Views Bangladesh Logo

প্রার্থিতা প্রত্যাহার

তারেক রহমানের নির্দেশ মেনে নিলেন কয়েকজন বিদ্রোহী প্রার্থী

বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা অনেকটা ‘পথের কাঁটা’ হয়ে উঠেছিলেন দলটির জন্য। এতে দলটির ভোটব্যাংক ভাগ হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। বিষয়টি বিএনপি বেকায়দায় ফেলেছিল। এ নিয়ে বিএনপির মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠাও তৈরি হয়েছিল। কিন্তু তারেক রহমানের ‘আহ্বানে’ সে সমস্যা কাটতে শুরু করেছে। অনেক বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন দলের স্বার্থে।

দলীয় সূত্র জানায়, বিদ্রোহী প্রার্থীদের তালিকা তৈরি করে তাদের গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে পর্যায়ক্রমে ডাকা হচ্ছে। সেখানে সাক্ষাতের পর বেশ কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রকাশ্যে দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

গত ৮ জানুয়ারি দুপুরে গুলশান কার্যালয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ একে একরামুজ্জামান। সাক্ষাতের পর ভিডিওবার্তায় তিনি তার প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।

তিনি বলেন, দীর্ঘ ২০ বছরের রাজনৈতিক জীবনে বিএনপির পতাকাতলে ছিলেন এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশনায় ধানের শীষের পক্ষে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন।

একসময় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা থাকা একরামুজ্জামান দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় বহিষ্কৃত হন। এর আগে তিনি একাধিকবার বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিলেও দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন।

ঝিনাইদহ-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুর্শিদা খাতুন (মুর্শিদা জামান পপি) মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। তিনি জেলা বিএনপির উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য এবং সাবেক সংসদ সদস্য শহিদুজ্জামান বেল্টুর স্ত্রী। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনটি বিএনপি শরিক দল গণসংহতি আন্দোলনের জন্য ছেড়ে দেয়। ওই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক এমপি এমএ খালেক। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় তাকে বহিষ্কার করা হলেও বুধবার সন্ধ্যায় তিনি তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সাক্ষাতের পর ওই আসনসহ অন্যান্য এলাকায় বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদের বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিলেন দলের সাবেক এমপি আতাউর রহমান খান আঙ্গুর। তাকেও গুলশান কার্যালয়ে ডেকে কথা বলেছেন তারেক রহমান। এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন দলীয় একটি সূত্র।

মাদারীপুর-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান পলাশ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।

ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের প্রতি রাজনৈতিক আনুগত্য রেখে এবং দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করছেন।

সুনামগঞ্জ-৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মিজানুর রহমান চৌধুরীও নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, দল ও দেশের স্বার্থে তারেক রহমানের অনুরোধে তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

দলীয় নেতারা মনে করছেন, তারেক রহমানের এই উদ্যোগে আরও কয়েকজন বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন। এ উদ্যোগ আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থানকে শক্তিশালী করবে।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ