থাইল্যান্ডের নির্বাচনে অনুতিনের জয় দাবি
থাইল্যান্ডের সাধারণ নির্বাচনে প্রাথমিক ফলাফলে এগিয়ে থেকে প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চারনাভিরাকুল জয় দাবি করেছেন। এখন পর্যন্ত ৫৬ শতাংশ ভোট গণনায় তার নেতৃত্বাধীন ভুমজাইথাই পার্টি স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। বিবিসি
নির্বাচনপূর্ব জরিপে সংস্কারপন্থি পিপলস পার্টিকে এগিয়ে রাখা হলেও ভোট গণনায় সেই পূর্বাভাস ভুল প্রমাণিত হয়েছে। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ৫০০ আসনের পার্লামেন্টে ভুমজাইথাই পার্টি প্রায় ১৯৭টি আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা পিপলস পার্টি পেতে পারে আনুমানিক ১১০টি আসন।
জয় দাবি করে অনুতিন চারনাভিরাকুল বলেন, এই সাফল্য সব থাই নাগরিকের। আপনারা আমাদের ভোট দিন বা না দিন—আমরা সবার জন্যই কাজ করব।
প্রতিদ্বন্দ্বী পিপলস পার্টির নেতা নাথাফং রুয়েংপানিয়াউত পরোক্ষভাবে পরাজয় স্বীকার করেছেন বলে মনে করা হচ্ছে। তিনি জানিয়েছেন, অনুতিন সরকার গঠন করলে তাঁর দল বিরোধী দলে থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে।
উল্লেখ্য, গত দুই বছরে একাধিক জোট সরকারের পতন এবং তিনজন প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তনের পর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। এবারের নির্বাচনে ৫০টির বেশি রাজনৈতিক দল অংশ নিলেও মূলত ভুমজাইথাই পার্টি, পিপলস পার্টি এবং কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার দল ফেউ থাই পার্টির মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হয়।
তবে কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে—এমন সম্ভাবনা না থাকায় জোট সরকার গঠনের আলোচনা শুরু হয়েছে। তবুও অনুতিন চারনাভিরাকুলের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বহাল থাকা এখন প্রায় নিশ্চিত বলেই মনে করা হচ্ছে।
এবারের নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচনের পাশাপাশি নতুন সংবিধান প্রণয়নের প্রশ্নে গণভোটেও অংশ নেন থাইল্যান্ডের ভোটাররা। আলাদা হলুদ ব্যালট পেপারে ভোটাররা ‘হ্যাঁ’, ‘না’ অথবা ‘মতামত নেই’—এই তিনটি বিকল্পের একটিতে ভোট দেন।
এই গণভোটের মাধ্যমে ২০১৭ সালের সংবিধান সংস্কার করা হবে কি না, সে বিষয়ে জনমত যাচাই করা হচ্ছে। ২০১৪ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর সেনা সরকারের প্রণীত এই সংবিধানে অনির্বাচিত সিনেটসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে বলে বহু থাই নাগরিক মনে করেন।
বিবিসিকে এক ভোটার বলেন, ‘আমি পরিবর্তন চাই। আমি চাই না সবকিছু আগের মতোই থেকে যাক।’
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে