Views Bangladesh Logo

খাড়িয়া নদী বাঁচান

স্কুলে পড়াকালে নদীবিষয়ক রচনায় এক সময় আমরা লিখতাম- বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এ কথা আর কতদিন সত্য হবে জানি না। বাংলাদেশের নদীগুলো একের পর এক মরে যাচ্ছে। শুধু জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণেই না, মানুষের দখলদারিত্বের কারণেও নদীগুলো শেষ হয়ে যাচ্ছে।

গতকাল সোমবার (২৯ জুলাই) পত্রিকায় প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে হারাতে বসেছে ময়মনসিংহের খাড়িয়া নদীটি। ময়মনসিংহ সদর ও ফুলপুর উপজেলার মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া এই নদীটি উৎপত্তি হয়েছিল পুরাতন ব্রহ্মপুত্র থেকে। ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নদীতে এক সময় বড় বড় মালবোঝাই নৌকা চলত, স্রোত খেলত এবং প্রচুর মাছ পাওয়া যেত। আজ সেই নদীটিকে একটি খালের মতো মনে হয়।

নদীটি পরিণত হয়েছে ময়লা ফেলার ভাগাড়ে। যার যার ইচ্ছেমতো নদীর ওপর দোকানপাট, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, আবাসন ইমারতও তুলছে। নদীটির যেন কোনো অভিভাবক নেই, প্রশাসনের চোখের সামনেই এসব ঘটছে। সরেজমিন প্রতিবেদনে জানা গেছে, ময়লা-আবর্জনা ফেলার মতো কোনো ব্যবস্থা নেই ফুলপুর উপজেলায়। স্থানীয়রা তাই এই নদীটিকে ব্যবহার করেন ডাস্টবিনের মতো। যদিও স্থানীয় মেয়র সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, নদীটি পরিষ্কারের পরিকল্পনা প্রশাসনের আছে।

কবে নাগাদ সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে তা তিনিও জানেন না। ‘নদী একটি জীবন্ত সত্তা’ ২০১৯ সালে আদালতের এই রায়ের পরও বাংলাদেশের নদীগুলো হত্যা করা হচ্ছে ক্রমাগত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও ঘোষণা দিয়েছিলেন ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের প্রধান নদীগুলো সরকার দখলমুক্ত করবে। তার তেমন লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মূলত দায়িত্বহীনতার কারণেই নদীগুলো রক্ষা পাচ্ছে না। একটি নদী একেবারে মরে গেলে তাকে আর রক্ষা করা সম্ভব হবে না।

তাই খাড়িয়া নদীকে অবিলম্বে দখলমুক্ত করতে হবে। আমরা চাই নদীটি বাঁচাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। প্রশাসনের পাশাপাশি জনসাধারণের এ ব্যাপারে সচেতন হওয়া জরুরি। নদীতে ময়লা ফেলা কোনো সুশিক্ষিত সুনাগরিকের পরিচয় নয়। তারপরও বাংলাদেশের বেশির ভাগ খাল-নদী মূলত নষ্ট হচ্ছে এ কারণেই। এ ব্যাপারে প্রশাসনেরও কঠিন আইন করা উচিত। কেউ যেন নদীতে বা খালে ময়লা ফেলতে না পারে, তার ব্যবস্থা প্রশাসনকেই করতে হবে।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ