স্পেনের সেউতায় বাংলাদেশিসহ হাজারো অভিবাসী আটকা, আশ্রয় ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা
স্পেনের উত্তর আফ্রিকান স্বায়ত্তশাসিত শহর সেউতায় বাংলাদেশিসহ কয়েক হাজার অভিবাসী আটকা পড়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে সেখানে প্রায় ৫ হাজার থেকে ৮ হাজার অভিবাসী অবস্থান করছেন। তাদের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা, সাব-সাহারান আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন।
গত ২৯ ও ৩০ জুলাই মরক্কো থেকে সেউতায় ব্যাপক অভিবাসন প্রবাহের পর দুই সপ্তাহের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও আটকে পড়া এসব মানুষের ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত। ওই সময় ৭২ হাজারের বেশি মানুষ সাময়িকভাবে সেউতায় প্রবেশ করেছিলেন। পরে তাদের বড় অংশ স্বেচ্ছায় মরক্কোয় ফিরে গেলেও কয়েক হাজার মানুষ সেউতায় রয়ে যান। স্পেন ও মরক্কোর তথ্য অনুযায়ী, ওই প্রবেশের ঘটনায় অন্তত ৯৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বর্তমানে সেউতায় অবস্থানকারীদের মধ্যে ইরাক, সিরিয়া, ৃইয়েমেন, ফিলিস্তিন, মিসর, আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, মরক্কো, সুদান, নাইজেরিয়া, সেনেগাল, বাংলাদেশ ও ভারতের নাগরিক রয়েছেন। অনেকে শহরের এল ত্রাম্পোলিন সৈকতে খড়, কাপড় ও কার্ডবোর্ডসহ হাতের কাছে পাওয়া সামগ্রী দিয়ে অস্থায়ী আশ্রয় তৈরি করেছেন। খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটের পাশাপাশি খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে হচ্ছে তাদের।
আটকে পড়া অভিবাসীদের কয়েকজন জানিয়েছেন, ইউরোপে নিরাপদ জীবন ও উন্নত ভবিষ্যতের আশায় দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ পথ পাড়ি দিয়ে তারা সেউতায় পৌঁছেছেন। কেউ মরক্কো হয়ে সীমান্ত পেরিয়েছেন, আবার কেউ সাগরপথে সেউতায় প্রবেশ করেছেন। তাদের অনেকে স্পেনে আশ্রয়ের আবেদন করে বৈধভাবে থাকার সুযোগ চান। বিশেষ করে যুদ্ধ ও সংঘাতপূর্ণ দেশ থেকে আসা ব্যক্তিরা নিজেদের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আশ্রয়ের আবেদন গ্রহণের প্রত্যাশা করছেন।
এদিকে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতিতে সেউতার স্বাস্থ্য ও আশ্রয়ব্যবস্থার ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে। স্পেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনিকা গার্সিয়ার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক ১৫ দিনে প্রায় ৫ হাজার ৮০০ অভিবাসী চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন। এ সময়ে জরুরি চিকিৎসার চাপ প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। এখনো ২৮ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অন্যদিকে নিজেদের আইনি অবস্থান স্পষ্ট করা এবং আশ্রয়ের আবেদন করার সুযোগের দাবিতে রোববার সেউতায় শত শত অভিবাসী বিক্ষোভ করেছেন। স্পেনের আইন অনুযায়ী, কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে আশ্রয়ের আবেদন করলে সেই আবেদনের সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত তাকে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া স্থগিত থাকে। তবে আবেদন করলেই আশ্রয় নিশ্চিত হয় না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেউতায় আরও ৫০০-এর বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করেছে স্পেন। ফলে সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর মোট সদস্য সংখ্যা ১ হাজার ৬০০ ছাড়িয়েছে। একই সঙ্গে নতুন করে অভিবাসন প্রবাহ ঠেকাতে মরক্কোও সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে।
মতামত দিন