আফগানিস্তানে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ, ‘ইসলামি আইনে এর জায়গা নেই’ বলল তালেবান
আফগানিস্তানে সব ধরনের বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে তালেবান সরকার। সরকারের দাবি, বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করার নতুন বিধান ইসলামি আইনের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে।
গত মাসে তালেবান সরকার নতুন একটি বিধান জারি করে আফগানিস্তানে সব ধরনের বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করে। ক্ষমতা পুনর্দখলের পর দেশটিতে এমনিতেই বিক্ষোভের ঘটনা খুবই কম। নতুন এই নিষেধাজ্ঞার ফলে সরকারের সমালোচনা ও ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ আরও সংকুচিত হবে বলে আশঙ্কা করছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা।
গত বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এএফপিকে বলেন, নতুন বিধানটি ‘পুরোপুরি ইসলামি আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ’। তার দাবি, ইসলামি আইনে বিক্ষোভের কোনো অস্তিত্ব নেই।
মুজাহিদ বলেন, বিক্ষোভ এমন একটি সমাজব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত, যেখানে গণতন্ত্র বা প্রজাতন্ত্রের মতো ভিন্ন ধরনের আইন কার্যকর রয়েছে। ইসলামি ব্যবস্থায় জনগণ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ না করে সরাসরি সরকারের কাছে নিজেদের অভিযোগ ও উদ্বেগ জানাতে পারেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করার পক্ষে যুক্তি দিয়ে তালেবানের এই মুখপাত্র বলেন, এর ফলে মানুষ ‘সময় নষ্ট’ করা থেকে রক্ষা পাবেন। পাশাপাশি বিক্ষোভের সময় ব্যক্তিগত সম্পত্তি ভাঙচুর বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনাও ঠেকানো সম্ভব হবে।
তবে তালেবানের এই সিদ্ধান্তকে ‘নিষ্ঠুর’ আখ্যা দিয়ে নিন্দা জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। গত মাসের শেষ দিকে সংগঠনটি বলেছে, বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা আফগানিস্তানে সব ধরনের ভিন্নমত দমনের তালেবানি প্রচেষ্টার আরও একটি পদক্ষেপ।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও তালেবানের সাম্প্রতিক আইন ও আইন প্রয়োগের পরিবর্তনকে আফগানিস্তানে মানবাধিকারের ওপর আরও একটি বড় আঘাত হিসেবে বর্ণনা করেছে। সংগঠনটির মতে, বিক্ষোভ নিষিদ্ধের বিধান এসব পরিবর্তনের মধ্যে অন্যতম গুরুতর।
আফগানিস্তানে বিক্ষোভ তুলনামূলকভাবে বিরল হলেও সাম্প্রতিক সময়ে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, গত জুনে পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর হেরাতে নারীদের অধিকার নিয়ে আয়োজিত একটি বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত দুজন নিহত হন।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, নতুন নিষেধাজ্ঞার কারণে আফগানিস্তানে সরকারের নীতির বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ এবং ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ আরও সীমিত হয়ে পড়বে।
মতামত দিন