Views Bangladesh Logo

দেশের পুঁজিবাজার হয়ে গেছে ‘ডাকাতদের আড্ডা’: প্রেস সচিব

দেশের পুঁজিবাজার ‘ডাকাতদের আড্ডা’ হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন, এক ডাকাত চলে গেলে আরেকটা ডাকাত আসছে। এ ক্ষেত্রে বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন। প্রধান উপদেষ্টাও পুঁজিবাজার সংস্কারে জোর দিয়েছেন।

রোববার (২৫ মে) রাজধানীর পল্টনে পুঁজিবাজার প্রতিবেদকদের সংগঠন ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরাম (সিএমজেএফ) আয়োজিত ‘সিএমজেএফ টক উইথ শফিকুল আলম’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিএমজেএফের সভাপতি গোলাম সামদানী ভূঁইয়া এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আবু আলী।

শফিকুল আলম বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা প্রতারণার শিকার হয়েছেন। যারা পুঁজিবাজার সংস্কারের দায়িত্বে ছিলেন, তারা বিভিন্ন গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করেছেন। এ কারণে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বঞ্চিত হয়েছেন।

তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ইউনূস চাচ্ছেন একটি নির্মোহ, গভীর সংস্কার। এজন্য বিশ্বমানের বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কাজ করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। তিন মাসের মধ্যে তারা সুপারিশ দেবে এবং সেই অনুযায়ী দ্রুত অ্যাকশন নেয়া হবে।

শফিকুল আলম জানান, এই সংস্কার কার্যকর হলে কোনো গোষ্ঠী পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না এবং সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব হবে।

অন্তর্বর্তী সরকারের মূল দায়িত্ব নির্বাচন, বিচার ও সংস্কার—এই তিন স্তরে সরকার কাজ করছে বলেও জানান শফিকুল আলম। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক সংস্কারের মধ্য দিয়ে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি যেমন এগিয়ে যাবে, তেমনি পুঁজিবাজারও উঠবে নতুন উচ্চতায়।

শফিকুল আলম বলেন, আমরা চেষ্টা করছি একটি ব্রডার ইকোনমিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে, যেখানে বাংলাদেশের অর্থনীতি ‘টেক-অফ’ করতে পারবে। অর্থনীতির উন্নতি হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে শেয়ারবাজারে। তখন দেশের পুঁজিবাজার একটি নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।

তিনি বলেন, ব্যাংকিং ব্যবস্থা ভূমিকম্পের মতো নাজুক অবস্থায় ছিল। আমরা সেখান থেকে ব্যাংকিং খাতকে গহ্বর থেকে তুলে পাহাড়ে নিয়ে যেতে কাজ করছি।

দুই সপ্তাহ আগে কারেন্সি ফ্লোটের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পরেও টাকার বড় ধরনের অবমূল্যায়ন হয়নি, যা সংস্কারের ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

নির্বাচন নিয়ে ধোঁয়াশা কেটে গেছে জানিয়ে প্রেস সচিব বলেন, ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

বন্দর উন্নয়ন প্রসঙ্গে শফিকুল আলম বলেন, চট্টগ্রাম টার্মিনাল কাউকে দেয়া হচ্ছে না। বরং বিশ্বের বড় বড় কোম্পানিগুলো যাতে বিনিয়োগ ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এফিশিয়েন্সি বাড়াতে পারে, সেটিই লক্ষ্য। ইতোমধ্যে তিন বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, পোর্টের সক্ষমতা বাড়াতে ডিপি ওয়ার্ল্ড (দুবাই), এপি মূলার-মার্স্ক (ডেনমার্ক) এবং পোর্ট অফ সিঙ্গাপুর অথরিটির সঙ্গে আলোচনা চলছে। গ্লোবাল ট্রেডে প্রটেকশনিজম বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময় গন্তব্য। আমরা চাই বাংলাদেশকে একটি ম্যানুফ্যাকচারিং হাবে পরিণত করতে। তবে এজন্য প্রথম শর্ত হলো—পোর্টকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা।

তিনি জানান, বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে সরকার কাজ করছে। জুন মাসেই চীনের বাণিজ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে ১৫০ জনের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফর করবে। তারা বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

তিনি বলেন, ট্যাক্স আদায়ে দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা ছিল। এনবিআরকে দুই ভাগ করার সিদ্ধান্ত সরকারের অগ্রাধিকার ছিল। এতে করে কর আদায় বৃদ্ধি পাবে এবং আয় বাড়বে।

তিনি আরও বলেন, ইনফ্লেশন কমানো বড় চ্যালেঞ্জ। সুদের হার বাড়ানোর পর ইতোমধ্যে মূল্যস্ফীতি কমা শুরু করেছে। আশা করছি, বছরের শেষে তা ৫ শতাংশের নিচে নামবে।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ