চার গোল করেও ভিনির চোখে জল
ব্রাজিলের স্বপ্ন আর ভরসার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন একটিই নাম— ভিনিসিউস জুনিয়র। উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে নিজের সেরা ছন্দে রয়েছেন এই ফরোয়ার্ড। গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই জালের ঠিকানা খুঁজে পেয়েছেন তিনি। জাপানের বিপক্ষে রাউন্ড অব বত্রিশের লড়াইয়েও তার দিকেই তাকিয়ে থাকবে দল।
কিন্তু এই নকআউট ম্যাচের আগে চোখ ভিজে গেল ভিনির। একটি সাক্ষাৎকারে দাদির প্রসঙ্গ উঠতেই আবেগে ভেঙে পড়েন এই তারকা ফরোয়ার্ড।
ব্রাজিলের জনপ্রিয় টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘ডোমিঙ্গাও কোম হাক’-এ দাদির পাঠানো একটি ভিডিওবার্তা দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। ভিডিওটি দেখার পর রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ড বলেন, ‘তিনি আমার জীবনের খুবই বিশেষ একজন মানুষ। বাবা সবসময় দূরে থাকতেন। তাই মা, ভাইবোন আর আমি দাদির সঙ্গেই বড় হয়েছি। আমাদের বাড়ি ছোট ছিল, তাই টানা অনেক দিন আমি দাদির সঙ্গেই ঘুমিয়েছি। এখন আমার ভাষা হারিয়ে গেছে। তিনি আমার জীবনটাই বদলে দিয়েছেন। জানি, একদিন সবাইকে চলে যেতে হয়। তাই তাঁর সঙ্গে কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত আমি আগলে রাখতে চাই। আমার স্বপ্ন পূরণে তারা যা সম্ভব, সবই করেছেন। তাঁকে হাসিখুশি দেখতে পাওয়ার চেয়ে মূল্যবান আর কিছু নেই।’
এবারের বিশ্বকাপে ব্রাজিলের আক্রমণভাগের ভরসার নাম এখন ভিনিসিউস। গ্রুপ পর্বের প্রতিটি ম্যাচে গোল করেছেন তিনি। তিন ম্যাচে তার গোলসংখ্যা চারটি। সামনের ম্যাচগুলোতেও এই ফরোয়ার্ডের দিকেই তাকিয়ে থাকবেন সেলেসাও সমর্থকেরা। দেশের বহু প্রতীক্ষিত ষষ্ঠ বিশ্বকাপ শিরোপার স্বপ্ন পূরণে ভিনির জ্বলে ওঠার আসলে কোনো বিকল্প নেই।
সাক্ষাৎকারে ব্রাজিলের বহু প্রতীক্ষিত ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের প্রসঙ্গেও কথা বলেন ভিনিসিউস। তিনি স্বীকার করেন, প্রত্যাশিত শিরোপা পেতে দেরি হওয়ায় চাপও বেড়েছে। তিনি বলেন, ‘এটি এমন একটি প্রজন্ম, যারা ব্রাজিলকে আবার শীর্ষে ফিরিয়ে নিতে সর্বোচ্চ লড়াই করছে। ষষ্ঠ তারকাটি (শিরোপা) পেতে সময় লাগছে। তবে গত কয়েক বছরে আমরা অনেক কিছু শিখেছি। বর্তমান দলে অনেকেই গত কোপা আমেরিকায় খেলেছে। কোচ আনচেলত্তি আমাদের স্বাধীনতা, মানসিক প্রশান্তি এবং আবারও সেরার আসনে ফেরার আশা দিয়েছেন। নেইমার, কাসেমিরো, অ্যালেক্স সান্দ্রো, দানিলো ও মারকিনিওসের মতো অভিজ্ঞ ফুটবলারদের উপস্থিতি আমাদের মতো তরুণদের আত্মবিশ্বাস নিয়ে খেলতে সাহায্য করে। আমার বয়স এখন মাত্র ২৫। সামনে এন্দ্রিক ও রায়ানের মতো আরও প্রতিভাবান খেলোয়াড় উঠে আসছে। আমাদের দলটি সত্যিই দারুণ।’
বর্ণবাদের বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান নিয়েও কথা বলেছেন এই ফরোয়ার্ড। তিনি বলেন, ‘মাঠের সাফল্যের চেয়ে মাঠের বাইরের এই অর্জনগুলো আমার কাছে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এর মাধ্যমে আমি আরও অনেক মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারি। পরিবর্তন ধীরে হলেও আমি চাই এটি চলতে থাকুক, যাতে আগামী প্রজন্মকে এসবের শিকার হতে না হয়। আমার সাত বছরের একটি ছোট ভাই আছে। আমি চাই না, সেও বর্ণবাদের শিকার হোক। মাঠে বড় কিছু অর্জনের পাশাপাশি আমি তরুণ কৃষ্ণাঙ্গদের অনুপ্রাণিত করতে চাই, যাদের কণ্ঠস্বর আমার মতো জোরালো নয়।’
নিজের বর্তমান ফর্ম নিয়েও আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে কথা বলেন ভিনিসিউস। তিনি বলেন, ‘প্রতিযোগিতা শুরুর আগেই বলেছিলাম, টেকনিক্যাল, শারীরিক ও মানসিক—সব দিক থেকেই আমি ক্যারিয়ারের সেরা অবস্থায় আছি। মৌসুমজুড়ে কঠোর পরিশ্রম করেছি, যাতে শতভাগ প্রস্তুত থাকতে পারি। কোনো চোট পাইনি, রিয়াল মাদ্রিদের কোনো ম্যাচও মিস করিনি। যত বেশি পরিশ্রম করবেন, ভাগ্যও তত বেশি আপনার পক্ষে থাকবে।’
হাসতে হাসতে ভিনি আরও বলেন, ‘আমি সাধারণত হেডে গোল করি না। আজ কোচের সঙ্গে এ নিয়ে বাজি ছিল। ক্যারিয়ারে মাত্র দুই-তিনটি হেডে গোল করেছি। এখন বাজির উপহারটা বেছে নিতে হবে।’
মতামত দিন