হরমুজ প্রণালী ‘খুব শিগগিরই’ খুলে দেওয়া হবে: ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সম্মতি থাকুক বা না থাকুক—হরমুজ প্রণালী খুব শিগগিরই খুলে দেওয়া হবে। তেহরানের কার্যত অবরোধে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার প্রেক্ষাপটে তিনি এ মন্তব্য করেন।
পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার আগে শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প জানান, উপসাগরীয় অঞ্চল উন্মুক্ত করতে যুক্তরাষ্ট্র পদক্ষেপ নেবে এবং এ কাজে অন্য দেশগুলোর সহযোগিতাও পাওয়া যাবে।
তিনি স্বীকার করেন, কাজটি সহজ হবে না। তবে দৃঢ়ভাবে বলেন, “খুব শিগগিরই আমরা এটি খুলে দেব।” হরমুজ প্রণালীতে ইরানের আরোপিত তথাকথিত ‘টোল বুথ’ বা শুল্ক ব্যবস্থাও তিনি প্রত্যাখ্যান করেন।
এদিকে তেহরান ইঙ্গিত দিয়েছে, যুদ্ধবিরতি বা কোনো সমঝোতা হলেও জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তার জন্য ফি আরোপ করা হতে পারে। এ বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, এমন কিছু হলে যুক্তরাষ্ট্র তা মেনে নেবে না।
তিনি আরও জানান, যেকোনো চুক্তির প্রধান শর্ত হবে—ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে। তার ভাষায়, “পারমাণবিক অস্ত্র নয়—এটাই মূল বিষয়ের ৯৯ শতাংশ।” এই শর্ত পূরণ হলে প্রণালীটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলে যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল কার্যত স্থবির রয়েছে। বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথে পরিবাহিত হয়। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন যেখানে প্রায় ১৩৫টি জাহাজ চলাচল করত, সেখানে এখন তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। শত শত ট্যাঙ্কারসহ ৬০০-এর বেশি জাহাজ এখনও পারস্য উপসাগরে আটকে আছে।
স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে শনিবার ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে নেতৃত্ব দেবেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তবে আলোচনার শর্ত ও প্রস্তাব নিয়ে এখনো দুই পক্ষের অবস্থান পরস্পরবিরোধী রয়ে গেছে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে