টানা তৃতীয় দিন রিয়াদে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদকে লক্ষ্য করে আবারও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা।
সোমবার (১২ অক্টোবর) ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রটি আকাশেই প্রতিহত ও ধ্বংস করার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। এর মধ্য দিয়ে টানা তিন দিন রিয়াদে হামলার ঘটনা ঘটল। এর আগে দুই দিনের হামলায় দেশটির প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রাণহানি ও ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটে।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল মালিকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জানান, হুথিদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রিয়াদের দিকে আসার সময় প্রতিহত করা হয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্রটি ধ্বংস করা হয়। তবে হামলার সময় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনার খবর পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে, হুথি বিদ্রোহীদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি রিয়াদে হামলার দায় স্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, সৌদি রাজধানীর কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। তবে হামলার লক্ষ্যবস্তু ও এর ফলাফল নিয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ এবং হুথিদের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে।
এর আগে শনিবার (১০ অক্টোবর) রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হন এবং আহত হন ৩০৯ জন। সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশের দুই নাগরিকও ছিলেন। পরদিন রোববার একই বিমানবন্দরের যাত্রী টার্মিনালে আরেকটি হামলায় পাকিস্তানের এক নাগরিক নিহত হন এবং আহত হন ১১ জন।
পরপর হামলার জেরে বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের ১২ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ থাকার কথা রয়েছে। পরিস্থিতির কারণে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা সৌদি আরবগামী ফ্লাইট স্থগিত করেছে। দেশটির আকাশসীমা ব্যবহার নিয়েও সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
হুথিদের ধারাবাহিক হামলায় সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার ঘটনায় আঞ্চলিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও বাড়ছে। তবে সোমবারের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার পর নতুন করে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
মতামত দিন