সংগঠিত ডিফেন্স ও কাউন্টার অ্যাটাকে বাজিমাত করবে সুইডেন
বিশ্ব ফুটবলের ধারাবাহিক ও প্রতিযোগিতামূলক দলগুলোর একটি সুইডেন। দল ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ৩৮তম স্থানে রয়েছে। ইউরোপের এই দলটি শারীরিক শক্তি, সংগঠিত ডিফেন্স ও কার্যকর কাউন্টার অ্যাটাকের জন্য পরিচিত। সাম্প্রতিক সময়ে তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে দলটি নতুন ভারসাম্য পেয়েছে। লং বল, সেট-পিস ও উইং দিয়ে আক্রমণ গড়ে তোলাই তাদের মূল কৌশল।
বিশ্বকাপে অতীত রেকর্ড ও অংশগ্রহণ
সুইডেন বিশ্বকাপ ইতিহাসে একটি সম্মানজনক অবস্থান তৈরি করেছে। ১৯৫৮ সালে নিজেদের মাটিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে তারা রানার্সআপ হয়েছিল, যা এখনো তাদের সেরা অর্জন। এছাড়া ১৯৯৪ বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান অর্জন করে তারা বিশ্বমঞ্চে নিজেদের শক্তি প্রমাণ করে। নিয়মিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে তারা বড় টুর্নামেন্টে অভিজ্ঞ একটি দল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
শক্তিমত্তা
সুইডেনের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের শারীরিক সক্ষমতা ও ট্যাকটিক্যাল শৃঙ্খলা। ডিফেন্সে তারা অত্যন্ত সংগঠিত এবং প্রতিপক্ষকে সহজে জায়গা দেয় না। আকাশপথে বল দখল ও সেট-পিস থেকে গোল করার ক্ষেত্রে তারা খুবই কার্যকর। মাঝমাঠ থেকে লং পাস দিয়ে দ্রুত আক্রমণে ওঠার ক্ষমতাও তাদের অন্যতম শক্তি। দলগতভাবে খেলোয়াড়রা নিজেদের দায়িত্ব খুব ভালোভাবে পালন করে, যা তাদের কঠিন সময়েও ম্যাচে রাখে।
দুর্বলতা
তবে সুইডেনের কিছু দুর্বলতাও রয়েছে। দ্রুতগতির ও টেকনিক্যাল দলের বিপক্ষে তারা মাঝে মাঝে সমস্যায় পড়ে। আক্রমণে সৃজনশীলতার ঘাটতি থাকায় অনেক সময় গোলের সুযোগ তৈরি করা কঠিন হয়ে যায়। এছাড়া প্রতিপক্ষের উচ্চ প্রেসিংয়ের মুখে বল ধরে রাখতে সমস্যার সম্মুখীন হয়।
গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়
বর্তমান দলে বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় রয়েছেন। ইংল্যান্ডের ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে খেলা ভিক্টর লিন্ডেলফ দলের রক্ষণভাগকে নেতৃত্ব দেন। ইংল্যান্ডের আরেক ক্লাব নিউক্যাসল ইউনাইটেড খেলোয়াড় আলেকজান্ডার ইসাক আক্রমণে দুর্দান্ত ও গোল করার প্রধান ভরসা। জার্মানির ক্লাব আরবি লাইপজিগের অন্যতম খেলোয়াড় এমিল ফোরসবার্গ সুইডেন দলে মাঝমাঠের প্রাণ ভোমড়া। ইংল্যান্ডের ক্লাব টটেনহ্যাম হটস্পারের হয়ে খেলা ডেয়ান কুলুসেভস্কি আক্রমণে গতি ও দক্ষতা প্রতীক।
গ্রুপ প্রতিপক্ষ
এফ গ্রুপে সুইডেন লড়বে নেদারল্যান্ডস, জাপান ও তিউনিসিয়ার বিপক্ষে। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচে ট্যাকটিক্যাল লড়াই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। জাপানের দ্রুতগতির খেলার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। আর তিউনিসিয়ার বিপক্ষে ম্যাচেও শারীরিক লড়াই ও কাউন্টার অ্যাটাক সামলানো বড় চ্যালেঞ্জ হবে। এই গ্রুপে প্রতিটি ম্যাচই কঠিন, তাই নকআউট পর্বে যেতে হলে সুইডেনকে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখাতে হবে।
এবারের বিশ্বকাপে সম্ভাবনা
বিশ্বকাপে সুইডেন সবসময়ই একটি শক্ত প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচিত হয়। যদি তারা তাদের শারীরিক শক্তি, সংগঠিত ডিফেন্স এবং সেট-পিসের সুবিধা কাজে লাগাতে পারে, তবে গ্রুপের সব দলের বিপক্ষেই ভালো ফল করার সামর্থ্য রাখে। ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলে এবারের বিশ্বকাপেও তারা নকআউট পর্বে জায়গা করে নেওয়ার সম্ভাবনা আছে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে