ডব্লিউএইচওর আঞ্চলিক প্রধানের পদ থেকে সায়মা ওয়াজেদের পদত্যাগ
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। তিনি বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে।
রয়টার্স জানায়, জালিয়াতির অভিযোগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চলা তদন্তের মধ্যেই বুধবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক টেড্রোসের কাছে তিনি তার পদত্যাগপত্র জমা দেন।
২০২৪ সালের শুরুর দিকে পাঁচ বছরের মেয়াদে ডব্লিউএইচওর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের দায়িত্ব নেন সায়মা ওয়াজেদ। গত বছরের শেষ দিকে তাকে বেতনবিহীন প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠায় ডব্লিউএইচও। এর আগে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে তাকে প্রথমবার ছুটিতে পাঠানো হয়। একই বছরের মার্চে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে মামলা করে।
রয়টার্স জানায়, গত ৩ জুলাই ডব্লিউএইচওকে দেওয়া সায়মা ওয়াজেদের আইনজীবীদের একটি চিঠিতে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, চীনে সফরসংক্রান্ত আর্থিক প্রতারণা এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগে সায়মার বিরুদ্ধে তদন্ত করছে ডব্লিউএইচও। সায়মা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
সংবাদমাধ্যমটির তথ্যমতে, সায়মা ওয়াজেদের আইনজীবীরা গত ৩ জুলাই ডব্লিউএইচওকে পাঠানো একটি চিঠিতে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর বিস্তারিত তুলে ধরেন। সেখানে জানানো হয়, চীন সফরসংক্রান্ত আর্থিক প্রতারণা এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে তদন্ত পরিচালনা করছে সংস্থাটি। অন্যদিকে, বাংলাদেশে অবৈধভাবে জমির প্লট অধিগ্রহণের একটি অভিযোগও আনে ডব্লিউএইচও।
তবে ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুসকে পাঠানো পদত্যাগপত্রে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সায়মা ওয়াজেদ। জমি অধিগ্রহণের বিষয়ে তার দাবি, ডব্লিউএইচওতে যোগ দেওয়ার আগেই শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য বিশেষ আইনের আওতায় তিনি ওই জমি পেয়েছিলেন। এছাড়া চীন সফরের ৯০১ ডলারের আর্থিক খরচের বিষয়টি সহকারী কর্মকর্তার প্রশাসনিক ভুলের কারণে ঘটেছিল। একইসঙ্গে শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়ে তার বক্তব্য, অটিজম নিয়ে কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পাওয়া সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রির বিষয়টি তিনি আগেই মহাপরিচালককে স্পষ্ট করেছিলেন।
পদত্যাগপত্রে সায়মা ওয়াজেদ উল্লেখ করেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের অঞ্চলের দেশগুলোর সেবা করার জন্য আঞ্চলিক পরিচালক নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি, সেই দায়িত্ব আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করেছেন। তবে বেতনবিহীন ছুটিতে রাখার সিদ্ধান্তের পর প্রায় এক বছর ধরে কোনও পারিশ্রমিক না পাওয়ায় তার আর্থিক পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে তিনি পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সায়মা ওয়াজেদ আরও বলেন, ডব্লিউএইচওর ওপর তার আস্থা ও বিশ্বাস হারিয়েছে। দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালনে তাকে বাধা দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মতামত দিন