তোফাজ্জল হত্যা: আত্মসমর্পণের আবেদন করে পালালেন আসামি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে চোর সন্দেহে মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক তোফাজ্জল হোসেনকে পিটিয়ে হত্যা মামলায় আত্মসমর্পণের আবেদন জমা দিয়ে আদালত থেকে পালিয়েছেন এক আসামি।
মামলার আসামি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের শিক্ষার্থী রাশেদ কামাল অনিকের আইনজীবী রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে আত্মসমর্পণ ও জামিনের আবেদন জমা দেন। তবে শুনানির সময় আদালত থেকে ডাকলেও আইনজীবী ও আসামি—কাউকেই পাওয়া যায়নি।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই জিন্নাত আলী জানান, আত্মসমর্পণের পাশাপাশি অনিকের জামিন আবেদন জমা পড়েছিল। কিন্তু শুনানির সময় আসামি বা তার আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।
এর আগে মঙ্গলবার আদালত মামলায় ২৮ আসামির বিরুদ্ধে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন–এর দাখিল করা অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন।
মামলার আসামিরা হলেন—জালাল মিয়া, আহসান উল্লাহ ওরফে বিপুল শেখ, আল হোসাইন সাজ্জাদ, মোত্তাকিন সাকিন শাহ, সুমন মিয়া, ওয়াজিবুল আলম, ফিরোজ কবির, আব্দুস সামাদ, সাকিব রায়হান, ইয়াছিন আলী, ইয়ামুজ্জামান ওরফে ইয়াম, ফজলে রাব্বি, শাহরিয়ার কবির শোভন, মেহেদী হাসান ইমরান, রাতুল হাসান, সুলতান মিয়া, নাসির উদ্দিন, মোবাশ্বের বিল্লাহ, শিশির আহমেদ, মহসিন উদ্দিন ওরফে শাফি, আব্দুল্লাহিল কাফী, শেখ রমজান আলী রকি, রাশেদ কামাল অনিক, মনিরুজ্জামান সোহাগ, আবু রায়হান, রেদোয়ানুর রহমান পারভেজ, রাব্বিকুল রিয়াদ ও আশরাফ আলী মুন্সী।
তাদের মধ্যে আহসান উল্লাহ ওরফে বিপুল শেখ ও ওয়াজিবুল আলম জামিনে রয়েছেন। জালাল মিয়া, আল হোসেন সাজ্জাদ, মোত্তাকিন সাকিন শাহ ও সুমন মিয়া কারাগারে আছেন। অন্য ২২ আসামি পলাতক।
২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলের অতিথি কক্ষে ৩২ বছর বয়সী তোফাজ্জল হোসেনকে নির্যাতন করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, তাকে মারধরের আগে ভাত খাওয়ানো হয় এবং তখন তাকে জিজ্ঞাসা করা হয় খাবার কেমন লাগছে।
পরে রাত ১২টার দিকে কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে