দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১০-১৬ দিনের দীর্ঘ ছুটি
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে এবার দীর্ঘ ছুটির আমেজ পেতে যাচ্ছেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। ক্যালেন্ডারের নির্ধারিত ছুটির পাশাপাশি সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হয়ে প্রতিষ্ঠানভেদে এই বিরতির মেয়াদ দাঁড়াচ্ছে টানা ১০ থেকে ১৬ দিন পর্যন্ত। তবে প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ছুটির এই চূড়ান্ত সময়সূচিতে কিছুটা ভিন্নতা আসতে পারে।
২০২৬ সালের সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে ১৮ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত পাঁচ দিনের ছুটি বরাদ্দ রয়েছে। এর ঠিক আগে ১৬ ও ১৭ অক্টোবর (শুক্রবার ও শনিবার) সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় বন্ধের সূচনা হবে ১৬ অক্টোবর থেকেই। পূজার ছুটির পর ২৩ ও ২৪ অক্টোবর পুনরায় শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক বন্ধ এবং ২৫ অক্টোবর (রোববার) লক্ষ্মীপূজার ছুটি রয়েছে। ফলে স্কুল শিক্ষার্থীরা ১৬ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ১০ দিনের বিরতি পেতে পারেন। তবে একাডেমিক প্রয়োজনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর ছুটির এই সূচি সমন্বয় বা পুনর্নির্ধারণ করতে পারে।
কলেজ শিক্ষার্থীদের জন্য ছুটির মেয়াদ আরও দীর্ঘ। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) কলেজ শাখার বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, দুর্গাপূজা, বিজয়া দশমী, প্রবারণা পূর্ণিমা ও লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষ্যে ১৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ১২ দিনের ছুটি রাখা হয়েছে। এর সাথে ১৬-১৭ অক্টোবর এবং ৩০-৩১ অক্টোবরের চারদিনের সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হয়ে কলেজ বন্ধ থাকবে মোট ১৬ দিনদুর্গাপূজায় দীর্ঘ ছুটির সুযোগ: স্কুল-কলেজ ও মাদরাসায় টানা ১৬ দিন পর্যন্ত বন্ধের সম্ভাবনা
অন্যদিকে, সরকারি-বেসরকারি ও এমপিওভুক্ত ইবতেদায়ী মাদরাসায় ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত তিন দিনের সরকারি ছুটি নির্ধারণ মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য দুর্গাপূজার ছুটি বাড়ানো হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তালিকা অনুযায়ী, ২০ অক্টোবর (মঙ্গলবার) মহানবমী ও ২১ অক্টোবর (বুধবার) বিজয়া দশমীর নির্ধারিত ছুটির সাথে ২২ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) নির্বাহী আদেশে অতিরিক্ত ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে পরবর্তী দুই দিনের সাপ্তাহিক ছুটিসহ সরকারি চাকরিজীবীরাও টানা পাঁচ দিনের ছুটি উপভোগ করবেন।
তবে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এই ছুটির চিত্র কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজস্ব একাডেমিক ক্যালেন্ডার ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ছুটি নির্ধারণ করে থাকে। ফলে সরকারি ছুটির সাথে মিল রেখে কিংবা অতিরিক্ত দিন যোগ করে নিজ নিজ কর্তৃপক্ষ পৃথক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিজ নিজ ক্যাম্পাসের পরীক্ষার সময়সূচি, ক্লাস ও আবাসিক হল বন্ধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে।
মতামত দিন