মার্কিন হুমকি উপেক্ষা করে ইরান যুদ্ধের বিরুদ্ধে অনড় স্পেন
ইরানের ওপর ডোনাল্ড ট্রাম্পের চলমান হামলায় সহায়তা না দিলে স্পেনের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য বন্ধ করার হুমকি দিলেও স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ তার অবস্থান অটল রেখেছেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানায়, সানচেজ মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সংঘাতকে ‘কোটি কোটি মানুষের ভাগ্য নিয়ে রুশ রুলেট খেলা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
বুধবার এক ভাষণে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তার সরকারের অবস্থান তিন শব্দের – ‘নো টু ওয়ার’।
তিনি সতর্ক করেছেন, কারও ভয়ের কারণে স্পেন এমন কোনো কর্মকাণ্ডের অংশ হবে না, যা বিশ্বের জন্য ক্ষতিকর এবং দেশের স্বার্থ ও মূল্যবোধের পরিপন্থি।
এর আগে মঙ্গলবার জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জের সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প স্পেনকে সমালোচনা করে বলেন, দক্ষিণ স্পেনের যৌথ সামরিক ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করতে না দেওয়ার কারণে দেশটি ‘ভয়াবহ’ আচরণ করছে। এ সময় তিনি স্পেনের সঙ্গে সব ধরনের লেনদেন বন্ধের নির্দেশ দেন।
জবাবে সানচেজ বলেন, ‘একটি অবৈধ কাজের উত্তর আরেকটি অবৈধ কাজ দিয়ে দেওয়া যায় না। এভাবেই মানবতার বড় বিপর্যয়গুলো শুরু হয়।’
তিনি ২০০৩ সালের ইরাক আক্রমণের উদাহরণ টেনে সতর্ক করেন যে সেই যুদ্ধ ইউরোপে সবচেয়ে বড় নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করেছিল।
সানচেজ আরও উল্লেখ করেন, ‘কিছু নেতা নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে যুদ্ধের ধোঁয়াশা তৈরি করে আর নির্দিষ্ট কিছু মানুষের পকেট ভারী করে। যখন বিশ্ব হাসপাতাল নির্মাণ বন্ধ করে ক্ষেপণাস্ত্র বানানো শুরু করে, তখন কেবল তারা লাভবান হয়।’
ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যয় জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার প্রস্তাব স্পেন গ্রহণ না করায় ট্রাম্প ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সবাই উৎসাহিত ছিল, কিন্তু স্পেন তা করেনি। এখন তারা বলছে আমরা তাদের ঘাঁটি ব্যবহার করতে পারব না।
তবে জার্মান চ্যান্সেলর মের্জ নিশ্চিত করেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বাণিজ্য চুক্তি থেকে স্পেনকে বাদ দেওয়ার সুযোগ নেই।
ইইউ কমিশনের গ্রিন ট্রানজিশন প্রধান তেরেসা রিবেরা বলেন, ইইউর বাণিজ্য নীতি ব্লক হিসেবে পরিচালিত হয়, কোনো একক দেশের ওপর প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয়।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে