Views Bangladesh Logo

ফিলিস্তিনির জন্য যার মন কাঁদে না, তিনি মানুষ নন: মিসর কোচ

Sports Desk

ক্রীড়া ডেস্ক

বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়াকে টাইব্রেকারে হারিয়ে ঐতিহাসিকভাবে শেষ ষোলোতে ওঠা মিসরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান ফিলিস্তিনের প্রতি নিজের সমর্থনের কথা আবারও স্পষ্ট করেছেন। দলের জয় ফিলিস্তিনি জনগণকে উৎসর্গ করা এবং বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসরে ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়ানোর কয়েক দিনের মাথায় সোমবার সংবাদ সম্মেলনে গাজা ইস্যুতে আবারও সরব হন তিনি।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচ নিয়ে প্রশ্নোত্তরের মধ্যেই প্রসঙ্গ বদলে ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে চার মিনিটেরও বেশি সময় ধরে আবেগঘন বক্তব্য দেন হোসাম হাসান। বক্তব্য শেষে উপস্থিত বহু সাংবাদিক করতালি দিয়ে তাকে অভিবাদন জানান।

হোসাম হাসান বলেন, ‘পৃথিবীতে যদি এমন কেউ থাকেন, যিনি ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য সহানুভূতি অনুভব করেন না, যার মন কাঁদে না—তিনি মানুষ নন। তিনি আরব, ইউরোপীয় কিংবা আমেরিকান যেই হোন না কেন।’

ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে ‘যুদ্ধবিরতি’ চললেও গাজাজুড়ে ইসরায়েলি হামলায় ফিলিস্তিনিদের প্রাণহানি থামেনি। ৭ অক্টোবর শুরু হওয়া ইসরায়েলের গণহত্যামূলক যুদ্ধে গাজায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৭৩ হাজার ৬৬ জন নিহত হয়েছেন; নিহতদের মধ্যে শিশুই অন্তত ২০ হাজার ১৭৯ জন। এ ছাড়া অনাহারে মারা গেছেন অন্তত ৪৬৩ জন, যাদের মধ্যে ১৫৭ জন শিশু। গাজার ২০ লাখেরও বেশি ফিলিস্তিনি—যাদের অধিকাংশই বাস্তুচ্যুত এবং ধ্বংসস্তূপের মধ্যে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন—এখনো চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে আছেন।

শুক্রবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টাইব্রেকারে জয়ের পর কেন ফিলিস্তিনের পতাকা উড়িয়েছিলেন—এমন প্রশ্নের জবাবে হাসান বলেন, এটি ছিল ‘কেবলমাত্র একজন মানুষের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া।’ তিনি বলেন, ‘পৃথিবীর যেকোনো জায়গায়, এমনকি ইউরোপ বা আমেরিকাতেও, যদি কেউ একটি প্রাণীকেও আঘাত করে, তাহলে আমরা দেখি প্রাণীর অধিকারের পক্ষে সবাই দাঁড়ায় এবং পুরো বিশ্ব প্রতিক্রিয়া জানায়। অথচ এখন এমনটা যেন স্বাভাবিক হয়ে গেছে যে, একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একদিনেই দুই বা তিন হাজার মানুষ মারা যায়।’

গাজায় চলমান এই গণহত্যার প্রতিবাদে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ হয়েছে। স্পেনের তারকা ফুটবলার লামিন ইয়ামালসহ বিভিন্ন দেশের ক্রীড়াবিদও প্রকাশ্যে ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে লিওনেল মেসি ও বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মিসরের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলেও হোসাম হাসান মানবিক বিষয়টিকেই বেশি গুরুত্ব দেন।

তিনি বলেন, ‘ধর্ম নির্বিশেষে...আমি আরব হওয়ার আগে একজন মানুষ। ফুটবলের মাধ্যমে আমার বার্তা হলো, দয়া করে, ফিফার স্লোগানে যেমন পারস্পরিক সম্মানের কথা বলা হয়, ঠিক তেমনি মানুষের বেঁচে থাকার অধিকারকেও সম্মান করা হোক।’

এদিকে মঙ্গলবার আর্জেন্টিনাকে হারাতে পারলে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠবে মিসর। ম্যাচটি নিয়ে আত্মবিশ্বাসী হাসান বলেন, ‘আমার স্বপ্নের কোনো সীমা নেই। আমার উচ্চাকাঙ্ক্ষারও কোনো সীমা নেই। আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, সমর্থকদের প্রত্যাশা পূরণ করতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। আমরা কোনোভাবেই আন্ডারডগ নই। প্রতিটি দিক থেকেই আমরা বড়। আমরা সাত হাজার বছরেরও বেশি পুরোনো এক সভ্যতার প্রতিনিধিত্ব করি।’

মঙ্গলবারের ম্যাচে আর্জেন্টিনাই যে ফেভারিট, তা অবশ্য স্বীকার করে নিয়েছেন মিসর কোচ। তবে তাতে দলের আত্মবিশ্বাসে ঘাটতি নেই বলেই জানালেন তিনি, ‘আমরা জানি, আমরা বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন এবং ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় লিওনেল মেসির দলের বিপক্ষে খেলতে নামছি। কিন্তু আমরা তাদের ভয় পাই না।’

হাসান আরও বলেন, ‘এই দায়িত্ব আমাদের নিজেদের এবং মাঠে আমরা কী করতে পারি, সেদিকেই মনোযোগী থাকতে সাহায্য করে।’ সবশেষে মিসর কোচের ঘোষণা, ‘মিসর, সমগ্র আরব বিশ্ব এবং আফ্রিকার প্রতি আমাদের একটি দায়িত্ব রয়েছে। আমরা তাঁদের সবার প্রতিনিধিত্ব করছি।’


মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ