মালিকানার অধিকার থেকে বলছি
বাংলাদেশে যদি আরেকটি নির্বাচন হয়, তবে শোনো- আমার ভোট আমি দেবো, তুমি না। আমি আমার অধিকার বিক্রি করবো না, কারও গোলাম হবো না। তুমি যদি তোমার ভোট বিক্রি করো, তবে শুধু তুমি নও- আমার মতো কোটি কোটি মানুষকে তুমি গোলাম বানিয়ে দিচ্ছ। আর না! আমি বাংলাদেশে যেতে পারি না, কারণ সেখানে আমার জন্য লাঞ্ছনা অপেক্ষা করে, অপমান অপেক্ষা করে। কেন জানো? কারণ আমি কারও গোলাম নই- হতে পারি না, হতে চাই না! আমরা দেশ স্বাধীন করেছিলাম, কারও দাসত্ব স্বীকার করার জন্য নয়।
আমি ১৯৭১-এর শিশু মুক্তিযোদ্ধা। তখন হাতে ছিল অস্ত্র, এখন হাতে কলম- আমি যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছি। আমি ২০২৪-এর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের দূর প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা, যে দেশের অর্থনীতির চাকা ঘোরাচ্ছে। আমি তরুণ প্রজন্মের নতুন স্বপ্নের অনুপ্রেরণা, সংস্কারের অগ্রদূত, দেশ গড়ার কারিগর। আর তুমি আমাকে আবার গোলাম বানাবে? না, এবার আর না।
তুমি সেবা দিতে এসেছ, না কি সেবা নিতে? আমি দেশের মালিক। জনগণ দেশের মালিক; কিন্তু তোমরা ভোট কিনে, ক্ষমতা দখল করে, রাষ্ট্রকে ব্যক্তিগত সম্পত্তি বানিয়ে নিয়েছ। তুমি নেতা নও, তুমি প্রভু হতে চাও। তুমি সেবা দিতে আসোনি, সেবা নিতে এসেছ। রাষ্ট্রের টাকা লুট করতে, জনগণের ঘাম-রক্ত চুষতে, দেশের ভাগ্যকে বন্দি করতে এসেছ; কিন্তু এবার আর না। এবার জনগণ ঠিক করবে- কী হবে আর কী হবে না। শাসনব্যবস্থা বদলাতে হবে। শাসনব্যবস্থা গণতন্ত্র থেকে জনতন্ত্রে যেতে হবে। দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে। পরিবারতন্ত্র শেষ করতে হবে। সন্ত্রাসী রাজনীতি থামাতে হবে। অবিচারের বদলে সুবিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তুমি যদি জনগণের সেবা করতে চাও, তবে কথার ফুলঝুরি নয়- লিখিত অঙ্গীকার দাও। দলিল কর, স্বাক্ষর কর, দেখাও কীভাবে তুমি দায়িত্ব পালন করবে। জনগণ তখন বিবেচনা করবে তোমাকে ভোট দেবে কি দেবে না।
নির্বাচন সেদিনই হবে যেদিন আমরা, জনগণ, সিদ্ধান্ত নেবো। কোনো দুর্নীতিবাজ রাজনৈতিক দলের ইচ্ছেমতো নয়। নির্বাচন হবে জনগণের শর্তে, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। বাংলাদেশ কেন দুর্নীতির শীর্ষে? জানো, কেন বাংলাদেশ আজ বিশ্বের শীর্ষ দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটি? কারণ তোমরা ভোট কিনে ক্ষমতায় এসে রাষ্ট্রকে ব্যক্তিগত সম্পত্তি বানিয়ে নিয়েছ। ক্ষমতায় বসার পর রাষ্ট্রের সম্পদ লুট করেছ, তোমাদের পরিবারের জন্য ব্যাংক খালি করেছ, দেশের মানুষকে অভাবে রেখে নিজেদের প্রাসাদ গড়েছ। দেশের টাকা সুইস ব্যাংকে, আর জনগণ না খেয়ে মরে!
তোমরা কী করেছ?
* ব্যাংক লুট করে টাকা পাচার করেছ।
* রাষ্ট্রীয় প্রকল্পের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছ।
* নির্বাচনের নামে প্রহসন করেছ, জাল ভোটে ক্ষমতা কুক্ষিগত করেছ।
* শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছ, মেধাবীদের দেশ ছাড়তে বাধ্য করেছ।
* স্বাস্থ্যসেবাকে ব্যবসা বানিয়েছ, গরিব মরলেও তোমাদের কিছু যায় আসে না।
আরও বলতে হবে?
এবার জনগণ বলবে কী হবে আর কী হবে না। তোমরা দশকের পর দশক ধরে জনগণকে শাসন করেছ, শোষণ করেছ। এবার জনগণ বলবে- কী হবে আর কী হবে না। বাংলাদেশের মালিক জনগণ, কোনো দুর্নীতিবাজ পরিবার নয়। যদি সত্যিকারের গণতন্ত্র চাও, তাহলে নির্বাচন হবে অবাধ ও সুষ্ঠু। জনগণ ভোট দেবে, তুমিও দেবে, আমিও দেবো। কেউ কারও ভোট বিক্রি করবে না, কেউ কাউকে গোলাম বানাবে না। এই দেশ কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়- এই দেশের মালিক জনগণ।
এবার সিদ্ধান্ত তোমার- তুমি কি দেশ গড়বে, না দেশ বিক্রি করবে? তুমি কি জনগণের সেবা করবে, না তাদের শোষণ করবে? তুমি কি স্বচ্ছ রাজনীতি করবে, না আগের মতোই দুর্নীতিকে লালন-পালন করবে? সিদ্ধান্ত তোমার। তুমি বদলাবে, না ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে? এখানে কোনো মিনতি নেই- এখানে আদেশ আছে, দাবি আছে, প্রজ্ঞা আছে। কারণ আমি গোলাম নই- আমি দেশের মালিক।
রহমান মৃধা: গবেষক ও সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন।
মতামত দিন