ইসরায়েলের সঙ্গে নিরাপত্তা চুক্তির পথে সিরিয়া
ইসরায়েলের সঙ্গে একটি নিরাপত্তা চুক্তি চূড়ান্ত করতে কয়েকটি দেশের অংশগ্রহণে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে সিরিয়া। দেশটির প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা বলেছেন, এই উদ্যোগ সফল হলে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যাপক শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হতে পারে।
আলজাজিরার অনুষ্ঠান ‘আল মুকাবলা’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। আহমেদ আল-শারা জানান, সম্ভাব্য নিরাপত্তা চুক্তির লক্ষ্য হলো দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমানো এবং ভবিষ্যতে একটি স্থায়ী শান্তিপূর্ণ সম্পর্কের ভিত্তি তৈরি করা। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো ধরনের সমঝোতার বিনিময়ে অধিকৃত গোলান মালভূমির ওপর সিরিয়ার সার্বভৌম অধিকার ক্ষুণ্ন হবে না।
১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় গোলান মালভূমি দখল করে ইসরায়েল। পরে ১৯৮১ সালে অঞ্চলটি একতরফাভাবে নিজেদের সঙ্গে যুক্ত করার ঘোষণা দিলেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অধিকাংশ দেশ এখনো গোলানকে সিরিয়ার দখলকৃত ভূখণ্ড হিসেবেই বিবেচনা করে।
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি সংঘাত এড়িয়ে চলার নীতি অনুসরণ করছে তার সরকার। তার মতে, একটি নিরাপত্তা সমঝোতা দুই দেশের চলমান সংকট নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর ক্ষমতায় আসেন আহমেদ আল-শারা। এরপর থেকে দক্ষিণ সিরিয়ায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান ও বিমান হামলার ঘটনা বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতেই নিরাপত্তা চুক্তির উদ্যোগ নিয়েছে দামেস্ক।
সাক্ষাৎকারে লেবানন পরিস্থিতিও তুলে ধরেন আল-শারা। তিনি বলেন, হিজবুল্লাহকে মোকাবিলায় লেবাননে সামরিক হস্তক্ষেপের কোনো পরিকল্পনা সিরিয়ার নেই। বরং দেশটির চলমান সংকট মোকাবিলায় লেবাননের কর্তৃপক্ষকে কীভাবে সহযোগিতা করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা চলছে।
তিনি আরও বলেন, লেবাননে যে কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা সরাসরি সিরিয়ার নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলবে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনা আরও বিস্তৃত সংঘাতে রূপ নিলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য নতুন করে অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে।
মতামত দিন