Views Bangladesh Logo

গ্রুপ-‘সি’

লড়াকু মানসিকতায় চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতে প্রস্তুত স্কটল্যান্ড

ইউরোপের ঐতিহ্যবাহী দল স্কটল্যান্ড আবারও ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে। দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক শক্তি, লড়াকু মানসিকতা এবং সংগঠিত দলগত ফুটবলের জন্য পরিচিত এই দলটি সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে। তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে গড়া বর্তমান স্কটল্যান্ড দলটি কৌশলগতভাবে অনেক বেশি পরিণত, যা বড় দলগুলোর জন্য তাদের কঠিন প্রতিপক্ষ করে তুলেছে। রক্ষণে দৃঢ়তা বজায় রেখে মাঝমাঠ থেকে দ্রুত আক্রমণে ওঠা, উইং-ব্যাকদের ব্যবহার এবং সেট-পিস থেকে সুযোগ তৈরি করাই তাদের মূল কৌশল।

বিশ্বকাপে অতীত রেকর্ড ও অংশগ্রহণ
স্কটল্যান্ড একাধিকবার বিশ্বকাপ খেলেছে। ১৯৫৪ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার পর তারা ১৯৭৪, ১৯৭৮, ১৯৮২, ১৯৮৬ ও ১৯৯০-এই আসরগুলোতে নিয়মিত খেলেছে। তবে প্রতিবারই তারা গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়, যা তাদের জন্য হতাশার বিষয়। দীর্ঘ সময় বিশ্বকাপ থেকে দূরে থাকার পর সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তারা বাছাইপর্বে উন্নতি দেখিয়েছে এবং আবারও বড় মঞ্চে ফেরার লক্ষ্যে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

শক্তিমত্তা
সর্বশেষ ফিফা প্রকাশিত র‍্যাংকিং (১ এপ্রিল ২০২৬) অনুযায়ী স্কটল্যান্ড জাতীয় ফুটবল দলের অবস্থান ৪৩তম। র‌্যাংকিংয়ে মাঝামাঝি অবস্থানে থাকলেও তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো জমাট রক্ষণভাগ ও শারীরিক শক্তি। ডিফেন্সের খেলোয়াড়রা শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে খেলেন এবং প্রতিপক্ষকে জায়গা না দিয়ে চাপ সৃষ্টি করতে পারেন। মাঝমাঠে তারা বল দখল ও প্রতিপক্ষের আক্রমণ ভাঙতে দক্ষ। দ্রুতগতির উইং-ব্যাক ও ফরোয়ার্ডদের মাধ্যমে তারা হঠাৎ করেই পাল্টা আক্রমণে উঠে গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারে। দলগত বোঝাপড়া ও লড়াকু মানসিকতা তাদের আলাদা করে তোলে।

দুর্বলতা
তবে স্কটল্যান্ডের কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। অনেক সময় তারা আক্রমণে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারে না এবং গোল করার ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়ে। শক্তিশালী দলের বিপক্ষে দীর্ঘ সময় রক্ষণ সামলাতে গিয়ে চাপে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়া সৃজনশীল প্লেমেকারের অভাবের কারণে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে মাঝেমধ্যে সমস্যায় পড়ে।

গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়
বর্তমান স্কটল্যান্ড দলে কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় রয়েছেন যারা ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দিতে পারেন। আক্রমণভাগে লিন্ডন ডাইকস গোল করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। মাঝমাঠে স্কট ম্যাকটোমিনে, যিনি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড-এর হয়ে খেলেন, দলের ভারসাম্য রক্ষা করেন। এছাড়া জন ম্যাকগিন সৃজনশীলতা ও আক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। ডিফেন্সে অ্যান্ড্রু রবার্টসন, যিনি লিভারপুল-এর তারকা। গতি ও অভিজ্ঞতায় দলকে শক্তিশালী করেন। গোলপোস্টে অ্যাঙ্গাস গান নির্ভরতার প্রতীক হতে পারেন।

গ্রুপ প্রতিপক্ষ
সি গ্রুপে স্কটল্যান্ডের প্রতিপক্ষ ব্রাজিল, মরক্কো এবং হাইতি। ব্রাজিল বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী দল হওয়ায় তাদের বিপক্ষে ম্যাচটি হবে বড় পরীক্ষা। মরক্কোর সংগঠিত মাঝমাঠ ও রক্ষণভাগের দেওয়ার ভাঙ্গাও কঠিন হবে তাদের। তবে হাইতির বিপক্ষে তারা তুলনামূলকভাবে এগিয়ে থাকবে। যদিও বিশ্ব মঞ্চে খেলা কোনো দলকেই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই, এটাও তাদের মাথায় রাখতে হবে।

এবারের বিশ্বকাপে সম্ভাবনা
স্কটল্যান্ডের লক্ষ্য হবে গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে নকআউট পর্বে জায়গা করে নেওয়া। যদি তারা তাদের শারীরিক খেলা, রক্ষণভাগের দৃঢ়তা এবং সেট-পিস দক্ষতা কাজে লাগাতে পারে, তবে বড় দলগুলোর বিপক্ষে চমক দেখানোর সামর্থ্য তাদের রয়েছে। শৃঙ্খলা, পরিশ্রম এবং আত্মবিশ্বাসের সমন্বয়ে স্কটল্যান্ড এবারের বিশ্বকাপে কঠিন গ্রুপে নিজেদের নতুনভাবে প্রমাণ করতে মরিয়া থাকবে।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ