বরেণ্য নাট্যব্যক্তিত্ব আতাউর রহমান আর নেই
বাংলাদেশের নাট্যাঙ্গনের কিংবদন্তি, স্বাধীনতা ও একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রথিতযশা অভিনেতা ও নির্দেশক আতাউর রহমান মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। সোমবার রাত ১২টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। বরেণ্য এই শিল্পীর প্রয়াণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অভিনেতা রওনক হাসান এবং অভিনয়শিল্পী সংঘের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু।
আতাউর রহমানের প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করে অভিনেতা রওনক হাসান বলেন, ‘না ফেরার দেশে চলে গেলেন স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, মঞ্চের প্রেরণাদায়ী সারথি আতাউর রহমান। আমরা তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করছি।’
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যার পাশাপাশি গত শুক্রবার নিজ বাসায় পড়ে গিয়ে গুরুতর আঘাত পান আতাউর রহমান। এরপর থেকে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। তার মেয়ে শর্মিষ্ঠা রহমান জানান, বাসায় পড়ে যাওয়ার পর তাকে প্রথমে গুলশানের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেখানে তাৎক্ষণিকভাবে আইসিইউ সুবিধা না পাওয়ায় পরে তাকে ধানমন্ডির হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে ভর্তির পরই তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। মাঝে শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে লাইফ সাপোর্ট খুলে দেওয়া হলেও গত রবিবার (১০ মে) পুনরায় তার অবস্থার অবনতি ঘটে এবং চিকিৎসকরা তাকে আবারও লাইফ সাপোর্টে নেন।
উল্লেখ্য, ১৯৪১ সালের ১৮ জুন নোয়াখালীতে জন্মগ্রহণ করেন আতাউর রহমান। বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তিনি ছিলেন এক বহুমাত্রিক প্রতিভা। একাধারে অভিনেতা, মঞ্চনির্দেশক, নাট্যকার ও লেখক হিসেবে তিনি কিংবদন্তিতুল্য খ্যাতি অর্জন করেন। বিশেষ করে স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের মঞ্চনাটক আন্দোলনের অন্যতম অগ্রদূত হিসেবে তাকে বিবেচনা করা হয়। শিল্প-সংস্কৃতি ও নাট্যাঙ্গনে তার অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা স্বাধীনতা পদক এবং একুশে পদকে ভূষিত করে। তার মৃত্যুতে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হলো।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে