ঢাবি ক্যাম্পাস ও শহীদ মিনারে জড়ো হচ্ছেন শিক্ষার্থী-জনতা
জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র প্রকাশের কর্মসূচি বাতিল করে 'মার্চ ফর ইউনিটি'র সিদ্ধান্ত জানিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এ কর্মসূচি পালন করবে তারা। আর এই কর্মসূচিতে যোগ দিতে এদিন সকাল থেকেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় জড়ো হচ্ছেন ছাত্র-জনতা।
দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে দলে দলে আসা মানুষ ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাইরে’, ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’, ‘রক্তের বন্যায় ভেসে যাবে অন্যায়’, ‘আবু সাঈদ মুগ্ধ শেষ হয়নি যুদ্ধ,’ ‘ফাঁসি ফাঁসি ফাঁসি চাই, খুনি হাসিনার ফাঁসি চাই’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন। ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, সিলেট, নাটোর, পঞ্চগড়, নোয়াখালী, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ছাত্র-জনতাও সকাল থেকে শহীদ মিনার ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অবস্থান নেন।
ভোরে রংপুর থেকে আসা কিছু শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অবস্থান নিয়েছেন। তাদের বক্তব্য- বিপ্লব ব্যর্থ হয়ে যাক এটা কেউ চায় না। বিপ্লব যেন আগামীর স্বপ্নের দেশ গড়তে ভূমিকা রাখে।
ময়মনসিংহ থেকে আসা একজন বৃদ্ধ ভিউজ বাংলাদেশকে বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে আমার নাতি সরাসরি অংশ নিয়েছে। ওকে আমরা নিষেধ করতাম কিন্তু ও বাড়ি থেকে পালিয়ে আন্দোলনে যেত। আজকে আমি আমার নাতির সাথে এসেছি। আগামীতে একটি সুন্দর সমৃদ্ধ দেশ সবার প্রত্যাশা।’
উল্লেখ্য, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে আজ শহীদ মিনারে ঘোষণাপত্র পাঠ করার কথা ছিল। একইসঙ্গে আওয়ামী লীগকে অপ্রাসঙ্গিক দল ঘোষণা ও ‘মুজিবাদী’ বর্তমান সংবিধানের কবর রচনার ঘোসণা দেয়া হয়। এরপর অন্তর্বর্তী সরকার এ ঘোষণাপত্র পাঠ করবে জানালে আজ ঘোষণাপত্র পাঠ হবে কি না তা নিয়ে সোমবার সন্ধ্যা থেকে বিভ্রান্তি শুরু হয়। এমন প্রেক্ষাপটে সোমবার রাত পৌনে ২টার দিকে রাজধানীর বাংলামটরে নিজেদের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। সেখানে বলা হয়, মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র প্রকাশ করা হবে না। তবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘মার্চ ফর ইউনিটি’ (ঐক্যের জন্য যাত্রা) কর্মসূচি পালন করা হবে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে