ্গে কাটানো ছোট ছোট মুহূর্ত থেকেই।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ