বেকারত্ব দূর করে তরুণদের বিদেশযাত্রা বন্ধ করুন
বেশ কয়েক বছর ধরেই পত্রপত্রিকায় লেখালেখি হচ্ছে, আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে, বেকারত্ব, দুর্নীতি, রাজনৈতিক অস্থিরতা, নানারকম অনিশ্চয়তার কারণে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক তরুণ-তরুণী বিদেশে চলে যাচ্ছেন। অনেক সময় বিদেশে গিয়ে সুযোগ পেলে তারা সেখানেই স্থায়ীভাবে থেকে যাচ্ছেন। এদের মধ্যে আছেন অনেক মেধাবী তরুণ। এতে করে দেশ মেধাহীন হয়ে পড়ছে।
আজ বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, বেকারত্ব নিয়ে দেশের ৪২ শতাংশ তরুণ উদ্বিগ্ন। ব্রিটিশ কাউন্সিলের উদ্যোগে ‘নেক্সট জেনারেশন বাংলাদেশ-২০২৪’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। গবেষকদের মতে, বেকারত্বের কারণগুলো হচ্ছে দুর্নীতি ও স্বজনপোষণ, নিয়োগে বৈষম্য এবং পারিবারিক জীবন ও কাজের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে না পারা। এসবের ফলে ৫৫ শতাংশ তরুণ বিদেশে যেতে আগ্রহী।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুলার রোডে ব্রিটিশ কাউন্সিল মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয় গতকাল দুপুরে। এবারের গবেষণাটি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ২০২৩ সালের নভেম্বর ও ডিসেম্বরে পরিচালিত হয়। বাংলাদেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী ৩ হাজার ৮১ জনের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়।
কথা হচ্ছে, এর মধ্যে দেশে এক গণঅভ্যুত্থান ঘটে গেছে। এই গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে ছাত্রদের নেতৃত্বে। বর্তমান সরকারেও উপদেষ্টা হিসেবে ছাত্রদের দুজন প্রতিনিধি আছেন, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হিসেবে আছেন আরেকজন সমন্বয়ক। প্রশ্ন এখন দুটি- এক. উক্ত গবেষণা প্রতিবেদন এখনো কার্যকর কি না? দুই. গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন বাস্তবতায় দেশের তরুণদের মধ্যে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটল কি না?
যদি দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তরটি ইতিবাচক হয়, তাহলে প্রথম প্রশ্নেটি অকার্যকর হয়ে যায়। আর যদি দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর এখনো নেতিবাচক থাকে, তাহলে প্রথম প্রশ্নটি এখনো কার্যকর থাকে। এখন একটু চীন ঘুরে আসা যাক। চীন বিপ্লবের পর সে দেশের প্রবাসী তরুণরা দলে দলে দেশে ফিরতে থাকে দেশ গড়ার কাজে যোগ দেয়ার জন্য।
বলা হচ্ছে আমাদের দেশেও একটি বিপ্লব ঘটেছে। অনেকে এই গণঅভ্যুত্থানকে বিপ্লব হিসেবে চিহ্নিত করছেন। তাহলে আমাদের দেশের কোনো তরুণ কি বিদেশের আরামের নিশ্চয়তার জীবন ছেড়ে দেশে এসে দেশ গড়ার কাজে অংশগ্রহণ করেছেন? এরকম কিছু শোনা গেছে এখন পর্যন্ত? না কি এখনো তরুণরা বলছেন, কোনোরকমে এই দেশ ছাড়তে পারলেই বাঁচে!
ব্রিটিশ কাউন্সিলের গবেষণাটি কার্যকর হবে কি হবে না, তা নির্ভর করবে এসব প্রশ্নের ওপর। গবেষণা ছাড়া শুধু উপরি চোখে দেখে অনেক কিছু বলা যায় না। সত্যিকারে বাংলাদেশের বর্তমান তরুণদের অবস্থা কী, এটা আমরা জানতে পারব আগামী বছর কোনো গবেষণা হলে।
আপাতত আমরা এই গণঅভ্যুত্থানের ওপর ভরসা রাখতে চাই। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন থেকেই এই গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল। বর্তমান সমন্বয়করা দেশের বেকারত্ব, স্বজনপ্রীতি, বৈষম্য দূর করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। রাজনৈতিক দলগুলোও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে যদি তারা ক্ষমতায় যেতে পারে, তাহলে দেশ পাল্টে ফেলবে।
এরকম কথা এ দেশের তরুণরা সেই স্বাধীনতার পর থেকেই শুনে এসেছে। বছরের পর বছর গেছে, আশার গুড়ে বালি পড়েছে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার, নৈরাজ্যের সাগরে আশার ভেলা ভাসেনি। তারপর অন্ধকার ট্যানেলে বন্দি থেকেও ট্যানেলের শেষে আলোর রেখার খোঁজ করাই মানুষের নিয়তি। আমরা চাই, এ দেশের তরুণরা আবার আশায় বুক বাঁধবে। বর্তমান সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলো দেশের তরুণরা কথা বিবেচনা করে বেকারত্ব দূরীকরণ ও বৈষম্যরোধে যথাবিহিত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে