Views Bangladesh Logo

শরীর দুর্বল লাগে কেন? জেনে নিন কারণ ও করণীয়

 VB  Desk

ভিবি ডেস্ক

সকালবেলা ঘুম থেকে ওঠার পর শরীর সতেজ থাকার কথা। কিন্তু অনেকেই অভিযোগ করেন—পর্যাপ্ত ঘুমের পরও যেন দুর্বলতা, ক্লান্তি ও অবসাদ কাটতে চায় না। সারাদিন কাজে মন বসে না, সামান্য পরিশ্রমেই হাঁপিয়ে ওঠেন। এমন পরিস্থিতিকে অনেকেই সাধারণ সমস্যা মনে করে এড়িয়ে যান। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে শরীর দুর্বল লাগা বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের শক্তি ও কর্মক্ষমতা নির্ভর করে পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাদ্য, নিয়মিত ব্যায়াম এবং সুস্থ জীবনযাপনের ওপর। এসবের কোনো একটিতে ঘাটতি দেখা দিলেই দুর্বলতা অনুভূত হতে পারে।

পর্যাপ্ত ঘুম না হলে ক্লান্তি কাটে না
অনেকের ধারণা, বিছানায় ৭-৮ ঘণ্টা থাকলেই পর্যাপ্ত ঘুম হয়েছে। কিন্তু ঘুমের মান ভালো না হলে বা মাঝরাতে বারবার ঘুম ভেঙে গেলে শরীর ও মস্তিষ্ক পূর্ণ বিশ্রাম পায় না। এর ফলে সকালে ঘুম থেকে উঠেও ক্লান্তি অনুভূত হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে ‘স্লিপ ইনারশিয়া’ বলা হয়। তাই প্রতিদিন অন্তত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ঘুম নিশ্চিত করা জরুরি।

বিভিন্ন রোগও হতে পারে কারণ
দীর্ঘদিনের দুর্বলতার পেছনে কিছু শারীরিক রোগও দায়ী হতে পারে। যেমন—রক্তশূন্যতা, ডায়াবেটিস, থাইরয়েডের সমস্যা, দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি সিনড্রোম, উদ্বেগ ও মানসিক চাপ এবং বিষণ্নতা।

এসব রোগের কারণে শরীরে শক্তি উৎপাদনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। তাই নিয়মিত দুর্বল লাগলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো উচিত।

অলস জীবনযাপন বাড়ায় অবসাদ
বর্তমান সময়ে দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করা, মোবাইল বা কম্পিউটারের সামনে সময় কাটানো এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাব দুর্বলতার অন্যতম কারণ। নিয়মিত ব্যায়াম না করলে শরীরের পেশি ও হৃদ্‌যন্ত্রের কার্যক্ষমতা কমে যায়, ফলে সামান্য কাজেও ক্লান্তি আসে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) পরামর্শ অনুযায়ী, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার শারীরিক ব্যায়াম করা উচিত।

বিষণ্নতা ও মানসিক চাপের প্রভাব
মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে শারীরিক শক্তির গভীর সম্পর্ক রয়েছে। বিষণ্নতা, উদ্বেগ বা অতিরিক্ত মানসিক চাপ ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায় এবং সার্বিকভাবে শরীরকে অবসন্ন করে তোলে। অনেক সময় রোগী বুঝতেই পারেন না যে তাঁর ক্লান্তির মূল কারণ মানসিক সমস্যা।

পানিশূন্যতায় কমে যায় কর্মশক্তি
শরীরে পর্যাপ্ত পানি না থাকলে রক্তসঞ্চালন ও বিপাকক্রিয়া ব্যাহত হয়। ফলে মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, ক্লান্তি এবং মনোযোগ কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ঘুমের পরিবেশও গুরুত্বপূর্ণ
ভালো ঘুমের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ প্রয়োজন। শোবার ঘর অন্ধকার, শান্ত ও আরামদায়ক না হলে ঘুমের মান নষ্ট হয়। ঘুমানোর আগে মোবাইল, টেলিভিশন বা ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চললে ঘুম ভালো হয় এবং সকালে সতেজ অনুভূত হয়।

পুষ্টির ঘাটতি হলে বাড়ে দুর্বলতা
সুষম খাদ্যের অভাবে শরীরে প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ ও প্রোটিনের ঘাটতি দেখা দেয়। এর ফলে শক্তি কমে যায় এবং ক্লান্তি বাড়ে। দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় ডিম, মাছ, মাংস, দুধ, কলা, বাদাম, ফলমূল ও শাকসবজি রাখা প্রয়োজন।

শরীরচর্চাই হতে পারে সহজ সমাধান
প্রতিদিন সকালে হাঁটা, হালকা ব্যায়াম বা স্ট্রেচিং শরীরকে সক্রিয় করে এবং রক্তসঞ্চালন বাড়ায়। বিশেষজ্ঞরা বলেন, মাত্র ৩০ মিনিট হাঁটাও শরীরকে ফুরফুরে রাখতে এবং ক্লান্তি কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

কখন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন?
যদি কয়েক সপ্তাহ ধরে পর্যাপ্ত ঘুম, ভালো খাবার ও নিয়মিত ব্যায়ামের পরও দুর্বলতা না কমে, অথবা এর সঙ্গে ওজন কমে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, বুক ধড়ফড়, মাথা ঘোরা বা অস্বাভাবিক অবসাদ যুক্ত হয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ