Views Bangladesh Logo

এসএসসিতে সাফল্যের মিষ্টিমুখ যেন তেতো না হয়ে যায়

 VB  Desk

ভিবি ডেস্ক

এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর ঘরে ঘরে চলছে আনন্দ-উৎসব। সন্তানের সাফল্যে বাবা-মায়েরা মিষ্টির দোকানে ছুটছেন, আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে রসগোল্লা, সন্দেশ, চমচমসহ হরেক রকমের মিষ্টি। উৎসবের এই আবহে অনেকেই না বুঝে খেয়ে ফেলছেন মাত্রাতিরিক্ত মিষ্টি। কিন্তু চিকিৎসকরা বলছেন, আনন্দের এই মুহূর্তে একটু সচেতন না হলে শরীরে দেখা দিতে পারে নানা জটিলতা।

রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি
অতিরিক্ত মিষ্টি খেলে সবচেয়ে আগে প্রভাব পড়ে রক্তে শর্করার মাত্রার ওপর। সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রেও হঠাৎ করে অনেকটা চিনি শরীরে প্রবেশ করলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা দ্রুত বেড়ে যায়, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় "সুগার স্পাইক"। যাদের পরিবারে ডায়াবেটিসের ইতিহাস আছে, তাদের জন্য এটি বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। দীর্ঘমেয়াদে বারবার এই অবস্থার পুনরাবৃত্তি ইনসুলিন প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে দিতে পারে, যা পরবর্তীতে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের পথ প্রশস্ত করে।

হজমে গোলযোগ ও পেটের সমস্যা

একসঙ্গে অনেক মিষ্টিজাতীয় খাবার খেলে হজম প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটে। অতিরিক্ত চিনি অন্ত্রে গাঁজন প্রক্রিয়া বাড়িয়ে দেয়, ফলে পেট ফাঁপা, গ্যাস, বদহজম এমনকি ডায়রিয়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে ছানা বা দুধ দিয়ে তৈরি মিষ্টি বেশি খেলে যাদের ল্যাকটোজ সহনশীলতা কম, তাদের ক্ষেত্রে সমস্যা আরও প্রকট হয়।

দাঁত ও মাড়ির ক্ষতি
মিষ্টি খাবারে থাকা চিনি মুখগহ্বরে ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করে, যা দাঁতের এনামেল ক্ষয় করে দাঁতে গর্ত বা ক্যাভিটি তৈরি করতে পারে। বাচ্চা ও কিশোর-কিশোরীরা যেহেতু এই আনন্দের মূল কেন্দ্রবিন্দু, তাদের মধ্যে মিষ্টি খাওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে বলে দাঁতের যত্নে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।

ওজন বৃদ্ধি ও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য ঝুঁকি
মিষ্টিতে থাকা অতিরিক্ত ক্যালরি দ্রুত শরীরে চর্বি হিসেবে জমা হয়। ঘি বা তেলে ভাজা মিষ্টান্ন যেমন গোলাপজাম, চমচম উচ্চ ক্যালরিসমৃদ্ধ হওয়ায় এগুলো বেশি খেলে অল্প সময়েই ওজন বেড়ে যেতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এই অভ্যাস স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয় বলে সতর্ক করেন পুষ্টিবিদরা।

ক্লান্তি ও মনোযোগে ঘাটতি
চিনি খাওয়ার পরপরই শরীরে সাময়িক উদ্দীপনা তৈরি হলেও কিছুক্ষণ পরই রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত নেমে যায়। একে বলা হয় "সুগার ক্র্যাশ", যার ফলে দেখা দেয় ক্লান্তি, অবসাদ ও মনোযোগে ঘাটতি। উৎসবের দিনে দীর্ঘক্ষণ সক্রিয় থাকতে হলে এই বিষয়টি মাথায় রাখা জরুরি।

চিকিৎসকদের পরামর্শ, আনন্দ উদযাপনে মিষ্টি খাওয়া নিষেধ নয়, তবে তা হওয়া উচিত পরিমিত। একসঙ্গে অনেক মিষ্টি না খেয়ে অল্প অল্প করে সারাদিনে ভাগ করে খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং সম্ভব হলে মিষ্টির পাশাপাশি ফল বা হালকা খাবার রাখার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদরা। যাদের ডায়াবেটিস বা হৃদরোগের ইতিহাস আছে, তাদের ক্ষেত্রে মিষ্টি খাওয়ার আগে সতর্কতা অবলম্বন করাই শ্রেয়।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ