Views Bangladesh Logo

স্বপ্নের স্প্যানিশ একাদশ

লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফাই স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় শুক্রবার প্রথম প্রহরে শুরু হওয়া বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের লড়াইয়ে অস্ট্রিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে স্পেন। ২০১০ এর বিশ্বকাপ জেতার পর এই প্রথম নক আউটে জয় পাওয়া স্পেনের ফুটবল ইতিহাসে অসংখ্য কিংবদন্তির জন্ম হয়েছে। কেউ বিশ্বকাপ জিতিয়েছেন, কেউ ইউরোপ শাসন করেছেন, আবার কেউ ট্রফির চেয়েও বেশি কিছু, ফুটবলকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। তাদের কেউ রক্ষণভাগে প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছেন, কেউ মাঝমাঠে বলের ছন্দে সময়কে থামিয়ে দিয়েছেন, আবার কেউ গোল করে কোটি সমর্থকের হৃদয়ে স্থায়ী আসন গড়েছেন।

এরকম সমৃদ্ধ ও অভিজ্ঞ একটা দলে এই মুহূর্তে সব তারকার জন্য জায়গা করে দেওয়া সহজ নয়। তবে ফুটবলপ্রেমী হিসেবে গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে যাদের খেলা দেখেছি, তাদের নিয়েই একটা স্বপ্নের স্প্যানিশ একাদশ সাজানোর চেষ্টা করাই যেতে পারে। এই একাদশ সাজানোর পেছনে পরিসংখ্যান যেমন বিবেচনায় এসেছে, তেমনি এসেছে বড় ম্যাচে প্রভাব, নেতৃত্ব, কৌশলগত গুরুত্ব, বিভিন্ন যুগের ফুটবল-দর্শনের পার্থক্য এবং একজন খেলোয়াড়কে দেখার ব্যক্তিগত অনুভূতিও। এটা যে সর্বকালের সেরা স্প্যানিশ একাদশ হতে হবে তেমন নয়, বরং আমার চোখে স্প্যানিশ ফুটবলের সেরা খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া একটি কল্পিত স্কোয়াড।

এই দলে যেমন ১৬৭টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা ইকার ক্যাসিয়াস আছেন, তেমনি আছেন আন্তর্জাতিক ফুটবলে মাত্র ২৩টি ম্যাচ খেলেই অসাধারণ সম্ভাবনার স্বাক্ষর রাখা লামিন ইয়ামাল। একদিকে স্পেনের 'তিকিতাকা' যুগের স্থপতিরা, অন্যদিকে আধুনিক গতিময় ফুটবলের প্রতিনিধিরা—ভিন্ন প্রজন্মের এসব তারকাকে একই সুতোয় গেঁথে এমন একটি দল কল্পনা করেছি, যারা শুধু ম্যাচ জিতবে না, ফুটবলকেও সুন্দর করে তুলবে।

৪-৩-৩ বা ৪-৫-১ ফরমেশনে গড়া এই দলের প্রথম একাদশ:
গোলপোস্টে ইকার ক্যাসিয়াসকে রাখা একদম সহজ সিদ্ধান্ত, কারণ তিনি শুধু শট-স্টপার ছিলেন না, বড় ম্যাচের নির্ভরযোগ্য পারফর্মারও ছিলেন, যাকে স্পেনের সোনালি যুগের মেরুদণ্ড বলা হয়। কিশোর বয়সে রিয়াল মাদ্রিদে অভিষেকের পর তাদের হয়ে ৫১০টি ম্যাচ খেলেন এবং পরবর্তীতে স্পেনের হয়ে ১টি বিশ্বকাপ ও ২টি ইউরো জেতায় নেতৃত্ব দেন। তিনি ১০২টি ম্যাচে ক্লিন-শিট রাখেন, যার শতকরা হার আন্তর্জাতিক ম্যাচে ছিল ৬১%।
তার সামনে ডিফেন্সে রাখছি সার্জিও রামোস, ফার্নান্দো হিয়েরো এবং জেরার্ড পিকে-কে। স্পেনের হয়ে সর্বোচ্চ ১৮০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা রামোস ক্যারিয়ারের শুরুতে রাইট উইং-ব্যাক হিসেবে খেলতেন, তাই তাকে এই জায়গাটা দিয়েছি; ফলে প্রয়োজনে স্পেন শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে তিনজন সেন্টার-ব্যাকের শক্তিমত্তাও কাজে লাগাতে পারবে।

পুরনো আমলের হিয়েরোর ২৯টি আন্তর্জাতিক গোল ও রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ১০০-র বেশি গোল করার ক্ষমতা, এবং ১০টি লা লিগা জেতা ৬ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতার পিকের পজিশনিং-বুদ্ধিমত্তা আর রামোসের আগ্রাসন ও নেতৃত্ব—এই তিনজন মিলে রক্ষণভাগটা শুধু রক্ষণাত্মক নয়, বরং খেলা গড়ার জন্যও আদর্শ করে তোলে।

অন্যদিকে জর্ডি আলবা লেফট উইং-ব্যাক হিসেবে একদম মানানসই, কারণ তার ওভারল্যাপিং করার দক্ষতা বিপক্ষ দলকে ভোগান্তিতে ফেলবে।

মিডফিল্ডই এই দলের আসল প্রাণ। জাবি আলোনসো, জাভি হার্নান্দেজ ও আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা ত্রয়ী একসঙ্গে থাকা মানেই তিকিতাকা প্রয়োগে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে থাকবে, আর বিপক্ষ দল এদের পেছনে ঘুরতে ঘুরতে হাঁসফাঁস করবে। আলোনসো বিপক্ষের আক্রমণ নস্যাৎ করার পাশাপাশি রক্ষণ-লাইনের সামনে থেকে খেলার গতি নির্ধারণ করবেন, জাভি পুরো খেলার ছন্দ নিয়ন্ত্রণ করবেন, আর ইনিয়েস্তা সামান্য জায়গা পেলেই জাদু দেখাবেন। এই তিনজন ১১৪–১৩৩টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ১৩–১৬টি গোল করেছেন, যা নির্দেশ করে কেন তারা একসঙ্গে মূল একাদশে থাকবেন।

তাদের সাথে ১২৫ ম্যাচে ৩৫ গোল করা ডেভিড সিলভা যোগ হওয়ায় আক্রমণাত্মক সৃজনশীলতা আরও তুখোড় ও ধারাবাহিক হবে। বাঁ-পায়ের সিলভাসহ আলোনসো, জাভি ও ইনিয়েস্তা—এই চারজন একসাথে থাকলে স্পেনের পক্ষে ৬৫–৭০% বল দখল বজায় রাখাটা খুবই স্বাভাবিক। তবে বাস্তবিক দিক থেকে বললে, তিনজন প্লে-মেকার ধরনের খেলোয়াড় একসাথে থাকলে খেলা সুন্দর হবে ঠিকই, কিন্তু গতিশীলতা কিছুটা বাধাগ্রস্ত হতে পারে।


আক্রমণভাগে স্পেনের হয়ে সর্বোচ্চ ৫৯ গোল করা ডেভিড ভিয়াকে একক স্ট্রাইকার হিসেবে রাখা খুবই যৌক্তিক, কারণ তিনি দুই পায়েই সমান দক্ষ, দুর্দান্ত ফিনিশার এবং ফাঁকা জায়গা কাজে লাগাতে ওস্তাদ।


তার পেছনে, বাঁ পায়ে খেলতে অভ্যস্ত লামিন ইয়ামালকে ইনভার্টেড রাইট উইঙ্গার হিসেবে রাখাটা কিছুটা চমক বটে—যিনি বিপক্ষের পেনাল্টি বক্সের আশেপাশে ডান দিক থেকে ভেতরে ঢুকে তাদের রক্ষণ-লাইনকে বোকা বানাতে ব্যস্ত থাকবেন। এখানে বাঁ-পায়ের সিলভা ও ইয়ামাল একসাথে থাকলেও তারা ভিন্ন উইংয়ে খেলবেন। তাদের সৃজনশীলতা ও ইয়ামালের অপ্রত্যাশিত কিছু করে দেখানোর সক্ষমতা দলে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

বিকল্প বেঞ্চ
বেঞ্চ সাজাতেও যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়ার চেষ্টা করেছি। এখানে প্রতিটি পজিশনে এমন খেলোয়াড় আছেন, যারা যেকোনো সময় মূল একাদশের মান ধরে রাখতে পারেন, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে ম্যাচের গতিপ্রকৃতি পুরো বদলে দিতে পারেন।

গোলরক্ষক বিভাগে বর্তমান প্রজন্মের উনাই সিমন ও ডেভিড ডি গিয়া থাকবেন পুরনো যুগের নির্ভরযোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার প্রতীক আন্দোনি জুবিসারেতা ও সান্তিয়াগো কানিসারেসের আগে। কেননা সিমন-ডি গিয়া যেখানে ৫৩–৫৭% ম্যাচে ক্লিন-শিট রাখতে পেরেছেন, সেখানে জুবিসারেতা-কানিসারেসের হার ছিল মাত্র ৪০–৫০%।


রক্ষণভাগের ডান পাশে রাইট উইং-ব্যাক হিসেবে মনে পড়ছে জেসুস নাভাস, দানি কারভাহাল, মিচেল সালগাদো, আলভারো আরবেলোয়া, সেসার আসপিলিকুয়েতা ও আলবের্ত ফেরারের নাম। লাইনআপ দেখলেই বোঝা যায়, এখানে রক্ষণে দক্ষতা, ওভারল্যাপিং করার গতি ও অভিজ্ঞতা—সবকিছুই বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এরা ৩৬–৫৬টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। নাভাস আক্রমণাত্মক গতি ও উইং-প্লে যোগ করেন, বর্তমান জাতীয় দলের খেলোয়াড় কারভাহাল বড় ম্যাচের নির্ভরযোগ্য যোদ্ধা, সালগাদো শক্তপোক্ত রক্ষণাত্মক ধাঁচের, আর আসপিলিকুয়েতা ও আরবেলোয়া ফুলব্যাক হিসেবে ডান-বাম দুই প্রান্তেই খেলতে পারেন। ফেরার পুরনো বার্সেলোনা স্কুলের একজন সুশৃঙ্খল ডিফেন্ডার ছিলেন, যিনি অলিম্পিকেও স্বর্ণপদক জিতেছিলেন।

সেন্টার-ব্যাক অংশটা আরও শক্তিশালী। যেখানে ১০০ ম্যাচ খেলা কার্লেস পুইওল নেতৃত্ব ও আত্মত্যাগের প্রতীক, রাফায়েল নাদালের চাচা মিগেল আনহেল নাদাল বহুমুখী শক্তি, কার্লোস মার্চেনা ও রাউল আলবিওল স্থিরতা, আর আয়মেরিক লাপোর্ত আধুনিক যুগের কৌশলী ডিফেন্ডার হিসেবে বল নিয়ে খেলা গড়ার দক্ষতা যোগ করেন। এছাড়া মানোলো সানচেস, আবেলার্দো ফের্নান্দেস, ইভান হেলগেরা, রাফায়েল আলকোর্তা ও রবিন লে নরমঁর নামও উল্লেখযোগ্য—পুরনো ধাঁচের সানচেসের মতো 'সুইপার' থেকে শুরু করে আধুনিক বল-প্লেয়িং ডিফেন্ডার লাপোর্ত পর্যন্ত সব ধরনের সেন্টার-ব্যাকই এখানে আছেন।

লেফট উইং-ব্যাক হিসেবে সের্হি বার্হুয়ান, মার্ক কুকুরেয়া ও হোয়ান কাপদেভিলা—এই তিনজন তিন রকম স্টাইলের প্রতিনিধিত্ব করেন। কাপদেভিলা বেশি ব্যালান্সড, এদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৬০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন তিনি; এখন পর্যন্ত ২৭টি ম্যাচ খেলা কুকুরেয়া আধুনিক আক্রমণাত্মক ফুলব্যাক (ডান পাশেও খেলতে পারেন); আর ৫৬টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে প্রতিনিধিত্ব করা বার্হুয়ান পুরনো ধারার স্থিতিশীল খেলোয়াড়।

মিডফিল্ডে গভীরতা আরও চমৎকার। স্পেনের হয়ে ১৪৩ ম্যাচ খেলা সের্হিও বুস্কেতস নামলে পুরো দলের রক্ষণাত্মক ভারসাম্য বেড়ে যাবে, জোসেপ গুয়ার্দিওলা একসাথে কৌশল ও নিয়ন্ত্রণ এনে দিতে পারেন, আর ডেভিড আলবেলদা কঠোর পরিশ্রমী রক্ষণাত্মক ভূমিকা পালন করবেন। রদ্রি এরনান্দেস আধুনিক যুগের অন্যতম সেরা ডিপ-লায়িং প্লেমেকার, যার উপস্থিতিতে দল আরও স্থির ও নিয়ন্ত্রিত হবে। বর্তমান দলের ফাবিয়ান রুইস এবং কিছুকাল আগে অবসরে যাওয়া হোর্হে কোকে মিডফিল্ডে সৃজনশীলতা ও পরিশ্রমী মানসিকতা দুটোই যোগ করবেন।

বক্স-টু-বক্স ভূমিকায় লুইস এনরিকে, মিকেল মেরিনো ও রুবেন বারাহা—এই তিনজনই শক্তি, ক্রমাগত দৌড়ানো এবং আক্রমণ-রক্ষণ দুই দিকেই অবদান রাখতে পারেন। এই তিনজন তিনটি ভিন্ন সময়ে স্পেন দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

প্লে-মেকার পজিশনে বর্তমান দলের ২১ ও ২৩ বছর বয়সী গাভি মার্টিন ও পেদ্রি গনসালেস থাকবেন ৩৩ বছরের ইস্কো আলার্কনের সঙ্গে, সাথে থাকবেন কিছুটা কম পরিচিত হুয়ান বালেরন। এরা সবাই খেলার সৃজনশীল দিকটাকে অন্য স্তরে নিয়ে যেতে পারেন। এই চারজনের মধ্যে ইস্কোর গোল করার হার সবচেয়ে বেশি।


আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডে সেস্ক ফাব্রেগাস, সান্তি কাসোরলা, হুয়ান মাতা, হুলেন গেরেরো, গাইস্কা মেন্দিয়েতা, থিয়াগো আলকান্তারা, লুইস গার্সিয়া ও হোসে মারিয়া বাকেরো—সবাই খেলার ছন্দ, সৃজনশীলতা ও গোল, সবকিছুই যোগ করতে পারেন। ফলে মাঝমাঠ থেকে আক্রমণে রূপান্তর হবে যথেষ্ট মসৃণ।

রাইট উইংয়ে ফেরান তোরেস, পেদ্রো রদ্রিগেস, নিকো উইলিয়ামস ও হোয়াকিন সানচেস গতি ও ড্রিবলিং সহযোগে গোল করায় পরীক্ষিত।

অন্যদিকে বাঁ উইঙ্গার দানি ওলমো, মিকেল ওইয়ারসাবাল ও হোসে আন্তোনিও রেয়েস ভেতরে ঢুকে খেলা তৈরি ও গোল করার দক্ষতায় পারদর্শী।

সবশেষে ফরোয়ার্ড লাইনে থাকবেন ১০২ ম্যাচে ৪৪ গোল করা রাউল গনসালেস, ১১০ ম্যাচে ৩৮ গোল করা ফের্নান্দো তোরেস, ৪৭ ম্যাচে ২৭ গোল করা ফের্নান্দো মোরিয়েন্তেস, ৬ ফুট ৩ ইঞ্চি উচ্চতার ৩৩ বছর বয়সী আলভারো মোরাতা (এখন পর্যন্ত ৮৭ ম্যাচে ৩৭ গোল), ৬৯ ম্যাচে ২৬ গোল করা এমিলিও বুত্রাগেনিও এবং ৫৬ ম্যাচে ২২ গোল করা হুলিও সালিনাস। এখানে ক্লাসিক গোলদাতা, দ্রুতগতির স্ট্রাইকার ও বুদ্ধিদীপ্ত মুভমেন্টের ফরোয়ার্ড—সব ধরনের বিকল্পই রাখা হয়েছে।

সব মিলিয়ে বেঞ্চটা এমন যে, মূল একাদশ একটু ক্লান্ত বা ব্যর্থ হলেই এখান থেকে যে কাউকে নামিয়ে খেলার ধরন পুরো বদলে দেওয়া সম্ভব। কখনো বার্সেলোনার মতো ধীর ও নিয়ন্ত্রিত, কখনো রিয়াল মাদ্রিদের মতো দ্রুত ও সরাসরি, আবার কখনো সম্পূর্ণ আক্রমণাত্মক—যেকোনো ফরমেশনেই দলকে খেলানো সম্ভব।
এককথায়, এটা এমন একটা দল যা 'ফুটবলের সৌন্দর্য'-এর প্রতিনিধিত্ব করবে, আবার চাইলে শক্তি বা গতির পাশাপাশি বুদ্ধিমত্তা, কৌশল ও নিয়ন্ত্রণকেও বেশি গুরুত্ব দিতে পারবে।

যদি কৌশলগতভাবে সামান্য পরিমার্জন করা যায়—বিশেষ করে মাঠের বাঁ ও ডান দিক জুড়ে খেলার বিস্তার, অর্থাৎ দলটা কতটা মাঠ বড় করে খেলছে, এবং রক্ষণাত্মক ভারসাম্য বজায় রাখা যায়—তাহলে এই দলটা বাস্তবে প্রায় অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠতে পারত।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ