Views Bangladesh Logo

প্রতিদিনের যে ৭ অভ্যাস অজান্তেই ক্ষতি করছে হৃদযন্ত্রের

 VB  Desk

ভিবি ডেস্ক

অনেকেরই ধারণা বুকে তীব্র ব্যথা, শ্বাসকষ্ট কিংবা আকস্মিক অস্বস্তি অর্থাৎ হৃদরোগ মানেই তা আগে থেকে বড় কোনো লক্ষণ জানান দিয়ে আসবে। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে ভিন্ন কথা। আসল বিপদটা প্রায়ই দানা বাঁধে একেবারে নীরবে, বছরের পর বছর ধরে, কোনো রকম সতর্কবার্তা ছাড়াই। আমাদের দৈনন্দিন জীবনের খুব সাধারণ ও দেখতে নিরীহ কিছু অভ্যাস প্রতিনিয়ত হৃদপিণ্ডের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করে চলেছে, যা আমরা নিজেরাও ঠিকমতো টের পাই না। ধীরে ধীরে এই চাপ জমতে জমতে একসময় রূপ নেয় মারাত্মক পরিণতির।

চিকিৎসকরা বলছেন, হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখতে বড় কোনো পরিবর্তনের দরকার নেই, প্রয়োজন শুধু কিছু ছোট অথচ ক্ষতিকর অভ্যাস চিহ্নিত করে তা শুধরে নেওয়া। জেনে নেওয়া যাক এমন সাতটি অভ্যাসের কথা, যা আজই বদলে ফেলা জরুরি।

ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকা

অফিসের ডেস্ক জব, যানজটে দীর্ঘ সময় আটকে থাকা কিংবা অবসর সময়ে স্ক্রিনের সামনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়ে দেওয়া—এসব এখন আধুনিক জীবনের প্রায় অনিবার্য বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ শরীর নড়াচড়া না করলে রক্ত সঞ্চালন ধীর হয়ে পড়ে। এর ফলে শরীরে ধীরে ধীরে জমতে থাকে অতিরিক্ত চর্বি, বাড়তে থাকে ওজন, রক্তচাপ ওঠানামা করতে শুরু করে অস্বাভাবিকভাবে। দীর্ঘমেয়াদে এসব মিলিয়েই হৃদরোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

ঘুমকে অবহেলা করা

ঘুম শুধু বিশ্রামের জন্যই নয়; ঘুমের সময়েই আমাদের শরীর ভেতরের ক্ষয়ক্ষতি পূরণ করে, কোষ মেরামত করে, হরমোনের ভারসাম্য ঠিক রাখে। নিয়মিত সাত ঘণ্টার কম ঘুম হলে শরীরে মানসিক চাপ সৃষ্টিকারী হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়, যা সরাসরি রক্তচাপ বাড়িয়ে হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়। দীর্ঘদিন ধরে অপর্যাপ্ত ঘুম চলতে থাকলে তা হয়ে দাঁড়ায় নীরব ক্ষতির অন্যতম বড় উৎস।

খাবারে লবণের লুকোচুরি

আমরা অনেকেই পাতে বাড়তি লবণ না খেয়ে নিজেদের নিরাপদ ভাবি। কিন্তু আসল সোডিয়াম লুকিয়ে থাকে প্রক্রিয়াজাত খাবার, প্যাকেটজাত স্ন্যাকস আর রেস্তোরাঁর খাবারে—যেখানে চোখে দেখা যায় না, অথচ পরিমাণে থাকে অনেক বেশি। এই লুকানো সোডিয়াম রক্তনালীতে চাপ সৃষ্টি করে রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়, ফলে হৃদযন্ত্রকে স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ পরিশ্রম করতে হয় রক্ত সঞ্চালনের জন্য।

দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ

আধুনিক জীবনে ব্যস্ততা আর মানসিক চাপ যেন অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু প্রতিনিয়ত দুশ্চিন্তা ও উদ্বেগে থাকলে তা হৃদযন্ত্রের ওপর মারাত্মক ধকল ফেলে, বাড়িয়ে দেয় প্রদাহ ও রক্তচাপ। তাই বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন—ধ্যান, প্রিয় শখ চর্চা কিংবা প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে নিয়মিত মনকে হালকা করার অভ্যাস গড়ে তোলার।

ডায়েটের নামে খাবার বাদ দেওয়া

ওজন কমানোর ইচ্ছা কিংবা ব্যস্ততার অজুহাতে অনেকেই সকালের নাস্তা বা দুপুরের খাবার এড়িয়ে যান। এই অভ্যাস রক্তে শর্করার স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়। ফলে দিনের পরের ভাগে দেখা দেয় অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা বা অস্বাস্থ্যকর ফাস্টফুডের প্রতি ঝোঁক, যা দীর্ঘমেয়াদে হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়।

শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা

হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে জিমে গিয়ে ভারী ব্যায়াম করাই একমাত্র উপায় নয়। অলসভাবে বসে থাকার বদলে দিনে অন্তত কিছুক্ষণ হাঁটা, সাইকেল চালানো কিংবা লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করার মতো ছোট ছোট অভ্যাসও রক্ত সঞ্চালন সচল রাখতে এবং হৃদযন্ত্রকে শক্তিশালী করতে যথেষ্ট কার্যকর ভূমিকা রাখে।

ধূমপান ও অতিরিক্ত মদ্যপান

এই ঝুঁকির কথা প্রায় সবারই জানা, তবু অনেকেই একে যথেষ্ট গুরুত্ব দেন না। ধূমপান ও অতিরিক্ত মদ্যপান সরাসরি রক্তনালীর দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত করে। এর ফলে রক্তনালীতে চর্বি জমে তা ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়ে যায়, যা পরবর্তীতে আকস্মিক হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

চিকিৎসকদের মতে, এই সাতটি অভ্যাসের কোনোটিই আলাদাভাবে খুব বড় ঝুঁকি মনে না হলেও, দীর্ঘমেয়াদে এগুলো একসঙ্গে মিলে হৃদযন্ত্রের ওপর যে চাপ তৈরি করে, তা প্রতিরোধযোগ্য হৃদরোগের একটি বড় অংশের পেছনে দায়ী। তাই সচেতনতা আর ছোট ছোট জীবনধারার পরিবর্তনই হতে পারে সুস্থ হৃদযন্ত্র নিশ্চিত করার প্রথম ও সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ