ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহ-গোলাম আযমের ছবি পদদলিত করে বিক্ষোভ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের নেতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনের প্রতিবাদে জিন্নাহ ও গোলাম আযমের ছবিতে পদদলিত করে বিক্ষোভ করেছেন একদল শিক্ষার্থী।
মঙ্গলবার বেলা আড়াইটার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের একদল শিক্ষার্থী এ কর্মসূচি পালন করেন। ডাকসু ভবনের পাদদেশে দুটি এবং ডাকসু সংগ্রহশালার ভেতরে দুটি ছবি পদদলিত করে তাঁরা প্রতিবাদ জানান।
বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থী ওয়াসিম উদ্দিন রাহাত বলেন, ‘ভাষার জন্য সালাম, বরকতের রক্ত দেওয়া দেশ বাংলাদেশ। ৩০ লাখ মানুষের রক্তের বিনিময়ে এই দেশ স্বাধীন হয়েছে। সেখানে যারা আমাদের ভাষা কেড়ে নিতে চেয়েছিল, তাদের কাউকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থান দেওয়া আমরা কখনোই মেনে নেব না। গোলাম আযম একজন কুখ্যাত রাজাকার।’
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা ডাকসু সংগ্রহশালায় মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি লাগানোর পর বলেছিলেন, তার ইচ্ছা হয়েছে, এ জন্য তিনি ছবি লাগিয়েছেন। শিক্ষার্থীরা বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে তাদেরও ইচ্ছা হয়েছে, তাই তারা জিন্নাহ ও গোলাম আযমের ছবি পদদলিত করেছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শিব্বির আহমেদ বলেন, ‘ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক, যার ইশতেহারে মুক্তিযুদ্ধকে তুলে ধরার কথা ছিল, তিনিই একজন পাকিস্তানপন্থী ব্যক্তির ছবি ডাকসু সংগ্রহশালার দেয়ালে সম্মানের সঙ্গে লাগাতে চেয়েছেন। ক্ষমতা দেখিয়ে তিনি এটা করেছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীদের ক্ষমতা দিয়ে এবং বাংলাদেশপন্থীদের ক্ষমতা দিয়ে গোলাম আযম ও জিন্নাহর ছবি, পাকিস্তানপন্থীদের ছবি পায়ের নিচে লাগালাম। এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশে কোনো পাকিস্তানপন্থীর রাজনীতি সামনে আনা যাবে না।’
শিব্বির আহমেদ বলেন, ‘আমরা দেখেছি, বিগত দিনে শেখ মুজিবের ছবি দিয়ে রাজনীতি পরিচালনা করা হতো। এখানে স্পষ্ট যে শেখ মুজিবের ছবির বিকল্প হিসেবে তারা জিন্নাহ ও গোলাম আযমের ছবি আনতে চেয়েছে।’
ইংলিশ ফর স্পিকারস অব আদার ল্যাংগুয়েজ বিভাগের শিক্ষার্থী আশ শামস বলেন, ‘কিছুদিন ধরে দেখছি, জিন্নাহর মৃত্যুবার্ষিকীতে সম্ভবত ইনকিলাব মঞ্চ থেকে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। সেখানে ঝুমা আপু অতি উৎসাহের সঙ্গে পোস্টার শেয়ার করেন। পরবর্তী সময়ে জিন্নাহর ছবি যখন ডাকসু সংগ্রহশালা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় বা ফেলে দেওয়া হয়, তখন তিনি ফেসবুকে পোস্ট করেন যে ডাকসু সংগ্রহশালায় ছবি তুলে নেওয়া হচ্ছে, ভাঙচুর করা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জিন্নাহর ছবি সরিয়ে নেওয়া নিয়ে তাদের কতটা আক্ষেপ থাকতে পারে, তা আমরা দেখেছি। আমাদের দাবি, তারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ম্যান্ডেট নিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাই তাঁরা যেন বাংলাদেশের পক্ষে এবং বাংলাদেশপন্থীদের পক্ষে থাকেন।’
ডাকসু সংগ্রহশালা সংস্কারের পর গত রোববার চালু করা হয়। সেখানে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকার কোনো একক ছবি রাখা হয়নি। নতুন করে রাখা হয় পাকিস্তানের সাবেক গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি। এর মধ্যে একটি ছিল ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) দেওয়া তার বক্তব্যের সময়কার ছবি। ওই অনুষ্ঠানে তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘কেবল উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা।’
এ ছাড়া ১৯৪০ সালের মার্চে লাহোরে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের বার্ষিক সম্মেলনের একটি দলগত ছবি এবং ডন পত্রিকার প্রতিবেদনের পেপার কাটিং রাখা হয়। সংগ্রহশালায় ছাত্রসংঘের সাবেক নেতা আবদুল মালেকের ছবিও স্থান পায়।
এসব তথ্য প্রকাশের পর রোববার রাত থেকেই ফেসবুকে সমালোচনা শুরু হয়। পরে সোমবার দুপুরে ডাকসু সংগ্রহশালায় গিয়ে জিন্নাহর তিনটি ছবি ছিঁড়ে প্রতিবাদ জানান আবু তৈয়ব হাবিলদার নামের এক সাবেক শিক্ষার্থী। এরপর সেখানে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমকে ১৯৮১ সালে বায়তুল মোকাররমের সামনে জুতাপেটা করার একটি ছবি টানিয়ে দেন ছাত্র ফেডারেশনের নেতা-কর্মীরা।
মতামত দিন