জাতীয় দলকে বিদায় জানালেন সাদিও মানে
আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন সেনেগালের অধিনায়ক সাদিও মানে। ২০২৬ বিশ্বকাপের রাউন্ড ৩২-এ বেলজিয়ামের কাছে ৩-২ গোলে হেরে সেনেগালের বিদায়ের কয়েকদিন পর শুক্রবার (১০ জুলাই) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জাতীয় দলের অধ্যায় শেষের ঘোষণা দিলেন ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা ফরোয়ার্ড। সেনেগালের সংবাদমাধ্যম ল্য কোতিদিয়েঁ-তে প্রকাশিত হয় বিবৃতিটি।
এর মধ্য দিয়ে শেষ হলো ১৪ বছরের বর্ণাঢ্য এক আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার। ২০১২ সালে অভিষেকের পর সেনেগালের জার্সিতে ১৩০ ম্যাচ খেলে ৫৪ গোল করেছেন মানে। দেশটির ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবেই বিদায় নিচ্ছেন তিনি।
বিবৃতিতে সেনেগালের জনগণের উদ্দেশে মানে বলেছেন, ‘জেনে রাখুন, এই পতাকার জন্য আমি সবকিছু উৎসর্গ করেছি। নিজের সেরাটা দিয়েছি এবং সবসময় মাতৃভূমির জন্য প্রাণপণ লড়েছি।’ দীর্ঘ ক্যারিয়ারে কোনো হতাশা উপহার দিয়ে থাকলে সেজন্য দেশবাসীর কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন তিনি, ধন্যবাদ জানিয়েছেন জাতীয় দলে তার পথচলার সঙ্গী সবাইকে।
তবে সেনেগাল ফুটবলের সঙ্গে সম্পর্ক এখানেই শেষ করছেন না ‘তেরাঙ্গার সিংহদের’ এই কিংবদন্তি। কোচিং স্টাফ, ডাগআউট কিংবা ফুটবলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে থেকে দেশের জন্য কাজ করার ইচ্ছার কথা জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘আগামীকাল আনন্দের সঙ্গেই আমার অভিজ্ঞতা জাতির সেবায় কাজে লাগাব।’
মানের এই ঘোষণা অবশ্য অপ্রত্যাশিত নয়। গত জানুয়ারিতে মরক্কোয় অনুষ্ঠিত আফ্রিকান নেশনস কাপের (আফকন) ফাইনালে স্বাগতিকদের ১-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জয়ের পরই তিনি জানিয়ে দিয়েছিলেন, সেটিই তার শেষ আফকন এবং বিশ্বকাপের পর আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানাবেন। টুর্নামেন্ট-সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জেতা মানের ওই ঘোষণা তখন মানতে চাননি সেনেগালের কোচ পাপ থিয়াও। তিনি প্রকাশ্যে বলেছিলেন, সিদ্ধান্তটা শুধু মানের একার নয়—তিনি সেনেগালের জনগণের, আর দেশ চায় তিনি খেলা চালিয়ে যান। কোচ, সতীর্থ ও ভক্তদের সেই আকুতি সত্ত্বেও নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকলেন বাম্বালি গ্রাম থেকে উঠে আসা এই মহাতারকা।
সেনেগালের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে সফল অধ্যায়ের নায়ক মানে। দেশটির ইতিহাসের দুটি আফকন শিরোপার দুটিতেই ছিল তার অগ্রণী ভূমিকা—২০২১ আসরে (২০২২ সালে ক্যামেরুনে অনুষ্ঠিত) ফাইনালে মিসরের বিপক্ষে টাইব্রেকারে জয়সূচক শটটি নিয়েছিলেন তিনিই, আর সবশেষ ২০২৫ আসরে অধিনায়ক হিসেবে দলকে এনে দেন দ্বিতীয় মহাদেশীয় মুকুট। খেলেছেন ২০১৮, ২০২২ ও ২০২৬—তিনটি বিশ্বকাপে।
ক্লাব ফুটবল অবশ্য চালিয়ে যাচ্ছেন মানে। মেৎস থেকে উত্থান, এরপর সাউদাম্পটন হয়ে লিভারপুলে বিশ্বজয়—অ্যানফিল্ডে চ্যাম্পিয়নস লিগ ও প্রিমিয়ার লিগ জেতা এই ফরোয়ার্ড বায়ার্ন মিউনিখ ঘুরে বর্তমানে খেলছেন সৌদি আরবের ক্লাব আল-নাসরে।
মতামত দিন