Views Bangladesh Logo

অর্থবছরের প্রথম  প্রান্তিকে ৮০০০ কোটি টাকা রাজস্ব ঘাটতি

রাজস্ব আদায়ের নানা কৌশল অবলম্বন করেও থামছে না রাজস্ব ঘাটতি। চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রতিটি মাসেই বাড়ছে লক্ষ্যমাত্রা ও আদায়ের ব্যবধান। জুলাই-আগস্টের ধারাবাহিকতায় সেপ্টেম্বরেও পাল্লা দিয়ে বেড়েছে রাজস্ব ঘাটতি। চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ১৯৬ দশমিক ৬৩ কোটি টাকা।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। তথ্য বলছে, মোট ঘাটতির সবচেয়ে বড় অংশ আয়কর খাতে। এ খাতে কম আদায় হয়েছে ৩ হাজার ৫২৬ দশমিক ৮৫ কোটি টাকা। আমদানি ও রপ্তানি পর্যায়ে রাজস্ব ঘাটতির পরিমাণ ২ হাজার ৫১৪ দশমিক ১০ কোটি টাকা। একই সময়ে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাটে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১৫৪ দশমিক ৬৮ কোটি টাকা।

অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, সামনে নির্বাচন ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় পুরো অর্থবছর জুড়েই থাকবে সংকট এবং লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা কঠিন হবে। বছর শেষে এই খাতে বড় ঘাটতি তৈরি হলে প্রভাব পড়বে বাজেটের অন্যান্য খাতে। বিশেষ করে নতুন শিল্প-কারখানায় বিনিয়োগ ও উৎপাদন কমে যাবে, ব্যবসা-বাণিজ্যে ধীর গতি তৈরি হবে। ফলে রাজস্ব আদায় চাপের মুখে পড়বে।

আয়কর খাতে চলতি অর্থবছরে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ লক্ষ্য ছিল ২৭ হাজার ১৬৮ কোটি টাকা। এ সময় পর্যন্ত রাজস্ব আদায় হয়েছে ২৩ হাজার ৬৪১ দশমিক ১৫ কোটি টাকা। একই সময় পর্যন্ত স্থানীয় পর্যায়ে ভ্যাট আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩১ হাজার ১৩৬ দশমিক ৯৩ কোটি টাকা। যা বিপরীতে আদায় হয়েছে ২৮ হাজার ৯৮২ দশমিক ২৫ কোটি টাকা। একই সময় পর্যন্ত আমদানি ও রপ্তানি পর্যায়ে ২৬ হাজার ৬৪২ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ২৪ হাজার ১২৭ দশমিক ৯০ কোটি টাকা। রাজস্ব আদায় কমে যাওয়ার পেছনে কয়েকটি কারণকে দায়ী করছেন অর্থনীতিবিদরা। এর মধ্যে রাজস্ব আদায়ের গতানুগতিক কৌশল, অটোমেশনের অভাব, নতুন আয়কর আইন বোঝার সমস্যা, ডলার সংকটের কারণে আমদানি নীতিতে কড়াকড়ি, ডলারের বিনিময় মূল্য বেড়ে যাওয়া, ঋণপত্র খুলতে না পারা, আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং বিলাসী দ্রব্যের আমদানি কমে যাওয়ার কারণে আমদানি কমে গেছে। এই কারণে আমদানি খাত থেকে শুল্ক-কর আদায়ের পরিমাণও কমেছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর ভিউজ বাংলাদেশকে বলেন, চলতি অর্থবছর শুরুর আগে থেকেই ডলার সংকট ছিল। ফলে সরকার অর্থবছরের শুরু থেকেই আমদানিকে নিরুৎসাহিত করার একটা চেষ্টা করেছে। সেজন্য এলসি খোলার ক্ষেত্রে নানারকম কড়াকড়ি এসেছে, সেটেলমেন্টও কমেছে। ফলে আমদানি ঋণাত্মক হয়ে যাওয়ায় এই খাত থেকে শুল্ক আদায়ও কমে গেছে। তবে ভ্যাট ও আয়কর আদায়ে এনবিআরের আরও ভালো করার সুযোগ ছিল বলে মনে করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, রাজস্ব আদায় সন্তোষজনক না হলে সরকার অভ্যন্তরীণ ঋণ নিতে বাধ্য হয়। ফলে বেসরকারি খাত সেভাবে ঋণ পায় না। শিল্প প্রতিষ্ঠান এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও এটা একটা বড় অন্তরায় বলে মনে করেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনবিআরের একাধিক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ভিউজ বাংলাদেশকে বলেন, নতুন আয়কর আইন প্রণয়ন হওয়ায় অনেকেই এখনও ঠিক বুঝে উঠতে পারছেন না। এ সমস্যা সামনে কেটে যাবে। তখন এই খাতের আদায় বাড়বে। অন্যদিকে ডলার সংকটের জেরে এলসি খোলার হার কমেছে, আমদানি কমেছে। শুল্ক আদায় কমার পেছনে এনবিআরের কোনো হাত নেই। তবে প্রতিটি অর্থবছরে এনবিআরের কি পরিমাণ রাজস্ব আদায়ের সক্ষমতা আছে, তা বিবেচনা না করেই অর্থ মন্ত্রণালয় একটি লক্ষ্য ঠিক করে দেয়-এটা পরিবর্তন দরকার বলে মনে করেন তারা।

উল্লেখ্য, চলতি অর্থবছরে এনবিআরের কাঁধে ৪ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল। যদিও সে সময় অর্থনীতিবিদরা এ লক্ষ্যমাত্রাকে অস্বাভাবিক বলে মন্তব্য করেছিলেন। বর্তমান সময়ের বাস্তবতায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জনকে অসম্ভব বলেই মত তাদের। অবশ্য এনবিআর কর্মকর্তারা আশা করেন, অর্থবছর শেষে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে না পারলেও অনেকটা কাছাকাছি যাওয়া সম্ভব।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ