Views Bangladesh Logo

শনিরআখড়ায় ব্যবসায়ীকে গুলি করার মামলায় মঞ্জুরুলের ২ দিনের রিমান্ড

ঢাকার শনিরআখড়া এলাকায় একটি ক্রোকারিজের দোকানে ঢুকে ব্যবসায়ী আসলাম খানকে গুলি করার মামলায় মঞ্জুরুল ইসলাম নামে এক আসামির দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আব্দুস ছবুর বিষয়টি জানিয়েছেন।

এর আগে শনিবার রাত সোয়া ৮টার দিকে কদমতলী থানার দক্ষিণ দনিয়া-শনিরআখড়া এলাকায় একটি ক্রোকারিজের দোকানে ঢুকে ব্যবসায়ী আসলাম খানকে গুলি করা হয়। ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় মঞ্জুরুল ইসলামকে আটক করা হয়। পুলিশ তার কাছ থেকে দুটি পিস্তল, নয় রাউন্ড গুলি ও একটি গুলির খোসা উদ্ধারের কথা জানিয়েছে।

গুলিবিদ্ধ আসলামকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পুলিশ জানায়, মোটরসাইকেলে করে আসা দুই ব্যক্তি তাকে লক্ষ্য করে গুলি করে পালানোর চেষ্টা করে।

এ ঘটনায় কদমতলী থানার এসআই অশোক কুমার সরকার বাদী হয়ে অস্ত্র আইনে মামলা করেন। ওই মামলায় মঞ্জুরুলকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে রোববার কারাগারে পাঠানো হয়।

পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কদমতলী থানার এসআই মিঠুন মণ্ডল মঞ্জুরুলের পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করেন। শুনানির জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য করা হয়।

মঙ্গলবার মঞ্জুরুলকে আদালতে হাজির করা হলে তার মাথায় ব্যান্ডেজ দেখা যায়। তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ড আবেদনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। তবে আসামির পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।

এ সময় বিচারক মঞ্জুরুলের কাছে তার কিছু বলার আছে কি না জানতে চাইলে তিনি নিজেই ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য দেন।

মঞ্জুরুল বলেন, তিনি ও জসীম মহাখালী এলাকায় থাকেন। অনেক আগে মোটরসাইকেল নিয়ে জসীমের সঙ্গে তার বিরোধ হয়। জসীম তার মোটরসাইকেল নিয়ে যান বলে দাবি করেন তিনি। ওই মোটরসাইকেলের দাম হিসেবে ৭০ হাজার টাকা দাবি করা নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয় বলেও জানান মঞ্জুরুল।

আদালতে মঞ্জুরুল দাবি করেন, তিনি ব্যবসায়ী আসলামকে গুলি করেননি। তার ভাষ্য, জসীমই গুলি করেছেন। জসীম জুরাইনের ‘কালা মীরের ডান হাত’ বলেও আদালতে দাবি করেন তিনি।

নিজেকে নির্দোষ দাবি করে মঞ্জুরুল বলেন, তার স্ত্রী ও মেয়ের ছবি দেখিয়ে তাকে জিম্মি করে মহাখালী থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে ঘটনাস্থলে নিয়ে আসা হয়। জসীম তাকে হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, সঙ্গে না গেলে তার স্ত্রী ও মেয়ের ক্ষতি করা হবে, এমনকি তাদের মেরে ফেলা হবে।

মঞ্জুরুল আরও বলেন, আমি গুলি করিনি। গুলি করেছে জসীম। আমার কাছে কিছু পায়নি। আমার স্ত্রী আর মেয়ের ছবি দেখিয়ে আমাকে জিম্মি করে নিয়ে আসছে।

রিমান্ড না দেওয়ার জন্য আদালতের কাছে আকুতি জানিয়ে তিনি বলেন, তার শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। মাথা ঘুরছে এবং দাঁড়িয়ে থাকতে পারছেন না। রিমান্ডে নিলে তার মৃত্যু হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

মঞ্জুরুল বলেন, আমার অবস্থা খুব খারাপ। রিমান্ড দিলে কিছু দিন পর দেন। যা সত্য তাই বলব। এখন রিমান্ডে দিলে মারাও যেতে পারি। আমার মাথায় কাজ করছে না।

তিনি আরও বলেন, ওদের কথা না শুনলে আমার স্ত্রী-মেয়েকে মেরে ফেলত। আমি ছাড়া ওদের আর কেউ নাই। আপনি (বিচারক) যা বলবেন, তাই করব। দুইদিন আগে পরে মারা যাব। মানসিক চাপে আছি, রিমান্ড দিয়েন না।

পরে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত মঞ্জুরুল ইসলামের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ