Views Bangladesh Logo

গ্রুপ-‘জি’

সালাহর গতিময় আক্রমণেই ভরসা মিসরের

আফ্রিকার শক্তিশালি দল মিসর আবারও বিশ্ব ফুটবলের মঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করতে প্রস্তুত। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ২৯তম অবস্থানে রয়েছে মিশর। দলটির অভিজ্ঞতা, গতি ও আক্রমণভাগের ধার তাদের সবসময়ই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তোলে। সংগঠিত দলীয় খেলা, শক্ত রক্ষণ এবং দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকের সমন্বয়ে মিসর একটি ভারসাম্যপূর্ণ দল হিসেবে গড়ে উঠেছে। অভিজ্ঞ ও তরুণ খেলোয়াড়দের মিশ্রণে তারা এবারও ভালো কিছু করার স্বপ্ন দেখছে।

বিশ্বকাপে অতীত রেকর্ড ও অংশগ্রহণ
মিসর আফ্রিকার অন্যতম পুরোনো ফুটবল শক্তি হলেও বিশ্বকাপে তাদের সাফল্য খুব বেশি নয়। ১৯৩৪ সালে প্রথমবার অংশ নেওয়ার পর দীর্ঘ বিরতির পর তারা আবার ১৯৯০ সালে বিশ্বকাপে খেলে। সর্বশেষ ২০১৮ বিশ্বকাপেও অংশ নেয় তারা। তবে এখনো পর্যন্ত তারা গ্রুপ পর্ব পেরোতে পারেনি। যদিও আফ্রিকা কাপ অব নেশনসে তাদের সাফল্য অনেক বেশি, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের অভিজ্ঞতা বাড়িয়েছে।

শক্তিমত্তা
মিসরের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের আক্রমণভাগ, বিশেষ করে উইং দিয়ে দ্রুত আক্রমণ গড়ে তোলার ক্ষমতা। কাউন্টার অ্যাটাকে তারা খুবই কার্যকর, যেখানে গতি ও দক্ষতার মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে। মাঝমাঠে বল কন্ট্রোল ও দ্রুত পাসিংয়ের মাধ্যমে খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে তারা। রক্ষণভাগও তুলনামূলকভাবে সংগঠিত, যা কঠিন ম্যাচে দলকে স্থিতিশীলতা দেয়। দলগত সমন্বয় ও শৃঙ্খলা তাদের অন্যতম বড় সম্পদ।

দুর্বলতা
তবে মিসরের কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। বড় দলের বিপক্ষে তারা অনেক সময় বল দখলে পিছিয়ে পড়ে, ফলে আক্রমণ গড়ে তোলার সুযোগ কমে যায়। আক্রমণে নির্ভরতা অনেকটা নির্দিষ্ট কয়েকজন খেলোয়াড়ের ওপর, যা প্রতিপক্ষের জন্য কৌশল নির্ধারণ সহজ করে দেয়। এছাড়া ডিফেন্সে মাঝে মাঝে ভুলের কারণে গোল হজম করতে হয়। চাপের ম্যাচে ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে না পারাও তাদের একটি বড় সমস্যা।

গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়
বর্তমান মিশর দলে বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় রয়েছেন। ইংল্যান্ডের ক্লাব লিভারপুলের খেলোয়ার মোহাম্মদ সালাহ আক্রমণে দলের প্রধান ভরসা তার গতি, ড্রিবলিং ও গোল করার দক্ষতা মিসরের সবচেয়ে বড় শক্তি। ইংল্যান্ডের ক্লাব আর্সেনালের হয়ে খেলা মোহামেদ এলনেনি মিশরের মাঝমাঠে খেলার ভারসাম্য রক্ষা করেন। ডিফেন্সে আহমেদ হেগাজি অভিজ্ঞতার মাধ্যমে রক্ষণভাগকে নেতৃত্ব দেন। গোলপোস্টে মোহামেদ এল শেনাওয়ি দলের নির্ভরযোগ্য ভরসা। এছাড়া তরুণ খেলোয়াড় ওমর মারমুশ আক্রমণে গতি ও সৃজনশীলতা এনে দেন।

গ্রুপ প্রতিপক্ষ
গ্রুপ জি-তে মিসরের প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম, ইরান ও নিউজিল্যান্ড। প্রতিটি ম্যাচই হবে কঠিন ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। বেলজিয়ামের মতো শক্তিশালী ইউরোপীয় দলের বিপক্ষে রক্ষণভাগকে খুবই সংগঠিত রাখতে হবে এবং সুযোগ পেলেই দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকে উঠতে হবে। ইরানের বিপক্ষে ম্যাচটি হতে পারে কৌশলগত লড়াই, যেখানে ইরানের শক্তিশালি মাঝমাঠের খেলোয়াড়দের মোকাবেলা করতে হবে। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শারীরিক ফুটবল ও সেট-পিস মোকাবিলা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই নকআউট পর্বে উঠতে হলে মিসরকে প্রতিটি ম্যাচেই পরিকল্পিত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবল খেলতে হবে।

এবারের বিশ্বকাপে সম্ভাবনা
মিসরকে এবারও আন্ডারডগ হিসেবে দেখা হলেও তাদের চমক দেখানোর সামর্থ্য রয়েছে। বিশেষ করে মোহাম্মদ সালাহর নেতৃত্বে আক্রমণভাগ যদি ছন্দে থাকে, তাহলে বড় দলগুলোর বিপক্ষেও তারা লড়াই করতে পারবে। রক্ষণভাগের দৃঢ়তা ও দলগত সমন্বয় ঠিক রাখতে পারলে মিসরের নকআউট পর্বে ওঠার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ