বিয়ের আগে সম্পর্ক যাচাইয়ের ‘৩-৩-৩ ডেটিং রুল’, কীভাবে কাজ করে?
প্রেমের সম্পর্ককে বিয়ের দিকে নেওয়ার সিদ্ধান্ত সহজ নয়। শুরুতে ভালো লাগা, আকর্ষণ কিংবা আবেগ অনেক কিছুই আড়াল করে রাখতে পারে। তাই সঙ্গীকে আরও ভালোভাবে বোঝার জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় এসেছে ‘৩-৩-৩ ডেটিং রুল’। এই পদ্ধতিতে সম্পর্ককে তিনটি নির্দিষ্ট সময়ে মূল্যায়ন করার কথা বলা হয়। সময়গুলো হলো তিনটি ডেটের পর, তিন সপ্তাহ পর এবং তিন মাস পর।
প্রথম ধাপটি শুরু হয় তিনটি ডেটের পর। এক বা দুইবার দেখা হওয়ার পর মানুষের আচরণ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া কঠিন হতে পারে। কেউ নার্ভাস থাকতে পারেন, আবার কেউ নিজের ভালো দিকগুলোই বেশি তুলে ধরতে পারেন। তৃতীয়বার দেখা হওয়ার পর একই ধরনের আচরণ, অনুভূতি বা অস্বস্তি বারবার দেখা যাচ্ছে কি না, সেটি খেয়াল করা যায়। তবে এই পর্যায়ে ইতিবাচক অভিজ্ঞতা হলেও বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেয়ে সম্পর্কটিকে আরও সময় দেওয়াই ভালো।
এরপর আসে তিন সপ্তাহের পর্যায়। এই সময়ের মধ্যে দুজনের একে অপরকে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে দেখার সুযোগ তৈরি হয়। ব্যক্তিগত জীবন, কাজ, পরিবার, বন্ধু কিংবা দৈনন্দিন ব্যস্ততার সঙ্গে সঙ্গীর আচরণ কেমন, তা বোঝা সহজ হয়। একই সঙ্গে সন্তান নেওয়া, ক্যারিয়ার, অর্থব্যবস্থা কিংবা জীবনযাপনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে দুজনের দৃষ্টিভঙ্গির মিল-অমিলও সামনে আসতে পারে। কোনো বিষয় অস্বস্তি তৈরি করলে সেটি এড়িয়ে না গিয়ে সরাসরি আলোচনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
তৃতীয় ধাপটি তিন মাসের মাথায়। এই সময়ের মধ্যে প্রাথমিক আকর্ষণের বাইরে গিয়ে সম্পর্কের বাস্তব দিকগুলো বোঝার সুযোগ তৈরি হয়। চাপের পরিস্থিতিতে সঙ্গীর আচরণ কেমন, মতবিরোধ হলে কীভাবে তা সামলান, নিজেদের প্রয়োজন ও অনুভূতি কতটা স্পষ্টভাবে প্রকাশ করতে পারেন, এসব বিষয় তখন বেশি পরিষ্কার হতে থাকে। দুজনের মূল্যবোধ, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও জীবনদর্শনের মধ্যে কতটা সামঞ্জস্য রয়েছে, সেটিও এই পর্যায়ে বিবেচনা করা যায়।
তবে ৩-৩-৩ নীতিকে কোনো কঠোর নিয়ম হিসেবে দেখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে না। সম্পর্ককে পরীক্ষার মতো পরিচালনা করলে বরং স্বাভাবিক যোগাযোগ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো নির্দিষ্ট বিরতিতে থেমে নিজেদের অনুভূতি ও সম্পর্কের গতিপথ নিয়ে ভাবা। প্রয়োজনে দুজন মিলে আলোচনা করেও বোঝা যেতে পারে, সম্পর্কটি কোন দিকে এগোচ্ছে এবং উভয়ের প্রত্যাশা কতটা মিলছে।
সবশেষে, তিন মাস পার হলেই বিয়ের সিদ্ধান্ত নিতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। একইভাবে তিন মাসে কিছু সন্দেহ তৈরি হলে সম্পর্ক শেষ করতেই হবে, এমনটাও নয়। বরং সন্দেহের কারণ খুঁজে বের করা, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করা এবং সময়ের সঙ্গে সম্পর্কের বাস্তবতা যাচাই করাই এই পদ্ধতির মূল কথা। বিয়ের মতো দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্তে আবেগের পাশাপাশি পারস্পরিক মূল্যবোধ, যোগাযোগ, বিশ্বাস ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সামঞ্জস্য বিবেচনা করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
মতামত দিন