Views Bangladesh Logo

নাহিদ ইসলামের বেলায় ‘শোকজ’, তারেক রহমানের বেলায় ইসি ‘নিশ্চুপ’: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে সব প্রার্থী সমান আচরণ পাচ্ছেন না—এমন অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, একদিকে কোনো প্রার্থীকে শোকজ করা হচ্ছে, অন্যদিকে একই ধরনের আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় প্রভাবশালী নেতাদের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন নীরব থাকছে।

বুধবার প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ শেষে ঢাকার রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, কড়াইল বস্তিবাসীদের ফ্ল্যাট করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন, কিন্তু এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘গতকাল তারেক রহমান কড়াইল বস্তিতে গিয়ে ফ্ল্যাট করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যা নির্বাচনী আইন ও বিধির সরাসরি লঙ্ঘন। অথচ নাহিদ ইসলামের বেলায় শোকজ দেওয়া হয়। এখানে স্পষ্ট বৈষম্য দেখা যাচ্ছে।’

তিনি অভিযোগ করেন, প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন সবাইকে এক চোখে দেখছে না। তিনি বলেন, ‘এক পক্ষের জন্য এক নীতি, আরেক পক্ষের জন্য আরেক নীতি—এটা কোনোভাবেই সুষ্ঠ নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করে না।’

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দের পর বৃহস্পতিবার থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করবেন প্রার্থীরা। এর আগে প্রচার চালানো আচরণবিধি লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হয়।

এনসিপির শাপলা কলি প্রতীকে ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, তার নির্বাচনী প্রচারের দুটি প্রধান লক্ষ্য থাকবে। প্রথমত, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা। দ্বিতীয়ত, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দখলদারত্বমুক্ত একটি ‘ইনসাফের ঢাকা-৮’ গড়ে তোলা।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার শহীদ ওসমান হাদির কবর জিয়ারতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করবেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা পেশিশক্তি বা টাকানির্ভর রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। গণ–অভ্যুত্থানের পর একটি সুন্দর ও স্বচ্ছ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই আমরা নির্বাচনে অংশ নিতে চাই।’

নিজের বিরুদ্ধে শোকজ নোটিশ প্রসঙ্গে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানান, গণভোটের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ক্যাম্পেইনের জন্য একটি ব্যানার লাগানো হয়েছিল, যেখানে কোনো প্রতীক ছিল না। তবুও নির্বাচন কমিশন তাকে শোকজ করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি দাবি করেন, সেই ব্যানার সিটি করপোরেশন, বিএনপির কর্মী ও ম্যাজিস্ট্রেট একসঙ্গে গিয়ে খুলে ফেলেছে।

এ প্রসঙ্গে তার প্রশ্ন, ‘যদি প্রশাসন ও একটি রাজনৈতিক দল একসঙ্গে কাজ করে, তাহলে সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের নিশ্চয়তা দেবে কে?’

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ