৩২ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগে বাধা নেই
দেশের প্রায় ৩২ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে চলা আইনি জটিলতার অবসান হলো। এসব বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগে আর কোনো বাধা নেই বলে চূড়ান্ত রায় দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ এই রায় দেন ।
এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আইনি গোলকধাঁধায় আটকে থাকা নিয়োগ প্রক্রিয়াটি এখন আবার গতি পাবে, যা দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শূন্যপদ পূরণে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আজ আদালতে উপস্থিত ছিলেন দেশের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। রায়ের পর উদ্ভূত আইনি জটিলতার আদ্যোপান্ত তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সরকার ২০১৩ সালে ২৬,০০০ বেসরকারি প্রাথমিক স্কুল অধিগ্রহণ করে। তখন সরকার একটি আইন প্রণয়ন করে। সে আইনে বলা হয়- অধিগ্রহণ করা স্কুলের সবাই যোগদান করতে পারবেন। প্রধান শিক্ষকসহ যারা যোগদান করবেন তারা সহকারী শিক্ষক হিসেবে গণ্য হবেন। অর্থাৎ প্রধান শিক্ষক হিসেবে তারা পূর্বে দায়িত্ব পালন করলেও আইন অনুযায়ী সবাই যোগদান করবেন সহকারী শিক্ষক হিসেবে। তখন তারা সেটা মেনে নেন। কিন্তু ওই আইনের মধ্যে একটা বিধান ছিল যেখানে বলা হলো- যারা সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত হবে, তাদের সিরিয়ালটা হবে উপরে। আর যারা অধিগ্রহণ করা বেসরকারি স্কুল থেকে এসেছেন তাদের সিরিয়ালটা হবে তাদের নিচে এবং তাদের আগের সময়কালের তারা যে চাকরি করেছেন, চাকরির মেয়াদ গণনার ক্ষেত্রে পেনশন ৫০ শতাংশ গণনা করা হবে, পেনশনের ক্ষেত্রে, গ্র্যাচুইটির ক্ষেত্রে। তারা বললেন- না, আমরা আগে প্রধান শিক্ষক ছিলাম, এখনও প্রধান শিক্ষক হব। আমরা এতদিনের সিনিয়রিটি, আমরা ৫০ শতাংশ কেন গণনা হবে? এবং তারা বললেন- ৫০ শতাংশ গণনা হলেও আমাদের পদোন্নতির ক্ষেত্রেও এগুলো হবে। তারা হাইকোর্টে রিট করলেন। সবগুলো মিলিয়ে হাইকোর্টে রায় দিলেন যে, তাদেরকে সিরিয়াল মোতাবেক পেছনে দেওয়া হলো, এই আইনটা বাতিল করে দিলেন। এই আইন বাতিলের বিরুদ্ধে সরকার আপিল করল। আজ আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বাতিল করেছেন।’
অধিগ্রহণকৃত স্কুল ২৬ হাজার হলেও বর্তমানে শূন্যপদের সংখ্যা ৩২ হাজার হওয়ার ব্যাখ্যায় অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল আরও বলেন, ‘অনেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক তো অবসরে গেছেন। ওগুলোতে নিয়োগ হয়নি। এই ২৬,০০০ এর সঙ্গে বাড়তে বাড়তে ২০১৩ সাল থেকে আজকে পর্যন্ত হয়েছে ৩২,০০০ হয়েছে। এগুলো সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।’
আইনি নথির তথ্যানুযায়ী, এর আগে ২০১৭ সালে ৫০ শতাংশ চাকরিকাল গণনা করে গ্রেডেশন তালিকা প্রণয়নপূর্বক জ্যেষ্ঠতা প্রদান, প্রধান শিক্ষক হিসেবে স্কেল প্রাপ্তি এবং নানাবিধ আর্থিক ও প্রশাসনিক সুবিধা প্রদানের দাবিতে সংক্ষুব্ধ শিক্ষকরা হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে সে সময় হাইকোর্ট রুল জারি করেছিলেন।
পরবর্তীতে রুলের দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০১৯ সালের ১১ মার্চ হাইকোর্ট রিটের রুলটি আংশিক মঞ্জুর করে রায় দেন। তবে হাইকোর্টের সেই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। আজ বৃহস্পতিবার সেই আপিল চূড়ান্তভাবে মঞ্জুর করেন আপিল বিভাগ, যার ফলে হাইকোর্টের পূর্বের রায়টি বাতিল হয়ে যায় এবং প্রধান শিক্ষক নিয়োগের পথ সম্পূর্ণ পরিষ্কার হয়।
মতামত দিন