এমবাপের গোলের আগে হ্যান্ডবল ছিল, দাবি মরক্কো কোচের
ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্সের কাছে ২-০ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছে মরক্কো। তবে ফরাসি ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপের করা প্রথম গোলটি নিয়ে রেফারি ও ভিএআরের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মরক্কোর কোচ মোহাম্মদ ওয়াহবি। তার দাবি, গোলটি হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে হ্যান্ডবলের ঘটনা ঘটেছিল, যা রেফারির এড়িয়ে যাওয়া উচিত হয়নি।
এই পরাজয়ের মধ্য দিয়ে মরক্কোর এবারের বিশ্বকাপ মিশন শেষ হলো কোয়ার্টার ফাইনালেই। এর আগেও ২০২২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালেও ফ্রান্সের কাছে ২-০ ব্যবধানেই হেরেছিল মরক্কো। এবারও ম্যাচের ৬০তম মিনিটে ডেডলক ভেঙে ফ্রান্সকে এগিয়ে নেন এমবাপে। এর আগে পেনাল্টি মিস করলেও পুরো ম্যাচেই ফরাসিদের আধিপত্য ছিল স্পষ্ট।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে মরক্কোর কোচ মোহাম্মদ ওয়াহবি বলেন, গোলটি হওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তে ফরাসি মিডফিল্ডার আদ্রিয়েন রাবিওতের হাতে বল লেগেছিল। ওই সময় হ্যান্ডবলের আবেদন জানিয়ে তাদের বেশ কয়েকজন ফুটবলার খেলা থামিয়ে দিয়েছিলেন।
তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, ‘সেখানে স্পষ্ট হ্যান্ডবল হয়েছিল এবং আমাদের খেলোয়াড়রা সেজন্য থেমে গিয়েছিল। আমি নিশ্চিত যে ওটা হ্যান্ডবলই ছিল।’
তবে এ ঘটনায় ম্যাচ অফিশিয়াল বা রেফারিদের সরাসরি আক্রমণ করে কোনো মন্তব্য করেননি মরক্কোর কোচ। তিনি জানান, ঘটনাটি ফাউল ছিল কি না বা বাঁশি বাজানোর মতো কি না তা নিয়ে তিনি পুরোপুরি নিশ্চিত নন, তবে বিতর্কিত ওই ঘটনার ঠিক পরপরই গোলটি হয়েছে।
অন্যদিকে মাঠের রেফারিদের সিদ্ধান্তকেই সঠিক বলে সমর্থন করেছেন ম্যাচ রেফারি অ্যানালিস্ট হুয়ান গুজম্যান। তার মতে, বলের সঙ্গে হাতের ওই স্পর্শটি ছিল সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত এবং গোল হওয়ার ক্ষেত্রে এর কোনো সরাসরি প্রভাব ছিল না। এছাড়া বলটি যখন রাবিওতের হাতে লাগে, তখন বলের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ফ্রান্সের কাছে ছিল না।
এই বিতর্ক সত্ত্বেও ফ্রান্স যে মাঠের খেলায় সেরা ছিল, তা মেনে নিয়েছেন ওয়াহবি। বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের আক্রমণাত্মক ফুটবল ও সুযোগ তৈরির প্রশংসা করার পাশাপাশি তিনি স্বীকার করেন যে, বল দখলে এগিয়ে থাকলেও মরক্কো সেটিকে গোলের সুযোগে রূপান্তর করতে ব্যর্থ হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি নিজের ফুটবলারদের লড়াইয়ের প্রশংসা করে বলেন, তারা মাঠে নিজেদের উজাড় করে দিয়েছে এবং টুর্নেস্পট থেকে মাথা উঁচু করেই বিদায় নিচ্ছে।
মতামত দিন