Views Bangladesh Logo

ভুয়া সনদে চাকরি করে ১৯ বছর, হাইকোর্ট কর্মচারীকে ৪২ লাখ টাকা ফেরতের নির্দেশ

জাল শিক্ষাগত সনদ দিয়ে প্রায় ১৯ বছর সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে চাকরি করার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সাবেক অফিস সহকারী মোহাম্মদ গোলাম মাওলাকে ৪২ লাখ ৩ হাজার ৯০১ টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চাকরির পুরো সময়ের বেতন ও ভাতা হিসেবে নেওয়া অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে তাকে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক অফিস আদেশে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। হাইকোর্ট বিভাগের সাধারণ ও সংস্থাপন শাখা থেকে আদেশটি জারি করা হয়েছে।

অফিস আদেশের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর হাতিরপুলের বাসিন্দা গোলাম মাওলা ২০০৭ সালে সুপ্রিম কোর্টে অফিস সহকারী পদে যোগ দেন। পরবর্তী সময়ে জাল শিক্ষাগত সনদ ব্যবহার করে চাকরি নেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর ২০২১ সালে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়।

বিভাগীয় তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তাকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়। একই সঙ্গে তার চাকরি শুরুর তারিখ থেকেই নিয়োগ বাতিল হিসেবে গণ্য করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফলে চাকরিকালে পাওয়া কোনো বেতন-ভাতা পাওয়ার অধিকার তার ছিল না বলে অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের আদেশে বলা হয়েছে, গোলাম মাওলা ২০০৭ সালের ৩১ জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চাকরির মেয়াদে বেতন ও ভাতা বাবদ মোট ৪২ লাখ ৩ হাজার ৯০১ টাকা গ্রহণ করেছেন। যেহেতু জাল সনদের ভিত্তিতে তার নিয়োগ হয়েছিল এবং চাকরি শুরু থেকেই বাতিল হিসেবে গণ্য হয়েছে, তাই ওই অর্থ ফেরত দিতে হবে।

আদেশ অনুযায়ী, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে অটোমেটেড চালান সিস্টেমের মাধ্যমে পুরো টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে গোলাম মাওলাকে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ ফেরতের বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের অফিস আদেশে আরও বলা হয়েছে, গোলাম মাওলার বিরুদ্ধে দায়ের করা বিভাগীয় মামলা নম্বর ৯/২০২১-এর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় প্রচলিত বিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে চাকরিচ্যুতির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জাল সনদের মাধ্যমে পাওয়া চাকরির সুবাদে উত্তোলন করা সরকারি অর্থ ফেরতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ