নেপালে ফের ভয়াবহ বন্যা, নিহত অন্তত ২১ জন
নেপালে টানা ভারী বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও পাঁচজন নিখোঁজ এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন। গত ২৪ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর দেশটির বিভিন্ন এলাকায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের পর নতুন করে বন্যা ও ভূমিধস দেখা দেয়।
দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এনডিআরআরএমএ) তথ্য অনুযায়ী, ভূমিধসে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে। এতে ১৪ জনের মৃত্যু এবং পাঁচজন নিখোঁজ রয়েছেন। বন্যায় চারজন এবং অবিরাম বৃষ্টিজনিত বিভিন্ন ঘটনায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
বৃষ্টিপাতের কারণে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় ঘরবাড়ি, সড়ক ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যা ও ভূমিধসে ১৪৩টি বাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস এবং আরও ৫১টি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্যোগে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৭৪৭টি পরিবার।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঝুঁকিপূর্ণ বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ২ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বন্যা ও ভূমিধসে আটকে পড়াদের উদ্ধারে নেপালি সেনাবাহিনীসহ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা হেলিকপ্টার ব্যবহার করছেন।
অতিরিক্ত বৃষ্টির ফলে দেশটির বেশ কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি বা ওপরে উঠে গেছে। মধ্য নেপালের নারায়ণী নদীর পানি সতর্কসীমা অতিক্রম করে আশপাশের বসতিতে প্রবেশ করেছে। ভূমিধসের কারণে বিভিন্ন সড়কে যান চলাচলও ব্যাহত হয়েছে।
এদিকে, গত চার দিনে নেপালের ১৮৬টি বৃষ্টিপাত পরিমাপক কেন্দ্রে ১০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। নওয়ালপরাসি ইস্টের দেদাউনে সর্বোচ্চ ৫৪৪ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়। কাস্কির পাঞ্চাসেতে ৫০০ দশমিক ২ মিলিমিটার এবং তানাহুনের আত্রাউলিতারে ৪৭২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকিতে থাকা এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমের পাশাপাশি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রয়েছে।
মতামত দিন