উত্তরাঞ্চলের বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ান
দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বন্যা শেষ হতে না হতেই ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে শেরপুর-ময়মনসিংহসহ উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলায়। এর মধ্যে শেরপুরের অবস্থাই সবচেয়ে খারাপ। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর ভারি বৃষ্টির পানিতে শেরপুরে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। নদনদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় পানি বাড়ায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এখন পর্যন্ত বন্যায় ৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
গতকাল রোববার (৬ অক্টোবর) সংবাদমাধ্যমে প্রাপ্ত খবরে জানা যায়, শনিবার সকাল থেকে নতুন করে শেরপুর সদর এবং নকলা উপজেলার আরও ৬টি ইউনিয়ন পানিতে প্লাবিত হয়েছে। নতুন নতুন আরও এলাকা প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকায় শেরপুরের মহারশি, সোমেশ্বরী, চেল্লাখালী, ভোগাই ও মৃগী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে শেরপুরের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি হয়েছে। এখন পর্যন্ত শেরপুরের ৫টি উপজেলার ২৮টি ইউনিয়নের দুই শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। আর পানিবন্দি হয়ে পড়েছে দেড় লাখেরও বেশি মানুষ।
সবচেয়ে দুঃখজনক খবর, যা দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বন্যা নিয়ে দেশের মানুষের যেমন তাৎক্ষণিক ও ব্যাপক সাড়া পাওয়া গিয়েছিল উত্তরাঞ্চলের বন্যা নিয়ে ততটা সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। ত্রাণ বিতরণ ও উদ্ধার কাজে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো অনেকটাই নীরব। এর কারণ কী? একই দেশের মানুষ নিয়ে একই দেশের মানুষের কেন এত অবহেলা?
এর কারণ হয়তো দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বন্যা ছিল আকস্মিক এবং ওসব অঞ্চলে কদাচিৎ বন্যা হয়, তাই ওসব অঞ্চলে হঠাৎ বন্যায় সবাই একদিকে যেমন দিশেহারা হয়ে পড়েছিল, বন্যার্তদের উদ্ধারে ও বন্যাদুর্গত এলাকায় জরুরি ত্রাণ পৌঁছে দেয়ার কাজে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর তৎপরতা ও সাড়া পাওয়া গিয়েছিল অভূতপূর্ব।
আরেকটি বিষয় হচ্ছে, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের প্রথম পর্যায়ে ফেনী-কুমিল্লা অঞ্চলের বন্যাকে অনেকে রাজনীতিকরণও করেছিল। ভারতবিরোধী একটা জাগরণ গড়ে উঠেছিল, যে, ওই বন্যা হয়েছে ভারতের অভ্যন্তরে কয়েক আন্তর্জাতিক নদীর ড্যাম্ব ছেড়ে দেয়ার কারণে। উত্তরাঞ্চলের বন্যাও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণেই হচ্ছে, তবে, এই ঢল অনেকটা প্রাকৃতিক। ফি বছর বর্ষাকালে এমন ঢল দেখে অভ্যস্ত উত্তরাঞ্চলের মানুষ। এমন বন্যাও তাদের কাছে অপ্রত্যাশিত নয়। তবে, এবারের বন্যা মাত্রাতিরিক্ত, এবং আগের বছরগুলোর চেয়ে অনেক বেশি ভয়াবহ।
তাই অঞ্চলভেদে বিবেচনা না করে, কোনো রাজনৈতিক বর্গে না ফেলে শেরপুর-ময়মনসিংহসহ উত্তরাঞ্চলের বন্যার্তদের পাশে মানবিক আবেদন নিয়ে সবাইকে একযোগে এগিয়ে আসতে হবে। সরকারসহ, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে হবে। আমরা চাই, শিগগিরই উত্তরাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হোক। বন্যাদুর্গত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে ত্রাণ পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হোক। পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধার করা হোক। উদ্ধার তৎপরতাসহ তাদের খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা এবং জরুরিসেবা নিশ্চিত করা হোক।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে