গ্রুপ বি
সবার জন্যই কঠিন প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ড
ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী ও শৃঙ্খলাপূর্ণ দল সুইজারল্যান্ড আবারও নিজেদের প্রমাণ করার মিশনে মাঠে নামতে যাচ্ছে। ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ও কৌশলগত ফুটবলের জন্য পরিচিত এই দলটি বরাবরই বড় আসরে প্রতিদ্বন্দ্বীদের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
সুইজারল্যান্ড দলের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তাদের সংগঠিত ডিফেন্স ও মিডফিল্ড নিয়ন্ত্রণ। অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের মিশেলে গড়া সুইজারল্যান্ড দলটি এবারের বিশ্বকাপে ‘ডার্ক হর্স’ হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে। ২০২৬ সালের ফিফা র্যাঙ্কিং অনুযায়ী, সুইজারল্যান্ড ১৯ তম অবস্থানে রয়েছে।
বিশ্বকাপে অতীত রেকর্ড ও অংশগ্রহণ
সুইজারল্যান্ড ফুটবল দল ফিফা বিশ্বকাপের নিয়মিত অংশগ্রহণকারী একটি দল। সুইজারল্যান্ড এ পর্যন্ত ১৩ বার ফিফা বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে অংশগ্রহণ করেছে। তাদের সেরা সাফল্য হচ্ছে কোয়ার্টার-ফাইনাল বা শেষ আটে পৌঁছানো। তারা এ পর্যন্ত তিনবার কোয়ার্টার-ফাইনাল খেলেছে। সুইজারল্যান্ড ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য যোগ্যতা অর্জন করেছে এবং এটি তাদের টানা ষষ্ঠবারের মতো অংশগ্রহণ। বিশ্বকাপে তারা মোট ৪১টি ম্যাচ খেলে ১৪টিতে জয়লাভ করেছে, ৮টি ড্র করেছে এবং ১৯টিতে পরাজিত হয়েছে।
শক্তিমত্তা
সুইসরা তাদের সুদৃঢ় রক্ষণভাগের জন্য পরিচিত। তারা বিশ্বকাপের ইতিহাসে রক্ষণাত্মক রেকর্ড গড়েছে, যেমন ১৯৯৪ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে টানা ৫৫৯ মিনিট গোল না খাওয়ার অনন্য রেকর্ড। দলের মূল শক্তি গ্রানিত জাকার মতো অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার, যিনি দলের খেলার গতি ও কৌশল নিয়ন্ত্রণ করেন। এছাড়াও জার্দান শাকিরির মতো খেলোয়াড়রা চাপের মুহূর্তে গোল করার ক্ষমতা রাখেন।
দুর্বলতা
বড় টুর্নামেন্টের নকআউট পর্যায়ে বা শীর্ষ দলগুলোর বিপক্ষে খেলার সময় সুইজারল্যান্ড প্রায়শই মানসিক চাপ ধরে রাখতে পারে না, যার ফলে তারা বড় ব্যবধানে হেরে যায়। দলের রক্ষণভাগ ও মিডফিল্ড অনেক সময় ভালো খেললেও, ফরোয়ার্ড লাইনে বিশ্বমানের গোলস্কোরারের অভাবে তারা গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে গোল করতে ব্যর্থ হয়। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বল দখল এবং পাসের ক্ষেত্রে তারা অনেক সময় পিছিয়ে পড়ে, যা তাদের রক্ষণভাগের ওপর চাপ সৃষ্টি করে।
গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়
মিডফিল্ডার গ্রানিত জাকা দলের হার্টবিট এবং দীর্ঘদিনের অধিনায়ক। জার্মান ক্লাব লেভারকুসেনের হয়ে দুর্দান্ত মৌসুম কাটানোর পর, বর্তমানে তিনি দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ এবং গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। ডিফেন্ডার ম্যানুয়েল আকানজি- ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে খেলা এই সেন্টার-ব্যাক খুবই অ্যাথলেটিক, শান্ত এবং রক্ষণভাগের পজিশনিং ও বিল্ড-আপ খেলায় পারদর্শী। গ্রেগর কোবেল বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের এই গোলরক্ষক দুর্দান্ত রিফ্লেক্স এবং পেনাল্টি এরিয়া নিয়ন্ত্রণে পারদর্শী। রুবেন ভার্গাস গতিশীল এবং সৃজনশীল একজন অ্যাটাকিং খেলোয়াড়। দলের আক্রমণে গতি আনতে এবং কাউন্টার অ্যাটাকে তিনি খুবই কার্যকরী। এছাড়াও ব্রিল এমবোলো ও রিমো ফ্রেউলারও গুরুত্বপূর্ণ।
গ্রুপ প্রতিপক্ষ ও সম্ভাবনা
২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ড্র অনুযায়ী, সুইজারল্যান্ড গ্রুপ বি-তে রয়েছে। তাদের প্রতিপক্ষরা হলো- কানাডা, কাতার, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা। সুইজারল্যান্ড বর্তমানে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছে। এই গ্রুপ থেকে তাদের পরবর্তী রাউন্ডে (রাউন্ড অফ ৩২) যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। দলের ধারাবাহিকতা তাদের বড় শক্তি। এর আগে ২০২২ বিশ্বকাপেও তারা দুর্দান্ত খেলেছিল এবং বাছাইপর্বে অপরাজিত থেকে বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছে।
এবারের বিশ্বকাপে সম্ভাবনা
২০২৬ সালের বিশ্বকাপে সুইজারল্যান্ড দলের জয়ের সম্ভাবনাকে বিশেষজ্ঞ এবং বুকমেকাররা মূলত ‘আন্ডারডগ’ বা ডার্ক হর্স হিসেবে দেখছেন, তবে তাদের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সরাসরি সম্ভাবনা বেশ কম। সামগ্রিকভাবে, সুইজারল্যান্ড কোয়ার্টার ফাইনাল বা সেমিফাইনাল পর্যন্ত যাওয়ার লড়াই করতে পারে, কিন্তু বিশ্বকাপ শিরোপা জেতা তাদের জন্য একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ হবে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে