শেষ রাতের মাঠে ফ্রান্সের সামনে সুইডেনের অগ্নি পরীক্ষা
ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে নিজেদের অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী ফ্রান্স। বাংলাদেশ সময় বুধবার (১ জুলাই) বাংলাদেশ সময় ভোর ৩টায় নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে শেষ ৩২-এর ম্যাচে সুইডেনের মুখোমুখি হবে দিদিয়ের দেশমের দল। গ্রুপ পর্বে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা ফরাসিরা যেখানে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে, সেখানে নাটকীয়ভাবে নকআউটে জায়গা করে নেওয়া সুইডেন চায় বড় অঘটনের জন্ম দিতে।
গ্রুপ ‘আই’-এর চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স। টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই দারুণ আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দিয়েছে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। প্রথম ম্যাচে সেনেগালকে ৩-১ গোলে হারানোর পর ইরাককে ৩-০ ব্যবধানে পরাজিত করে তারা। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে নরওয়েকেও ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে পূর্ণ ৯ পয়েন্ট নিয়ে নকআউটে ওঠে লা ব্লুজ।
তিন ম্যাচে ১০ গোল করে এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে ভয়ংকর আক্রমণভাগগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে ফ্রান্স। বিপরীতে মাত্র দুই গোল হজম করেছে তারা। অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে প্রতিটি ম্যাচেই গোল করে দারুণ ছন্দে রয়েছেন। অন্যদিকে নরওয়ের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে আলোচনায় উঠে এসেছেন ওসমান দেম্বেলে। এই দুই তারকার গতি ও ফিনিশিং সামলানোই হবে সুইডিশ রক্ষণভাগের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
অন্যদিকে সুইডেনের নকআউটযাত্রা মোটেও সহজ ছিল না। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে তিউনিসিয়াকে হারালেও দ্বিতীয় ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের কাছে ৫-১ গোলের বড় ব্যবধানে হারে তারা। শেষ ম্যাচে জাপানের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে অন্যতম সেরা তৃতীয় দল হিসেবে শেষ ৩২-এর টিকিট নিশ্চিত করে গ্রাহাম পটারের শিষ্যরা।
গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচে সাত গোল করলেও সমান সাত গোল হজম করেছে সুইডেন। বিশেষ করে রক্ষণভাগের দুর্বলতা দলটির বড় উদ্বেগের কারণ। এর সঙ্গে ডিফেন্ডার ইসাক হিয়েনের চোট কোচ পটারের পরিকল্পনায় নতুন করে ধাক্কা দিয়েছে। অভিজ্ঞ ভিক্টর লিন্ডেলফকে রক্ষণ সামলানোর পাশাপাশি তরুণ লুকাস বার্গভালকে মাঝমাঠে বাড়তি দায়িত্ব নিতে হতে পারে।
তবে আক্রমণভাগে ভরসার অভাব নেই সুইডিশদের। অ্যালেকজান্ডার ইসাক, ভিক্টর গিয়োকেরেস ও অ্যান্থনি এলাঙ্গাকে নিয়েই ফরাসি রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করতে চাইবে তারা। দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণই হতে পারে সুইডেনের প্রধান কৌশল।
ফ্রান্স শিবিরে অবশ্য সুখবরও রয়েছে। পিঠের চোটের কারণে আগের ম্যাচে বিশ্রামে থাকা উইলিয়াম সালিবা পুরোপুরি ফিট হয়ে একাদশে ফিরছেন। রক্ষণে দায়ো উপামেকানোর সঙ্গে তার জুটি ফরাসিদের আরও শক্তিশালী করবে। মাঝমাঠে থাকবেন অহিলিয়েন চুয়ামেনি ও আদ্রিয়েন রাবিও, আর আক্রমণে এমবাপ্পেকে সহায়তা করবেন মাইকেল অলিসে, ওসমান দেম্বেলে ও ডেজায়ার দুয়ে।
পরিসংখ্যানও ফ্রান্সের পক্ষেই কথা বলছে। দুই দলের শেষ পাঁচ দেখায় চারবার জয় পেয়েছে ফরাসিরা। যদিও ওই চার জয়ের তিনটিই ছিল এক গোলের ব্যবধানে, যা প্রমাণ করে সুইডেন সহজে হার মানা দল নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, সুইডেনের আক্রমণভাগ ফ্রান্সকে কিছুটা চাপে ফেলতে পারলেও বর্তমান ফর্ম, স্কোয়াডের গভীরতা এবং আক্রমণের ধার বিবেচনায় স্পষ্ট ফেবারিট ফ্রান্সই। এমবাপ্পে-দেম্বেলে জুটি নিজেদের ছন্দ ধরে রাখতে পারলে সুইডেনের জন্য ম্যাচে টিকে থাকাই কঠিন হয়ে যেতে পারে।
এই ম্যাচের বিজয়ী দল বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করবে। তাই শেষ ৩২-এর এই লড়াই শুধু দুটি দলের জন্যই নয়, পুরো টুর্নামেন্টের অন্যতম আকর্ষণীয় ম্যাচ হিসেবেই দেখছেন ফুটবলবিশ্লেষকেরা।
মতামত দিন