সালমান শাহর দেহাবশেষ উত্তোলনের অনুমতি দিলেন আদালত
চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে তার দেহাবশেষ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি দিয়েছেন আদালত। ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা গত ২৪ মে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) এ অনুমতি দেন। একই সঙ্গে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে দেহাবশেষ উত্তোলন, সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত এবং ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বুধবার ডিএমপি প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক শাহ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ গত ২০ মে আদালতে এ আবেদন করেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, ঘটনার ২৯ বছর পর আদালতের নির্দেশে রমনা থানায় হত্যা মামলা রুজু হয়েছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে সালমান শাহর মরদেহ পুনরায় কবর থেকে উত্তোলন করে সুরতহাল প্রতিবেদন ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা এবং পোস্টমর্টেম রিপোর্ট পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। শুনানি শেষে আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করেন।
গত বছরের ২০ অক্টোবর সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় করা অপমৃত্যুর মামলাকে হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন আদালত। ওই নির্দেশের পর একই দিন রাতে সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তাঁর ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামীরা হক, অভিনেতা ডনসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়। অন্য আসামিরা হলেন সামীরা হকের মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু এবং রেজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদ।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের বাসা থেকে সালমান শাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে সময় তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী একটি অপমৃত্যুর মামলা করেন। পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন করা হয়। আদালতের নির্দেশে সিআইডি তদন্ত শুরু করে এবং একই বছরের ৩ নভেম্বর চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। ওই প্রতিবেদনে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। পরে ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালত প্রতিবেদনটি গ্রহণ করেন।
তবে ওই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে রিভিশন মামলা করেন কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। ২০০৩ সালের ১৯ মে আদালত মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে পাঠান। দীর্ঘ ১১ বছর পর ২০১৪ সালের ৩ আগস্ট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইমদাদুল হক আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। সেই প্রতিবেদনে সালমান শাহর মৃত্যুকে অপমৃত্যু হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরীর মৃত্যুর পর মামলার বাদী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন নীলা চৌধুরী। ২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি তিনি বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করেন। পরে মামলাটি তদন্ত করে পিবিআই। ২০২১ সালের ৩১ অক্টোবর আদালত পিবিআইয়ের প্রতিবেদন গ্রহণ করে মামলাটি নিষ্পত্তি করেন। এরপর ২০২২ সালের ১২ জুন ওই আদেশের বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে রিভিশন মামলা দায়ের করা হয়।

মতামত দিন