এনসিপি থেকে পদত্যাগ করলেন সামান্তা শারমিন
কেন্দ্রীয় কমিটিতে দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের দুই সপ্তাহের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন। দীর্ঘ ওই পোস্টে পদত্যাগের কারণও তুলে ধরেন তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গণমাধ্যমকে সামান্তা শারমিন বলেন, ‘আমি মাত্রই পদত্যাগ করেছি। ফেসবুকে বিস্তারিত লিখেছি।’
পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে পোস্টের শুরুতেই জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে এনসিপির জোট গঠনের প্রসঙ্গ তোলেন তিনি। সামান্তা লেখেন, প্রায় এক বছর আগে জোট গঠনের প্রশ্নে তিনি আলাদা অবস্থান নিয়েছিলেন। তার মতে, জামায়াতে ইসলামী নীতিগত বা কৌশলগত—কোনো বিবেচনাতেই মিত্র হওয়ার যোগ্য নয়। দলটির সঙ্গে জোট করলে এনসিপিকে কঠিন মূল্য দিতে হবে বলেও তিনি সতর্ক করেছিলেন।
সামান্তা আরও লেখেন, গত ১১ মাসে এনসিপির অতীত কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ ও ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে সুযোগ পেলেই দলের বিভিন্ন পর্যায়ে লিখিত অভিযোগ ও প্রস্তাব দিয়েছেন। পাশাপাশি আলোচনা, বিতর্ক ও মতবিনিময় করেছেন। তাঁর ভাষায়, দল ভুল পথে গেলে তা থেকে ফেরানোর চেষ্টা করা তাঁর রাজনৈতিক কর্তব্য ছিল।
জামায়াতের সঙ্গে জোটের কারণে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেননি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
পদত্যাগের পোস্টে সামান্তা বলেন, দলের গৃহীত নীতির বিরুদ্ধে স্বীকৃত ফোরামগুলোতে যুক্তিসংগত উপায়ে মতাদর্শিক অবস্থান তুলে ধরেই এনসিপিকে ভুল পথ থেকে ফেরানোর চেষ্টা করেছিলেন। তবে প্রায় এক বছরের সেই প্রচেষ্টার ইতি টানছেন তিনি। তাঁর মতে, এনসিপির পক্ষে দলের প্রতিষ্ঠাকালীন মূল্যবোধের প্রতি আর আন্তরিক থাকা সম্ভব নয়।
নিজ দলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সামান্তা। তিনি লেখেন, এনসিপি বিভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক অবস্থান নিতে পারে, এমনকি জামায়াতের সঙ্গে জোট ত্যাগের সিদ্ধান্তও নিতে পারে। কিন্তু তাতেও দলটি পুরোনো রাজনৈতিক ধারার বাইরে নিজস্ব পরিচয়, চিন্তা ও কর্মসূচি গড়ে তুলতে পারবে কি না, তা নিয়ে তাঁর সংশয় রয়েছে।
সামান্তার ভাষায়, পুরোনো ব্যবস্থার রাজনৈতিক দল কখনোই রাষ্ট্রের নতুন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে না; বরং বাধা হয়ে দাঁড়াবে।
তিনি আরও লেখেন, পদত্যাগের জন্য হয়তো আরও উপযুক্ত সময়ের অপেক্ষা করতে পারতেন। কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত বা কর্মকাণ্ডের প্রতিক্রিয়ায় পদত্যাগ করলে বিষয়টি মূল্যায়ন করা সহজ হতো। তবে তার মতে, সেই অপেক্ষা অর্থহীন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সামনের সারির নেতাদের নিয়ে গঠিত এনসিপির প্রথম কেন্দ্রীয় কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন সামান্তা শারমিন। নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশের পরদিন, ২০২৫ সালের ২ মার্চ ২১৭ সদস্যের ওই কমিটি ঘোষণা করা হয়।
প্রতিষ্ঠার প্রায় পৌনে দুই বছর পর গত ২৩ অক্টোবর কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠন করে এনসিপি। নতুন কমিটিতে সামান্তা শারমিনকে যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর দুই সপ্তাহের মধ্যেই দল থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন তিনি।
মতামত দিন