Views Bangladesh Logo

রাজধানীতে পাইপলাইন গ্যাসের তীব্র সংকট, চরম ভোগান্তিতে নগরবাসী

কিছুদিন ধরে ঢাকাসহ দেশজুড়ে এলপিজি গ্যাসের সংকট চলমান। এবার রাজধানীতে পাইপলাইন গ্যাসেও তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। অনেক বাসাবাড়িতে চুলায় গ্যাস না থাকায় রান্না করা যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে কেউ সিলিন্ডার, কেউ লাকড়ি আবার কেউ বৈদ্যুতিক চুলা ব্যবহার করছেন। এতে বাড়তি খরচ ও ঝামেলায় মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো পড়েছে চাপে।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। টানা কয়েক দিন ধরেই গ্যাস সংকটে ভুগছেন গ্রাহকেরা।

মিরপুর এলাকার বাসিন্দা নিগার সুলতানা (৪০) বলেন, সাধারণত ভোরে গ্যাস থাকলে সারাদিনের রান্না সেরে নেওয়া যায়। কিন্তু গত তিন দিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত একেবারেই গ্যাস নেই। ফলে হোটেল থেকে নাস্তা কিনে খেতে হচ্ছে।

একই অবস্থা মোহাম্মদপুর এলাকাতেও। জাপান গার্ডেন সিটির এক বাসিন্দা জানান, গ্যাস না থাকায় সকালে বাসায় নাস্তা হয়েছে শুধু বিস্কুট দিয়ে। দোকানে ব্রেডও পাওয়া যায়নি। রুটি-পরোটার হোটেলগুলোতে লম্বা লাইন। তিনি একটি স্কুলে শিক্ষকতা করেন। স্কুলের ডে-কেয়ারে শিশুদের জন্য রান্না হয়, কিন্তু গ্যাস না থাকায় গত দুই দিন তা বন্ধ। শিশুদের হোটেল থেকেই খাবার কিনে দিতে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, গ্যাস সংকটে বাড়ির বয়স্ক ও শিশু সদস্যদের খাবার ব্যবস্থাপনায় সবচেয়ে বেশি সমস্যা হচ্ছে। এই সুযোগে ইনডাকশন চুলা ও রাইস কুকারের দামও বেড়েছে। অনেককে বাড়তি দামে এসব কিনতে হচ্ছে।

গ্যাস সংকটের বিষয়ে জানতে চাইলে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির অপারেশন ডিভিশনের জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী কাজী মোহাম্মদ সাইদুল হাসান বলেন, আমিনবাজার থেকে আসা গ্যাস পাইপলাইনে বুড়িগঙ্গা নদীর নিচে লিকেজ দেখা দিয়েছে। নিরাপত্তার কারণে মোহাম্মদপুরসহ কয়েকটি এলাকায় গ্যাসের চাপ কমিয়ে রাখা হয়েছে।

তিনি জানান, গত তিন দিন ধরে কোস্ট গার্ড, ফায়ার সার্ভিস ও ডুবুরি দল একসঙ্গে মেরামতের কাজ করছে। বুধবার একটি লিক ক্ল্যাম্প বসানো হয়েছে। তবে পুরোপুরি মেরামত শেষ হয়নি। বিশেষ আকারের নতুন ক্ল্যাম্প তৈরি করে আবার কাজ শুরু করতে হবে। আপাতত লিকেজ কিছুটা কমানো গেছে এবং ধাপে ধাপে গ্যাসের চাপ বাড়ানো হবে।

বর্তমানে কাফরুল, মোহাম্মদপুর, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, উত্তরা, বাড্ডা, রামপুরা, বাসাবো, মগবাজারের নয়াটোলা, পুরান ঢাকার সূত্রাপুর, রায়সাহেব বাজার, লক্ষ্মীবাজারসহ অনেক এলাকায় তীব্র গ্যাস সংকট চলছে। অনেক বাসায় গ্যাসের চাপ এতটাই কম যে চুলা জ্বলছে না। কোথাও ভোর বা গভীর রাতে অল্প সময়ের জন্য গ্যাস মিললেও তা দিয়ে স্বাভাবিক রান্না সম্ভব হচ্ছে না।

পুরান ঢাকার সূত্রাপুর এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, গত এক মাস ধরে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত গ্যাস থাকে না। আর গত তিন দিন একেবারেই গ্যাস নেই। আজ সকালে নাস্তা না করেই অফিসে যেতে হয়েছে। হোটেলেও দীর্ঘ লাইনের কারণে খাবার পাওয়া যাচ্ছে না।

সাইদুল হাসান বলেন, সবচেয়ে বেশি অভিযোগ এসেছে মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে। সেখানে গ্যাস সঞ্চালন লাইনে লিকেজ থাকায় সরবরাহ কমানো হয়েছিল। এখন ধীরে ধীরে গ্যাসের চাপ বাড়ানো হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, দুই-এক দিনের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

তিনি আরও বলেন, কিছু এলাকায় অবৈধ সংযোগের কারণে বৈধ গ্রাহকরাও পর্যাপ্ত গ্যাস পাচ্ছেন না। অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্নের চেষ্টা চলছে, তবে একা তিতাসের পক্ষে এটি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।

এদিকে পাইপলাইনে গ্যাসের সংকট বাড়ায় এলপি গ্যাসের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। তবে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন নির্ধারিত দামে অনেক জায়গায় এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন ভোক্তারা।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ