ইরান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও আরব সামরিক প্রধানদের গোপন বৈঠক
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ ও আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই জার্মানিতে গোপন বৈঠকে মিলিত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও কয়েকটি আরব দেশের সামরিক বাহিনীর প্রধানরা। ইসরায়েলি দুই কর্মকর্তার বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) কমান্ডার এডমিরাল ব্র্যাড কুপারের আয়োজনে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। তবে বৈঠকের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো দেশের পক্ষ থেকেই আগে ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়ানোর পর এটিই এ ধরনের প্রথম উচ্চপর্যায়ের সামরিক বৈঠক। ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই—এমন কয়েকটি উপসাগরীয় আরব দেশের সামরিক প্রধানদের জন্য বৈঠকটি সরাসরি মতবিনিময়ের একটি বিরল সুযোগ তৈরি করে।
বৈঠকে এডমিরাল ব্র্যাড কুপার ছাড়াও ইসরায়েল, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, জর্ডান ও মিসরের সামরিক বাহিনীর প্রধানরা অংশ নেন। মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানি হামলা সত্ত্বেও মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার করা হবে না বলে বৈঠককারীদের আশ্বস্ত করেন কুপার। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা করেন তিনি।
এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানান, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) চিফ অব স্টাফ জেনারেল ইয়াল জামির বিভিন্ন ফ্রন্টে আইডিএফের সামরিক কার্যক্রম সম্পর্কে বৈঠকে সামগ্রিক ধারণা দেন।
সেন্টকম এক বিবৃতিতে বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এতে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ নিয়ে আলোচনার জন্য জার্মানিতে অনুষ্ঠিত একটি নির্ধারিত সম্মেলনে আটটি দেশের জ্যেষ্ঠ সামরিক নেতাদের আতিথেয়তা দেওয়া হয়েছে।
২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে আব্রাহাম চুক্তি সই হওয়ার পর ইসরায়েল ও অঞ্চলের অন্যান্য দেশের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা বাড়তে থাকে। চুক্তির পর ইসরায়েলকে মার্কিন ইউরোপীয় কমান্ডের (ইউএসইউকম) আওতা থেকে সরিয়ে সেন্টকমের অধীনে আনা হয়। এর ফলে আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে আরব দেশগুলোর সঙ্গে ইসরায়েলের যৌথভাবে কাজ করার সুযোগ আরও সহজ হয়।
চলমান যুদ্ধের মধ্যে ইসরায়েল সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিজস্ব আয়রন ডোম ব্যবস্থা ও কর্মী মোতায়েন করেছে। একই সঙ্গে দেশটিকে রিয়েল-টাইম গোয়েন্দা ও নজরদারি সহায়তাও দিচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মতামত দিন