তীব্র তুষারঝড়ে বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া-চীন-জাপান ও সিরিয়া
তীব্র তুষারপাত ও শীতঝড়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও এশিয়ার একাধিক দেশ। যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে বরফে ঢাকা সড়কে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় শতাধিক গাড়ি জড়িয়েছে। অন্যদিকে, রাশিয়ার কামচাটকা অঞ্চলে ৬০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ তুষারপাত দেখা দিয়েছে। এশিয়ায় জাপান ও চীনে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জনজীবন। তবে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার বাস্তুচ্যুত মানুষ।
যুক্তরাষ্ট্রে শীত মৌসুমের শুরু থেকেই বৈরী আবহাওয়ার কবলে রয়েছে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য। সোমবার মিশিগানের অটোয়া কাউন্টিতে ঘন তুষারপাত ও কম দৃশ্যমানতার কারণে একের পর এক দুর্ঘটনায় শতাধিক গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুর্ঘটনায় কয়েকজন আহত হলেও প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। বরফে আটকে পড়ে ৩০ থেকে ৪০টি ট্রাক। জমে থাকা তুষারের কারণে উদ্ধারকাজ চালাতে হিমশিম খাচ্ছে জরুরি সেবাকর্মীরা। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছে। মিনেসোটা, ওহিও, পেনসিলভানিয়াসহ একাধিক রাজ্যে আগাম শীতকালীন ঝড়ের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ফ্লোরিডা ও জর্জিয়াতেও মঙ্গলবার পর্যন্ত বৈরী আবহাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে।
রাশিয়ার কামচাটকা উপদ্বীপে তুষারপাতের ভয়াবহতা আরও প্রকট। স্থানীয় আবহাওয়া বিভাগ জানায়, চলতি মাসে কিছু এলাকায় দুই মিটার পর্যন্ত বরফ জমেছে। ছয় ফুটেরও বেশি তুষারে ঢেকে গেছে সড়ক, বাড়িঘর ও যানবাহন। দিনের বেলাতেও ট্রাফিক লাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে মানুষকে। বরফচাপায় পড়ে অন্তত দুইজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
এশিয়াতেও তুষারঝড়ের প্রভাব স্পষ্ট। জাপানের উত্তর-পশ্চিম উপকূলে ভারী তুষারপাত ও প্রবল বাতাসের কারণে বাতিল হয়েছে বহু ফ্লাইট, ব্যাহত হচ্ছে রেল চলাচল। হাজার হাজার যাত্রী পড়েছেন ভোগান্তিতে। টোকিওর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, রোববার পর্যন্ত এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
চীনের সাংহাইয়ে বিরল তুষারপাত দেখা দিয়েছে। আগামী কয়েকদিন এই অবস্থা থাকতে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে তুষারপাত ঘিরে বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক স্থানগুলোতে দর্শনার্থীদের ভিড় বেড়েছে।
সবচেয়ে করুণ পরিস্থিতি সিরিয়ার ইদলিব অঞ্চলে। তীব্র তুষারপাত ও শীতের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছে। পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র ও খাবারের অভাবে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে অসংখ্য শিশু। মানবিক সহায়তার অভাবে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে