চোরকে ‘পার্সেল’ বানিয়ে পুলিশে দিল জনতা!
ইন্দোনেশিয়ায় চুরি করতে এসে ধরা পড়া কয়েকজন সন্দেহভাজনকে এমনভাবে আটক করেছে স্থানীয় বাসিন্দারা, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রচলিত দড়ি বা হাতকড়ার বদলে মোটা কমলা রঙের প্যাকিং টেপ দিয়ে মাথা থেকে পা পর্যন্ত জড়িয়ে তাদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
ঘটনাটি ২০২৬ সালের জুলাই মাসের শুরুতে ঘটে। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, একটি দোকানে চুরির চেষ্টা করার সময় কয়েকজন সন্দেহভাজনকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন এলাকাবাসী। পরে তারা পালিয়ে যেতে না পারে, সে জন্য পুরো শরীর মোটা প্যাকিং টেপ দিয়ে শক্তভাবে পেঁচিয়ে ফেলা হয়। এতে তারা নড়াচড়া করারও সুযোগ পাননি। পরে পুলিশ এসে তাদের হেফাজতে নেয়।
ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিওতে দেখা যায়, টেপে মোড়ানো ব্যক্তিদের দেখতে অনেকটা বড় আকারের পার্সেলের মতো লাগছে। এ দৃশ্য দেখে নেটিজেনরা নানা ধরনের মন্তব্য করেন। কেউ লিখেছেন, ‘চোর নয়, যেন কুরিয়ারে পাঠানোর জন্য প্রস্তুত পার্সেল!’ আবার কেউ মজা করে বলেন, ‘এত শক্ত করে প্যাকেট করা হয়েছে যে খুলতেও কাঁচি লাগবে!’
তবে ঘটনাটি শুধু হাস্যরসেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে এভাবে জনসমক্ষে অপদস্থ করা বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কতটা গ্রহণযোগ্য। মানবাধিকার ও আইনের শাসনের দৃষ্টিকোণ থেকে এমন আচরণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যাপক বিতর্ক।
বিশ্লেষকদের মতে, অপরাধী সন্দেহে কাউকে আটক করা হলেও তার সঙ্গে আইনসম্মত আচরণ নিশ্চিত করা জরুরি। বিচার ও শাস্তি দেওয়ার দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আদালতের, সাধারণ মানুষের নয়।
মতামত দিন